সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ ১৫ দফা দাবি জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনসহ পনের দফা দাবি জানিয়েছে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ। শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নগরীর রহমতগঞ্জস্থ পরিষদের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর.কে দাশ রুপু এসব দাবি উত্থাপন করেন।
অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সংবিধানের আলোকে সকল ধর্মের মানুষের মতো হিন্দুদের নিরাপত্তা প্রদান,, বৈষম্যমূলক সকল আইন বিলুপ্ত করা, সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন স্তরে হিন্দুদের অধিকার নিশ্চিত এবং তাদেরকে পদায়নে বৈষম্য বন্ধ করা, পার্বত্য ভূমি কমিশনে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন ও দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা করা, বিশেষ বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সকল সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও হত্যার বিচার করা, ধর্মীয় সভার নামে হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনাকারীদের আইনের আওতায় আনা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সাইবার আইনের মাধ্যমে যেসব হিন্দুদের বিরূদ্ধে দেওয়া মামলা প্রত্যাহার, শারদীয় দুর্গোৎসবে তিনদিনের সরকারি ছুটি বাস্তবায়ন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে হিন্দু ফাউন্ডেশনে রূপান্তর, সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, মন্দির ও প্রতিষ্ঠান সরকারি অর্থায়নে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নির্মাণ করা, সংসদে হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর জন্য সংখ্যানুপাতিক আসন সংরক্ষণ, দেশের প্রতিটি জেলায় ৬৪টি মডেল মন্দির নির্মাণ এবং ধারাবাহিকতায় প্রতিটি উপজেলায় এর ব্যাপ্তি এবং সংবিধান সংশোধন কমিটি যেন সনাতনী স্টেকহোল্ডারদের সাথে কথা বলে সংবিধান সংশোধন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে নগরীর ঐতিহ্যবাহী জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়েছে। ৪ আগস্ট সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রা আন্দরকিল্লা চত্বর থেকে বের করা হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। মহাশোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান ও সিএমপি পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। শোভাযাত্রাটি আন্দরকিল্লা থেকে শুরু হয়ে টেরিবাজার, লালদীঘি, কোতোয়ালী, নিউমার্কেট, তিনপোল, বোস ব্রাদার্স, ডিসি হিল, চেরাগী পাহাড় হয়ে জেএম সেন হলে এসে শেষ হবে। দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত হবে মাতৃসম্মেলন। এতে উদ্বোধক থাকবেন শ্রীশ্রী বৈকুণ্ঠ ধামের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী স্বরূপানন্দ শাস্ত্রী মহারাজ। প্রধান অতিথ থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. অদিতি দত্ত। এদিন বিকাল ৫টায় সনাতন ধর্মমহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি লায়ন তপন কান্তি দাশ, সহ-সভাপতি প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, সহ-সভাপতি চন্দন দাশ, সহ-সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, সহ-সভাপতি বিদ্যালাল শীল, মহাশোভাযাত্রা উপ-পরিষদের আহবায়ক বাবুল ঘোষ বাবুন, পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী সুভাষ গুহ, অর্থ সম্পাদক রতন আচার্য্য, প্রচার সম্পাদক এস প্রকাশ পাল, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস, উত্তর জেলর সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চক্রবর্তী, মহিলা সম্পাদিকা দীপ্তি দাশ ও রাসেল চৌধুরী প্রমুখ।
