জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রীতিমত রণপ্রস্তুতি নিয়ে এবার চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের অভয়ারণ্য খ্যাত সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত চার হাজার সদস্য সোমবার ভোর থেকে এ অভিযান শুরু করে। অভিযানের প্রথম দিনে ১৫জনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইডি আহসান হাবিব পলাশ।

চট্টগ্রাম নগরীর উপকণ্ঠে সীতাকুন্ড উপজেলায় অবস্থিত এই জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে রয়েছে নানা গল্প। প্রশাসনের তথ্য মতে, একাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের নিরাপদ আস্তানা রয়েছে সেখানে। রয়েছে তাঁদের বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। এর আগে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের লোকজন সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধের মুখে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। কিছুদিন আগে সেখানে অভিযান চালাতে যাওয়া একজন র‌্যাব কর্মকর্তাকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে একাধিক গণমাধ্যমকর্মীও। তবে এবারের অভিযানে কঠিন কোন বাঁধার মুখে পড়তে হয়নি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।

র‌্যাব ও পুলিশ সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সোমবার ভোর থেকে ভারি অস্ত্রশস্ত্র ও বিপুল ফোর্স নিয়ে যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হয় জঙ্গল সলিমপুরে। বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে দিনভর চালানো হয় সাঁড়াশি অভিযান। কিন্তু যাদের হাতে সেখানকার রাজত্ব তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি অভিযানে। উদ্ধার হয়নি উল্লেখযোগ্য অস্ত্রশস্ত্র। অভিযান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইডি আহসান হাবিব পলাশসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অভিযান চলাকালে সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ গণমাধ্যমকে জানান, আমাদের অভিযান চলমান। অভিযানে র‌্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও এপিবিএনের ৩ হাজার ২০০ সদস্য অংশ নেন। আমরা এখানে সোমবার ভোর  থেকে কাজ করছি। আমাদের মূল  ফোকাস ছিল এই বিশাল অংশে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং আমরা সেটি করতে  পেরেছি। সোমবার  থেকে পুলিশ ও র‌্যাবের দুটি ক্যাম্প জঙ্গল সলিমপুরে কাজ করবে জানিয়ে ডিআইজি বলেন, ক্যাম্পের নিরাপত্তাবিধানে যদি এখানে কামান দিতে হয় আমরা তাও দেবো।

Exit mobile version