July 14, 2026

চসিক নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে সিইসি ও মেয়রের বিরূদ্ধে মামলা

1
152765375_178095960494503_6463377226435831112_n

আদালতে মামলা দায়ের শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডা. শাহাদাত হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বিএনপির পরাজিত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।
মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা, নবনির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, নির্বাচন কমিশন সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পরাজিত অপর পাঁচ মেয়র প্রার্থীকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলায় নির্বাচন বাতিল ও পুনঃনির্বাচনেরও আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে দিকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম-জেলা জজ খাইরুল আমিনের  আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটের দিন দুপুর পর্যন্ত ