Home Blog Page 24

করোনাকালেও এগিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর

0
করোনাকালেও এগিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর

কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সিঙ্গাপুর, কলম্বোসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোয় কাজের গতি শ্লথ হয়ে পড়লেও এগিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম। অপারেশনাল কার্যক্রম চলছে পুরোদমে। করোনার মধ্যেও চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে বেড়েছে কন্টেইনার, কার্গো ও শিপ হ্যান্ডলিং। পাশাপাশি এই সাত মাস চট্টগ্রাম বন্দরের সমুদ্রসীমাও ছিল পুরোপুরি দস্যুতামুক্ত।বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, মূলত কন্টেইনার হ্যান্ডলিং, কার্গো হ্যান্ডলিং ও শিপ হ্যান্ডলিং এ তিন ক্ষেত্রের পারফরমেন্স নিয়েই বন্দরের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। তিনটি ক্ষেত্রেই গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশ ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে।বন্দরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশ। ২০২০ সালের একই সময় কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয় ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ১২৩ টিইইউস। আর চলতি বছর কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২৮৫ টিইইউস। ২০২০ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬৭৭ টন। আর ২০২১ সালের প্রথম ৭ মাসে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৫৩ টন। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ শতাংশ। ২০২১ সালের একই সময় হ্যান্ডলিং হয়েছে ২ হাজার ৪৬৮টি।

২০২০ সালে ২ হাজার ৯৪টি। এক্ষেত্রে চলতি বছর প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে পৃথিবীর অধিকাংশ বন্দরে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। লকডাউনের আওতায় পড়ে অনেক বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এ কঠিন পরিস্থিতিতেও চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম একদিনের জন্য বন্ধ ছিল না। করোনার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে বন্দরের অনেকেই আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। কভিড পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানা খোলা রাখার ব্যাপারে সরকারের চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্তের কারণে আমদানি-রপ্তানি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সচল ছিল। এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সহযোগিতায় আমরা বন্দর চালু রাখতে পেরেছি।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের পারফরম্যান্স শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, ইউরোপ আমেরিকার অনেক বন্দরের চেয়ে ভালো, মন্তব্য বন্দর চেয়ারম্যানের। বলেন, এখন চট্টগ্রামে জাহাজজট নেই। কনটেইনার ও স্থান সংকট নেই। আমাদের ‘বার্থিং ডিলে’ ৩ থেকে ৪ দিন। কিন্তু চীনের বন্দরগুলোর বার্থিং ডিলে দশদিন। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বন্দরে তা ২০ দিন পর্যন্ত পৌঁছেছে।

চলতি বছর বন্দরে প্রচুর চাল হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। গত তিন বছরে সেখানে চাল হ্যান্ডলিং হয়নি। বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম দেশ রূপান্তরকে জানান, সরকারি নীতি সমর্থন করে বাজারে  দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার উদ্দেশ্যে এ বছর বন্দরের ৪ জেটিতে চাল হ্যান্ডলিং করেছি। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ৫০ জাহাজ থেকে চার লাখ ৬৮ হাজার টন চাল হ্যান্ডলিং হয়েছে। চালের জাহাজগুলো হ্যান্ডলিং করতে না হলে আমরা অন্য ৫০টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করতে পারতাম।

এদিকে সমুদ্রপথে দস্যুতা পর্যবেক্ষণকারী একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছর চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পাইরেসির রেকর্ড নেই। আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্য রিজিওনাল কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট অন কমব্যাটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রবারি এগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়ার (রিক্যাপ) অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর বাংলাদেশের জলসীমা ছিল দস্যুতাশূন্য। ২০২০ সালের এই সময়ে এদেশের জলসীমায় ৩টি পাইরেসির ঘটনা উল্লেখ করেছিল রিক্যাপ।

চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা দস্যুতামুক্ত রাখার কৃতিত্ব কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনীর, মন্তব্য করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বন্দরে ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (ভিটিএমইএস) এরিয়া বাড়িয়েছি। আমাদের জলসীমার কোথাও অসংগতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কোস্টগার্ডকে জানানো হয়। তারাও সবসময় তৎপর থাকে। এছাড়া নৌবাহিনীও সমুদ্রসীমায় কাজ করছে। ফলে দস্যুতামুক্ত বন্দরের তকমা পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।

