Home Blog

সরওয়ার জামাল নিজামের সম্পদ ৬ কোটি, স্ত্রীর ৯ কোটি

সরওয়ার জামাল নিজামের সম্পদ ৬ কোটি, স্ত্রীর ৯ কোটি

নিউজমেট্রো রিপোর্ট :

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনবার সংসদ সদস্য  নির্বাচিত হয়েছেন সরওয়ার জামাল নিজাম। এবারও দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের নেমেছেন তিনি। ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হিসেবে নিজেও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে দেখা যায়, তাঁর তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি সম্পদ রয়েছে তাঁর স্ত্রীর।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিজাম শেয়ারস এন্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড নামে স্টক ব্রোকারেজ ফার্ম এর চেয়ারম্যান সরওয়ার জামাল নিজাম। আর ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাঁর স্ত্রী নাজনীন নিজাম। ২০২৫-২৬ সালের আয়কর রিটার্নে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সরওয়ার জামাল নিজামের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৪১ লাখ ৫ হাজার ৩৭৬ টাকা। আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৩ টাকা। ৪ লাখ ১৭ হাজার ৯০৩ টাকা আয়কর দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ৯ কোটি ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৭০৫ টাকা এবং বার্ষিক আয় ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৪৮৮ টাকা। তিনি আয়কর রিটার্ন দিয়েছেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮২১ টাকা।

হলফনামার তথ্য মতে, সরওয়ার জামাল নিজামের নগদ অর্থের পরিমাণ ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার ৫৯২ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮৪ টাকা । তাঁর স্ত্রীর কাছে নগদ আছে মাত্র ১৮ হাজার ৪৯২ টাকা আর ব্যাংকে জমা আছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬৩ টাকা। ২০ লাখ ৯৩ হাজার টাকার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানীর এবং ৪৮ লাখ টাকার প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীর শেয়ার রয়েছে নিজামের। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর রয়েছে ৫১ লাখ ৫৬ হাজার টাকার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানীর ও ২৪ লাখ টাকার প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীর শেয়ার। স্বামী-স্ত্রীর দুইজনের মোট ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। এর মধ্যে নিজামের রয়েছে ৫ ভরি ও তাঁর স্ত্রীর ১০ ভরি। রাজধানীর গুলশান ও চট্টগ্রামের খুলশীতে দু’জনের নামেই রয়েছে বাড়ি। বর্তমানে তার কাছে কোন ব্যাংক ঋণ নেই বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য মতে, বর্তমানে সরওয়ার জামাল নিজামের বিরূদ্ধে কোথাও কোন মামলা নেই। ২০২৮  সালে সিএমপির খুলশী থানায় তাঁর নামে দায়ের করা একটি মামলা ২০২৫ সালে নিস্পত্তি হয়েছে। মামলাটি থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

৬ষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্ঠম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে দেওয়া এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়েছিল বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৩ আসনে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান বাবুকে হারিয়ে এবং ২০০১ সালে আতাউর রহমান খান কায়সারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম। এবার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম শাহজাহান, জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের মো. ইমরান, গণ অধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, এনডিএম এর মো. এমরান ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ এর মুহাম্মদ রেজাউল মোস্তফা।

চট্টগ্রামে ১৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

চট্টগ্রামে ১৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামে ছয়টি সংসদীয় আসনে ১৬জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই বাছাই শেষে বাতিল করা হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসব আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হয়।

রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, রোববার চট্টগ্রামের মোট সাতটি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হয়। এর মধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণখেলাপী, তথ্যগত ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে ছয়টি আসনের ১৬জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একটি আসনের কোন মনোনয়ন বাতিল হয়নি।

বাতিল হওয়া প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনে ২জন, চট্টগ্রাম-৯ আসনে ৪ জন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে ৫ জন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে ২ জন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ২ জন ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ১জন।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে নয় জন প্রার্থীর মধ্যে দুই জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে দলীয় মনোনয়নের নমুনা স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. সেহাব উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকায় স্বতন্ত্র মো. আজাদ চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার।

