নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে। দলের মহানগর কার্যালয় নাসিমন ভবনে বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ। বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে দিনভর সেখানে ভিড় করেছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীসহ সর্বসাধারণের মঙ্গলবার দিনটি শুরু হয়েছে। দলের চেয়ারপার্সনের এই মৃত্যুর খবরে শোকে মুষড়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলের নেতাকর্মীরা ছুটে আসতে থাকে নগর বিএনপির কার্যালয় নুর আহমদ সড়কস্থ নাসিমন ভবনে। এসময় তাঁদের অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। একে এক সেখানে উপস্থিত হন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, কাজী বেলালসহ বিএনপি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে পুরো নাসিমন ভবন চত্বর জুড়ে নেতাকর্মীর ভিড় জমে যায়।
কেন্দ্র ঘোষিত শোক কর্মসূচীর অংশ হিসেবে নেতাকর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারন করেন। দলীয় কার্যালয় চত্বরে বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সেখানে উপস্থিত চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আমাদের কাছে কেবল নেত্রী ছিলেন না তিনি ছিলেন আমাদের মায়ের মতো। এই দেশ মাতৃকাকে ভালবেসে সারা জীবন তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। স্বৈরাচারের অমানুষিক নির্যাতন-নিপীড়নের মুখেও তিনি কোন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। তার মৃত্যুতে কেবল বিএনপি নেতাকর্মীরা নন সারাদেশের মানুষ অভিভাবকহীন হয়েছে। তার এই শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না। তিনি বলেন, চেয়ারপার্সনের মৃত্যুতে ইতোমধ্যে দলের পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরের পক্ষ থেকেও কর্মসূচি পালন করা হবে। আমরা খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল করেছি। আগামীকাল নাসিমন ভবনস্থ কার্যালয়ে শোক বই খোলা হবে বলেও জানান তিনি।
শোক : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ঠ ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আজীবন দেশের মানুষের ভোটের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন দেশ ও জাতির জন্য নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন মহান অভিভাবক ও অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ককে হারাল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে শোক জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. মনজুর আলম। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় মো. মনজুর আলম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া একজন আপোষহীন দৃঢ়চেতা নেত্রী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন দেশপ্রেমিক, মানবতা প্রেমিক নেত্রীকে হারালো। যা কোনো দিন পূরণ হবার নয়। শোকবার্তায় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজে। সংগঠনের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ এক বিবৃতিতে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব। রাষ্ট্র পরিচালনা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বহুদলীয় রাজনীতির বিকাশে তাঁর অবদান ইতিহাসে অসামান্য।
চট্টগ্রাম মেট্রেপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এক বিবৃতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, বহু উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াই, সংসদীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।