-দেশ রূপান্তর

শোকাবহ আগস্ট শুরু

শোকাবহ আগস্ট শুরু

নিউজ মেট্রো ডেস্ক  :

শুরু হল বাঙালি জাতির শোকের মাস আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
আগস্টের কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন।
সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানীর নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যেকোন জঘন্য কাজ করতে পারে।
ভারত বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও  বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ শ্রী চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।
‘দ্য টাইমস অব লন্ডন’ এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ, তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই।
একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকান্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’
শোকাবহ আগস্টে সমগ্র জাতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভাবগম্ভীর আর বেদনাবিধূঁর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করবে।
তবে, এবার জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি সীমিত পরিসরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে  আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
ওবায়দুল কাদের জানান, বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে শোকাবহ, মর্মান্তিক হত্যার স্মৃতিবিজড়িত আগস্ট মাস আমাদের দুয়ারে সমাগত। প্রতিবছর আগস্ট মাসে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে  ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হয় কিন্তু এবারও করোনার ভয়াবহতায় লকডাউনের কারণে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে আগস্টের কর্মসূচি সীমিত পরিসরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাসব্যাপী আগস্টের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে: ৫ আগস্ট শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮ টায় আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন। ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল ৯ টায় বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ৯ টা ১৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন।
সকাল ১১ টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের শ্রদ্ধা নিবেদন। এদিন জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও ১৬ আগস্ট বিকেল ৩ টা ৩০ মিনিটে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরের দিন ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিতহবে আলোচনা সভা।
নারকীয় গ্রেনেড হামলা দিবস ২১ আগস্ট উপলক্ষে সকাল ৯ টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন। বিকেল ৩ টা ৩০ মিনিটে ঘরোয়া ভাবে আলোচনা সভা।

চসিকের মশা নিধন অভিযান শীঘ্রই

চসিকের মশা নিধন অভিযান শীঘ্রই

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী করোনা মোকাবেলার পাশাপাশি মশা নিধনে অচিরেই ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এখনো অপেক্ষা করছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদের প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য। প্রতিবেদন পেলেই মশা নিধনে অভিযান শুরু হবে। নগরীর যেকোন জায়গা থেকে অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শনিবার নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ পুরাতন নগর ভবন চত্বর, কাজির দেউড়ী ভিআইপি টাওয়ার হল ও মুনসুরাবাদস্থ কর্ণফুলী কমিউনিটি সেন্টারে পৃথক তিনটি অনুষ্ঠানে মেয়র এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানসমূহে মেয়র চট্টগ্রাম বাবুর্চি সমিতি, ভিআইপি টাওয়ার কর্মচারী ও উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে করোনাকালে কর্মচ্যুতদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী’র দেয়া ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

মেয়র বলেন, করোনার উর্ধ্বগতির কারণে মানুষের জীবন জীবিকা এখন সংকটাপন্ন। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব অসহায়দের মাঝে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি টিকা কার্যক্রমকে ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। যাতে করে দেশের মানুষ কোনভাবে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সেবার সংকটে বিপদাপন্ন না হয়।

তিনি মহামারি ও ডেঙ্গুর প্রার্দুভাব থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক পরিধানের পাশাপাশি নিজের বাড়ির আশপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। মেয়র বলেন, আমাদের নাগরিক সচেতনতাই পারে এ দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে।

পৃথক পৃথক এসব অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন-বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মাহমুদুল হক, প্যানেল মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন, উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জাকারিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ইব্রাহিম, কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, সংরক্ষিত কাউন্সিলর রূমকী সেন গুপ্ত, জাহেদা বেগম পপি, চট্টগ্রাম ডেকোরেটার্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল আলম চৌধুরী মিল্টন, ভিআইপি টাওয়ার দোকান কর্মচারী সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন প্রমূখ।

