নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নানা দুর্যোগ, সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ে আজীবন দেশের মানুষের পাশে থাকা প্রয়াত মানবিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী হয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
রোববার (৪ জানুয়ারী) দুপুরে কাজীর দেউড়ি ভিআইপি ব্যাংকুয়েটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম, অসহায় এতিম ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মেয়র এতিম ও দুস্থদের সঙ্গে মেজবানে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি নিজ হাতে তাদের আপ্যায়ন করেন, সবার সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রয়োজন ও কষ্টের কথা শোনেন এবং সবসময় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন চসিকের মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুনুর রশীদ চৌধুরী।
মেয়র বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ এক আপসহীন নেত্রী। ব্যক্তিজীবন ও রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি মানুষের দুঃখ কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে দেখেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সামাজিক সংকট কিংবা রাষ্ট্রীয় যে কোনো দুর্বিপাকে তিনি দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মানবিকতা, সহমর্মিতা ও গণতন্ত্রের প্রতি অটল আস্থা।
তিনি আরও বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই চলতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
মেয়র বলেন, ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে বর্বর হামলায় চিকিৎসকসহ তিনজন নিহত এবং বহু ছাত্র আহত হলে বেগম খালেদা জিয়া তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রামে ছুটে আসেন। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান, নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। ১৯৯৭ সালের হামজারবাগ ভূমিকম্পের পরও তিনি চট্টগ্রাম সফর করেন। সে সময় মেডিকেলে প্রবেশের পথে তাঁর গাড়িবহরে বোমা হামলা, এমনকি তাঁকে লিফটে আটকে রাখার ঘটনা ঘটলেও তিনি তিন থেকে চার ঘণ্টা হাসপাতালে অবস্থান করে রোগীদের খোঁজখবর নেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু প্রমুখ।