এ আসনে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবু নাছের,  এনসিপির জোবাইরুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মো. নুরুল আলম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. এমদাদুল হক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এর মো. এনায়েত উল্লাহ।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে, দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। শিক্ষা সনদে গরমিল, ব্যাংকের খেলাপী ঋণ ও চসিকের বিল খেলাপীর কারণে বাতিল করা হয় নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী নুরুল আফছার মজুমদারের মনোনয়ন। হলফনামায় স্বাক্ষর ও আয়কর রিটার্ন না থাকায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আবদুল মোমেন চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া এক শতাংশ ভোটারের তথ্য সঠিক না থাকায় বাতিল হয়ে যায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলন কান্তি শর্মার মনোনয়ন।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. ওয়াহেদ মুরাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির মো. নেজাম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আবদুশ শুক্কুর, গণ সংহতির সৈয়দ মো. হাসান মারুফ, জনতার দলের হায়দার আলী চৌধুরী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) শফিউদ্দিন কবির ও ইনসানিয়াত বাংলাদেশ এর মো. নঈম উদ্দিনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনে মোট এগার জন প্রার্থীর মধ্যে ৫জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এরা হলেন- খেলাফত মজলিসের মো. আলী ওসমান, লেবার পার্টির ওসমান গণি, জাতীয় পার্টির এমদাদ হোসাইন চৌধুরী ও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আরমান আলী এবং মো. ইউসুফ খান।

এ আসনে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির সাঈদ আল নোমান, জামায়াতে ইসলামীর শামসুজ্জামান হেলালী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর  মো. লিয়াকত আলী, বাসদের (মার্কসবাদী) আসমা আকতার, ইসলামী আন্দোলনে মো. জান্নাতুল ইসলাম ও ইনসানিয়াত বাংলাদেশের সাবিনা খাতুন।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্নফুলী) আসনে বিএনপির আলী আব্বাস ও গণ অধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ আসনে বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম, জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম শাহজাহান, এনডিএম এর মো. এমরান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল মোস্তফা, খেলাফত মজলিসের মো. ইমরান ও জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে নয় জন প্রার্থীর মধ্যে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুল হক চৌধুরী ও মো. নুরুল আনোয়ারের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এলডিপির ওমর ফারুক, বিএনপির জসিম উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মৌ. মোহাম্মদ সোলাইমান, জাতীয় পার্টির বাদশা মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুল হামিদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এইচ এম ইলিয়াস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে কারো প্রার্থিতা বাতিল হয়নি। এ আসনের তিন বৈধ প্রার্থী হলেন জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর শরিফুল আলম চৌধুরী। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আরিফুল হকের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন বিএনপির মেশকাতুল ইসলাম চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মো. জহিরুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর আবদুল মালেক, নেজামে ইসলাম পার্টির মুহাম্মদ মুসা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এহসানুল হক, এলডিপির কফিল উদ্দিন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মো. রুহুল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী।

দেশকে এগিয়ে নিতে বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই চলতে হবে

দেশকে এগিয়ে নিতে বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই চলতে হবে


নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নানা দুর্যোগ, সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ে আজীবন দেশের মানুষের পাশে থাকা প্রয়াত মানবিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী হয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
রোববার (৪ জানুয়ারী) দুপুরে কাজীর দেউড়ি ভিআইপি ব্যাংকুয়েটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম, অসহায় এতিম ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মেয়র এতিম ও দুস্থদের সঙ্গে মেজবানে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি নিজ হাতে তাদের আপ্যায়ন করেন, সবার সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রয়োজন ও কষ্টের কথা শোনেন এবং সবসময় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন চসিকের মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুনুর রশীদ চৌধুরী।
মেয়র বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ এক আপসহীন নেত্রী। ব্যক্তিজীবন ও রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি মানুষের দুঃখ কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে দেখেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সামাজিক সংকট কিংবা রাষ্ট্রীয় যে কোনো দুর্বিপাকে তিনি দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মানবিকতা, সহমর্মিতা ও গণতন্ত্রের প্রতি অটল আস্থা।
তিনি আরও বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই চলতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
মেয়র বলেন, ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে বর্বর হামলায় চিকিৎসকসহ তিনজন নিহত এবং বহু ছাত্র আহত হলে বেগম খালেদা জিয়া তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রামে ছুটে আসেন। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান, নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। ১৯৯৭ সালের হামজারবাগ ভূমিকম্পের পরও তিনি চট্টগ্রাম সফর করেন। সে সময় মেডিকেলে প্রবেশের পথে তাঁর গাড়িবহরে বোমা হামলা, এমনকি তাঁকে লিফটে আটকে রাখার ঘটনা ঘটলেও তিনি তিন থেকে চার ঘণ্টা হাসপাতালে অবস্থান করে রোগীদের খোঁজখবর নেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, চসিকের ভারপ্রাপ্ত  প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও  সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা  ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান,  প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী,  তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু প্রমুখ।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের শোক

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের শোক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ  করেছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক এক বিবৃতিতে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও জাতীয় জীবনে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, একইসঙ্গে তাঁর নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে নেমে এসেছে গভীর শোক।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাসে এক অনন্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। আমাদের দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সকল বাধা অতিক্রম করে দৃঢ়তা, সাহস এবং নিজের আদর্শের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
তাঁর নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অধ্যায়গুলোর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিল এবং সারাজীবন তিনি তাঁর দল, দলের সমর্থকবৃন্দ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একজন নিবেদিত প্রবক্তা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর অবদান আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, প্রিয়জন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের এই গভীর শোক সহ্য করার শক্তি, ধৈর্য ও সান্ত্বনা দান করেন।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নাসিমন ভবনে শোকের ছায়া

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নাসিমন ভবনে শোকের ছায়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে। দলের মহানগর কার্যালয় নাসিমন ভবনে বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ। বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে দিনভর সেখানে ভিড় করেছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীসহ সর্বসাধারণের মঙ্গলবার দিনটি শুরু হয়েছে। দলের চেয়ারপার্সনের এই মৃত্যুর খবরে শোকে মুষড়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলের নেতাকর্মীরা ছুটে আসতে থাকে নগর বিএনপির কার্যালয় নুর আহমদ সড়কস্থ নাসিমন ভবনে। এসময় তাঁদের অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। একে এক সেখানে উপস্থিত হন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, কাজী বেলালসহ বিএনপি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে পুরো নাসিমন ভবন চত্বর জুড়ে নেতাকর্মীর ভিড় জমে যায়।
কেন্দ্র ঘোষিত শোক কর্মসূচীর অংশ হিসেবে নেতাকর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারন করেন। দলীয় কার্যালয় চত্বরে বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সেখানে উপস্থিত চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আমাদের কাছে কেবল নেত্রী ছিলেন না তিনি ছিলেন আমাদের মায়ের মতো। এই দেশ মাতৃকাকে ভালবেসে সারা জীবন তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। স্বৈরাচারের অমানুষিক নির্যাতন-নিপীড়নের মুখেও তিনি কোন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। তার মৃত্যুতে কেবল বিএনপি নেতাকর্মীরা নন সারাদেশের মানুষ অভিভাবকহীন হয়েছে। তার এই শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না। তিনি বলেন, চেয়ারপার্সনের মৃত্যুতে ইতোমধ্যে দলের পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরের পক্ষ থেকেও কর্মসূচি পালন করা হবে। আমরা খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল করেছি। আগামীকাল নাসিমন ভবনস্থ কার্যালয়ে শোক বই খোলা হবে বলেও জানান তিনি।
শোক : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ঠ ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আজীবন দেশের মানুষের ভোটের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন দেশ ও জাতির জন্য নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন মহান অভিভাবক ও অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ককে হারাল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে শোক জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. মনজুর আলম। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় মো. মনজুর আলম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া একজন আপোষহীন দৃঢ়চেতা নেত্রী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন দেশপ্রেমিক, মানবতা প্রেমিক নেত্রীকে হারালো। যা কোনো দিন পূরণ হবার নয়। শোকবার্তায় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজে। সংগঠনের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ এক বিবৃতিতে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব। রাষ্ট্র পরিচালনা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বহুদলীয় রাজনীতির বিকাশে তাঁর অবদান ইতিহাসে অসামান্য।
চট্টগ্রাম মেট্রেপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এক বিবৃতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, বহু উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াই, সংসদীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় ফজরের ঠিক পরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
এদিন সকাল সাতটার দিকে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বেগম জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে তার বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে।
এর আগে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মাঝরাতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত সংকটময় সময় অতিক্রম করছেন।
তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর থেকে এখানে (এভারকেয়ার) চিকিৎসাধীন আছেন। বর্তমানে তিনি অত্যন্ত সংকটময় সময় পার করছেন। সময়ই বলে দেবে তিনি সেই সংকট কতটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।’
কিন্তু সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলেন না তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সৃষ্টিকর্তার ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। 
এর আগে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, বেগম জিয়ার ছোট ভাইসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন হাসপাতালে যান তাকে দেখতে। তারেক রহমান, তার স্ত্রী ও কন্যা জাইমা রহমান রাত ২টা পর্যন্ত এভারকেয়ার হাসপাতালে ছিলেন বলে জানান ডা. জাহিদ। 
নতুন করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে এক মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে পৃথিবীর যাত্রা শেষ করেন।