১ আগস্ট থেকে খুলছে শিল্প কারখানা

১ আগস্ট থেকে খুলছে শিল্প কারখানা

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই আগামী রবিবার থেকে রপ্তানিমুখী সব শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পোশাক শিল্পসহ সব ধরনের কারখানা খুলে দিতে অনুরোধ করে আসছিলেন শিল্পমালিকরা। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে এক বৈঠকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ, ঢাকা চেম্বার ও এফবিসিসিআইয়ের নেতারা কারখানা খুলে দিতে অনুরোধ করেন।

বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান সাংবাদিকদের বলেন, চলমান লকডাউন থেকে সব ধরনের শিল্পকে বাদ দিয়ে কাজ করার সুযোগ চেয়ে অনুরোধ করতে এসেছিলাম।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মাধ্যমে এই অনুরোধটা আমরা করেছি। তিনি বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। কথা বলে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্তটা দেবেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি, সংক্রমণ, মৃত্যু সবকিছু মাথায় নিয়ে সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার এটা বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি। পোশাক শিল্প শুধু না, সমস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান পক্ষে আমরা এসেছি। সমস্ত শিল্পের সঙ্গে অনেক কিছু ইনভলভড। সে কারণে আমরা এটা আবারও অনুরোধ করেছি। যেন এটাকে লকডাউনের বাইরে রাখা হয়, যেন বিষয়টা বিবেচনা করা হয়।

নিয়মনীতিহীন আইপি টিভি’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে : তথ্যমন্ত্রী

নিয়মনীতিহীন আইপি টিভি’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে : তথ্যমন্ত্রী

নিয়মনীতিহীন আইপি টিভি’র বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহ্‌মুদ। আজ মন্ত্রী ঢাকায় তার সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু আইপি টিভি অনেক সময় গুজব রটানোতে যুক্ত হয়, অসত্য তথ্য পরিবেশন ও ভাঁড়ামোতে লিপ্ত হয়। আবার দেখা যায় অনুমোদন পাবার আগেই কেউ কেউ টেলিভিশন চ্যানেলের মতো অফিস খুলে বসেছে, জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে। এ সকল বিষয়কে একটা নিয়মনীতির মধ্যে আনা প্রয়োজন।’

দেশব্যাপী ব্যাঙের ছাতার মতো আইপি টিভি খুলে যার যেমন ইচ্ছে তেমন করবে সেটা কখনো আইনসম্মত বা বাঞ্ছনীয় নয় উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ভালো মানের আইপি টিভি অনুমোদন পাবে এবং যেগুলোর বিষয়ে নানা অভিযোগ আছে, সেগুলো খতিয়ে দেখে সহসাই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয় আইপি টিভিগুলোর কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করেছিল। প্রায় পাঁচশতাধিক দরখাস্ত জমা পড়েছে এবং সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজও আমরা গুছিয়ে এনেছি। যেগুলোর মান ভালো, সেগুলোকে রেজিস্ট্রেশন দেয়া হবে।

এসময় জয়যাত্রা নামের আইপি টিভি পরিচালনাকারী হেলেনা জাহাঙ্গীর সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ফাঁকফোকর দিয়ে দলের উপকমিটিতে এধরনের কারো ঢোকা সমীচীন হয়নি, এদের কমিটিতে রাখার বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল। যারা সুপারিশ করেছেন, তাদেরও আরো জানাশোনার দরকার ছিল। তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং তার আইপি টিভির বিষয়ে অভিযোগগুলো আমরা খতিয়ে দেখবো, সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তথ্যমন্ত্রী এরপর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস এবং বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজারের সাথে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের নানাদিক নিয়ে আলোচনা করেন।

-তথ্য বিবরণী

প্রাথমিকে ছুটি বাড়ল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত

0
প্রাথমিকে ছুটি বাড়ল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত

নিউজ মেট্রো ডেস্ক :

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য আগামী ৩১ আগস্ট ২০২১ পর্যন্ত সকল ধরনের সরকারি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের চলমান ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এসময় নিজেদের ও অন্যদের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীগণ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করবে। পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞতিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্থঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক সময়ে সময়ে জারীকৃত নির্দেশনা ও অনুশাসনসমূহ শিক্ষার্থীদের মেনে চলতে হবে। শিক্ষার্থীদের বাসস্থানে অবস্থানের বিষয়টি অভিভাবকবৃন্দ নিশ্চিত করবেন এবং স্থানীয় প্রশাসন তা নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ করবেন। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ তাঁদের শিক্ষার্থীরা যাতে বাসস্থানে অবস্থান করে, নিজ নিজ পাঠ্যবই অধ্যয়ন করে সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের মাধ্যমে নিশ্চিত করবেন।

পর্যটকদের জন্য ১আগস্ট থেকে খুলছে সৌদীর দুয়ার

পর্যটকদের জন্য ১আগস্ট থেকে খুলছে সৌদীর দুয়ার

নিউজ মেট্রো ডেস্ক :

প্রায় ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর ১আগস্ট থেকে পর্যটকদের জন্য খুলতে যাচ্ছে সৌদী আরবের দরজা। তবে এক্ষেত্রে পর্যটকদের অবশ্যই দুই ডোজ কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণের সনদ থাকতে হবে। সৌদী পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

সৌদী গেজেট জানায়, পর্যটন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ১ অগাস্ট থেকে বিদেশি পর্যটকরা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে সেখানে যেতে পারবেন। তবে পর্যটকদের মডার্না, ফাইজার, অ্যাস্ট্রাজেনেকা বা জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার ডোজ শেষ করতে হবে। সৌদিতে গেলে তাদের আর কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে না। তাদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে করা করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট সঙ্গে থাকতে হবে। আর সিনোফার্ম ও সিনোভিক এর টিকা গ্রহণকারীদের জন্য উপরোল্লেখিত চার কোম্পানীর যে কোন একটির অতিরিক্ত এক ডোজ টিকা গ্রহণ করতে হবে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২০ এর মার্চের পর থেকে সৌদির দরজা বন্ধ হয়ে যায় পর্যটকদের জন্য। এমন কী হজ্ব ও উমরাহের জন্যও বিদেশিদের সৌদী আরবে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এখন কেবল টিকা নেয়া সৌদি বাসিন্দারাই উমরাহ করতে পারেন।

 

৫ আগস্টের পরও লকডাউন বহাল রাখার সুপারিশ

৫ আগস্টের পরও লকডাউন বহাল রাখার সুপারিশ

নিউজ মেট্রো প্রতিনিধি :

করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতি ঠেকাতে ৫ আগস্টের পরও লকডাউন বহাল রাখার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা এ বি এম খুরশীদ আলম শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমকে একথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আরও আগেই এই চলমান লকডাউন বাড়ানোর সুপারিশ সরকারের কাছে করেছি।  যদিও এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি সরকার।’

মহাপরিচালক বলেন, যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, আমরা কীভাবে এই সংক্রমণ সামাল দেব? হাসপাতালে বেড ফাঁকা নেই। রোগীদের কোথায় জায়গা দেবো? সংক্রমণ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি কঠিন হবে।  অবস্থা খুবই খারাপ হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এসব বিবেচনায় আমরা বিধিনিষেধ বাড়ানোর সুপারিশ করেছি।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় গত ২৩ জুলাই থেকে দেশজুড়ে লকডাউন চলছে। সরকারি বিধি নিষেধের কারণে শিল্প কারখানা ও অফিস আদালত বন্ধ রয়েছে। কিন্তু তাতেও করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমানো যাচ্ছেনা। বরং দিন দিন তা বাড়ছে। আগামী ৫ আগস্ট লকডাউন শেষ হবার কথা রয়েছে।

সারাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং মৃত্যু ঠেকাতে ২৩ জুলাই থেকে সরকার দেশজুড়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।  বিধিনিষেধ চলবে ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত। কিন্তু সংক্রমণ এবং মৃত্যুহার না কমে বরং দিন দিন বাড়ার কারণে ৫ আগস্টের পরও লকডাউন বহালের সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ঈদ যাত্রা : ২৪০ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৭৩