মনোরেল বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগিতা চাইলেন মেয়র শাহাদাত

মনোরেল বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগিতা চাইলেন মেয়র শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে এ সহযোগিতা চান মেয়র। সভায় উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, গ্রেটার চিটাগাং ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী।

সভায় জানানো হয়, গত ২৪ জুন ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে আরব কনস্ট্রাক্টর ও ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোটিয়াম চট্টগ্রামে মনোরেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাস্তবায়ন বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরদিন ২৫ জুন বিডা’র কাছে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা চেয়ে পত্র পাঠানো হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ বিডা স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে পত্র দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ২১ অক্টোবর চসিককে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১৬ নভেম্বর বিডা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে তাগাদা পত্র প্রদান করে।

সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক নগরী। এখানকার যানজট নগরবাসীর জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

এসময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী মনোরেল প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ধারণাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ যুক্ত হলে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এসময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং পরামর্শ দেন। জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে চলতি বছরে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রায় ৬০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য নগরীর ২১টি খাল খনন ও সংস্কারের জন্য একটি ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। 

চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত মো. তৈয়ব এসময় উপস্থিত ছিলেন।

মায়ানমারে সিমেন্ট পাচার : দু’টি বোটসহ ২৩ জন আটক

মায়ানমারে সিমেন্ট পাচার : দু’টি বোটসহ ২৩ জন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া বহির্নোঙ্গর এলাকা ১৭৫০ বস্তা সিমেন্ট ভর্তি দু’টি ইঞ্জিন বোটসহ ২৩ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। সিমেন্টগুলো মায়ানমারে পাচার করা হচ্ছিল বলে নৌবাহিনীর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।  

নৌবাহিনী সূত্র জানায়, একটি পাচারকারী চক্র ইঞ্জিন চালিত বোটের মাধ্যমে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে সিমেন্ট পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদার করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ সময় টহলে নিয়োজিত থাকা বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ শহীদ মহিবুলাহ কুতুবদিয়া বাতিঘর হতে ৪৬ মাইল দূরে সন্দেহজনক দুটি কাঠের বোট দেখতে পায়। নৌবাহিনী জাহাজ বোট দু’টিকে থামার সংকেত দিলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। নৌবাহিনী জাহাজ মহিবুল্লাহ ধাওয়া করে ‘এফবি আজিজুল হক’ এবং ‘এফবি রুনা আক্তার’ নামক দুইটি বোট আটক করে। আটককৃত বোটগুলো তল্লাশি করে ১ হাজার ৭৫০ বস্তা বাংলাদেশি ডায়মন্ড সিমেন্ট এবং  ৩২ টি মোবাইল জব্দ করা হয় । এ সময় চোরাকারবারী দলের ২৩জন সদস্যকেও আটক করা হয়। জব্দকৃত মালামাল ও আটকৃত ব্যক্তিদের অইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পতেঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকদের জনসমাগম ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার পরামর্শ