0
ঈদ যাত্রা : ২৪০ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৭৩
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যান সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
গত ঈদুল আযহায় যাতায়াতে সারাদেশে ১৫দিনে ২৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত ও ৪৪৭ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সমিতির পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তন হলে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লকডাউনের কারণে মানুষের যাতায়াত সীমিত হলেও স্বল্পসময়ের জন্য গণপরিবহন চালু করায় সড়কে গণপরিবহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগতযান বিশেষ করে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা-ব্যাটারীচালিত রিক্সা, ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যানে একসাথে গাদাগাদি করে যাতায়াতের কারণে বিগত ৬ বছরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহাণি দুটোই বেড়েছে। ঈদযাত্রা শুরুর দিন গত ১৪ জুলাই থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ জুলাই পর্যন্ত বিগত ১৫ দিনে ২৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত ৪৪৭ জন আহত হয়েছে। উল্লেখিত সময়ে রেলপথে ০৯ টি ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ০৫ জন আহত হয়েছে। নৌ-পথে ১৩ টি দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত এবং ২১ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা মিলেছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে যৌথভাবে ২৬২টি দুর্ঘটনায় ২৯৫ জন নিহত ও ৪৮৮ জন আহত হয়েছে। তবে ২৩ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ার পর ২৫ জুলাই থেকে সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহাণি কমতে থাকে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ৮৭ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৯৩ জন নিহত, ৫৯ জন আহত হয়েছে। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.২৫ শতাংশ, নিহতের ৩৪.০৬ শতাংশ এবং আহতের ১৩.১৯ শতাংশ প্রায়।
এই সময় সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ১০৬ জন চালক, ১৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬৪ জন পথচারী, ৩৮ জন নারী, ৩১ জন শিশু, ১২ জন শিক্ষার্থী, ০৩ জন সাংবাদিক, ০৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১২ জন শিক্ষক, ০৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং ০১ জন প্রকৌশলীর পরিচয় মিলেছে।
এর মধ্যে নিহত হয়েছে ০২ জন পুলিশ সদস্য, ০১ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, ০১ জন বিজিবি, ২৭ জন নারী, ১৭ জন শিশু , ০৯ জন শিক্ষার্থী, ০৯ জন শিক্ষক, ৮৭ জন চালক, ১৬ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৩ জন পথচারী, ০৩ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক দৈনিক ও অনলাইন দৈনিক এ প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করে।
সংগঠিত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ২৮.৪৮ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৮.৭৮ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-লরি, ৭.৪১ শতাংশ কার-মাইক্রো-জিপ, ৮.৬০ শতাংশ নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর-লেগুনা-মাহিন্দ্রা, ১০.৩৮ শতাংশ অটোরিক্সা, ৭.৭১ শতাংশ ব্যাটারী রিক্সা-ইজিবাইক-ভ্যান-সাইকেল, ও ৮.৬০ শতাংশ বাস এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।
সংগঠিত দুর্ঘটনার ২৫.৮৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৪৪.২৫ শতাংশ পথচারীকে গাড়ী চাপা দেয়ার ঘটনা, ১৮.৩৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায়, ৭.৯১ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারনে ও ০.৮৩ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁছিয়ে এবং ০.৮৩ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।
 মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩৩.৩৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৩.৩৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১৮.৩৩ শতাংশ ফিডার রোডে এবং ০.৮৩ শতাংশ রেল ক্রসিং এ সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.৩৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৮৩ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে সংঘটিত হয়।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিগত ঈদগুলোতে সরকারের নানা মহলের তৎপরতা থাকায় দুর্ঘটনার লাঘাম কিছুটা টেনে ধরা সক্ষম হলেও কঠোর লকডাউনের কারনে মানুষের যাতায়াত সীমিত থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী না থাকায় এবারের ঈদযাত্রায় সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। সরকার সড়কের অবকাঠামোর উন্নয়নে যতটা মনযোগী সড়ক নিরাপত্তায় ততটা উদাসীন। বিগত একযুগে ধারাবাহিকভাবে সড়ক নিরাপত্তায় নানা প্রতিশ্রুতি, নানা চমকপ্রদ বক্তব্য, নানা আশ^াস, নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনকিছুই যেন বাস্তবায়নে আলোর মুখ দেখে না। এরই মধ্যে বাস্তবায়নের আগেই সড়ক আইন আরো দুর্বল করার ষড়যন্ত্র চলছে। ফলে সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি তাওহীদুল হক লিটন, যুগ্ন মহাসচিব মনিরুল হক, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার ৫টি কারণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ৭টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
দুর্ঘটনার কারণসমূহ :
১. লকডাউনের কারণে এবং স্বল্প সময়ের জন্য গণপরিবহন চালু করার ফলে মহাসড়কে ব্যক্তিগত যানবাহন যেমন প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা-ব্যাটারীচালিত রিক্সা, ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যানের বেপরোয়া গতিতে যাতায়াত।
২. জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মাকিং, সড়কবাতি না থাকায় হঠাৎ ঈদে যাতায়াতকারী ব্যাক্তিগত যানের চালকদের রাতে এসব জাতীয় সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালানো।
৩. জাতীয়, আঞ্চলিক ও ফিডার রোডে টানিং চিহ্ন না থাকার ফলে নতুন চালদের এসব সড়কে দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে।
৪. মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
৫. উল্টোপথে যানবাহন চালানো, সড়কে চাদাঁবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন।
দুর্ঘটনার প্রতিরোধে সুপারিশসমূহ :
১. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় অবাধে চলাচলের জন্য আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা।
২. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহন, যানবাহনের ত্রুটি সারানোর উদ্যোগ গ্রহন।
৩. ধীরগতির যান ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা।
৪. সড়কে চাদাঁবাজি বন্ধ করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘন্টা সুনিশ্চিত করা।
৫. সড়কে রোড সাইন, রোড মার্কিং স্থাপন করা।
৬. সড়ক পরিবহন আইন যথাযতভাবে বাস্তবায়ন করা। ট্রাফিক আইনের অপপ্রয়োগ রোধ করা।
৭. গণপরিবহন বিকশিত করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ করে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৮. মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা।

বিশ্বের ৪০০ কোটি মানুষ পেয়েছে কভিড-১৯ টিকা

বিশ্বের ৪০০ কোটি মানুষ পেয়েছে কভিড-১৯ টিকা

নিউজ মেট্রো ডেস্ক :  কভিড-১৯ প্রতিরোধকল্পে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর পর ৮ মাসে সারাবিশ্বে ৪শ’ কোটির ও বেশী কভিড-১৯ ভ্যাকসিন ডোজ দেয়া হয়েছে। শুক্রবার এএফপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
বৈশ্বিক টিকাদান কার্যক্রম কিছুটা ধীর গতিতে হয়েছে। এর মধ্যে শেষ এক বিলিয়ন ডোজ টিকা দিতে সময় লেগেছে ৩০ দিন। অথচ এর আগে এক বিলিয়নে সময় লেগেছে ২৬ দিন। প্রথম এবং দ্বিতীয় বিলিয়নে সময় লেগেছে যথাক্রমে ১৪০ দিন এবং ৪০ দিন।
৪ বিলিয়ন শটের মধ্যে ১.৬ বিলিয়ন শট দেয়া হয়েছে চীনে। ভারতে ৪৫১ মিলিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪৩ মিলিয়ন শট টিকা দেয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনসংখ্যার ৭০ শতাংশকে ভ্যাকসিনের পুরো ডোজ প্রদান প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। উরুগুয়ে এবং বাহরাইন উভয়ই ৬০ শতাংশের বেশী জনসংখ্যাকে ভ্যাকসিন প্রদান সম্পন্ন করেছে।
কাতার, চিলি এবং কানাডা, ইসরাইল, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, মঙ্গোলিয়া এবং ডেনমার্ক ও বেলজিয়ামে জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশী লোককে ভ্যাকসিন প্রদান সম্পন্ন হয়েছে।

সূত্র : বাসস