0
বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকদের জনসমাগম ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে । সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) জারি করা এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জনসমাগম ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসের সতর্কবার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে। শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে শুরু হওয়া বিক্ষোভও হঠাৎ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। 

এ ছাড়া বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকদের আশপাশের পরিস্থিতির প্রতি সচেতন থাকা, স্থানীয় গণমাধ্যম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং যেকোনো ধরনের ভিড় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পেতে স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রামে (এসটিইপি) নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।

সফল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নৌবাহিনীর বাৎসরিক মহড়া সমাপ্ত

সফল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নৌবাহিনীর বাৎসরিক মহড়া সমাপ্ত

বঙ্গোপসাগরে সফল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ‘বাৎসরিক সমুদ্র মহড়া-২০২৫’ রবিবার সমাপ্ত হয়েছে। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান  এর আমন্ত্রণে অন্তবর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের  উপদেষ্টা; বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা; এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত  মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ থেকে সমাপনী দিবসের মহড়াসমূহ প্রত্যক্ষ করেন। এছাড়াও নৌবাহিনীর এই মহড়ায় অন্যান্য উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

৫ দিনব্যাপী আয়োজিত এ মহড়ায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট, করভেট, ওপিভি, মাইন সুইপার, পেট্রোলক্রাফ্ট, মিসাইল বোটসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাহাজ এবং নৌবাহিনীর মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট, হেলিকপ্টার এবং বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াডস্ প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এবং কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট মেরিটাইম সংস্থাসমূহ এ মহড়ায় প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন ধাপে পরিচালিত এ মহড়ার উল্লেখযোগ্য দিকসমূহের মধ্যে নৌ বহরের বিভিন্ন রণকৌশল অনুশীলন, সমুদ্র এলাকায় পর্যবেক্ষণ, লজিষ্টিক অপারেশন, উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত নৌ স্থাপনাসমূহের প্রতিরক্ষা মহড়া প্রভৃতি অন্তর্ভূক্ত ছিল। চূড়ান্ত দিনের মহড়ার উল্লেখযোগ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ হতে ক্ষেপনাস্ত্র উৎক্ষেপণ, শোল্ডার লঞ্চড সারফেস টু এয়ার মিসাইল ফায়ারিং, এ্যান্টি এয়ার র‍্যাপিড ওপেন ফায়ারিং, রকেট ডেপথ্ চার্জ ফায়ারিং, নৌকমান্ডোদের মহড়া হেলিকপ্টার ভিজিট বোর্ড সার্চ এন্ড সিজার ও নৌ যুদ্ধের বিভিন্ন রণকৌশল।

নৌবাহিনীর এ বার্ষিক মহড়ার মূল লক্ষ্য সমুদ্র এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, সমুদ্র সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ, সমুদ্র পথের নিরাপত্তা বিধানসহ চোরাচালানরোধ, জলদস্যুতা দমন, উপকূলীয় এলাকায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমুদ্র এলাকায় প্রহরা নিশ্চিতকরণ। মহড়ার সফল সমাপ্তিতে আগত সম্মানিত অতিথিগণ এ মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সকল কর্মকর্তা ও নাবিকদের অভিনন্দন জানান এবং নৌ সদস্যদের পেশাগত মান, দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়াও উপস্থিত অতিথিগণ দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

 -প্রেস বিজ্ঞপ্তি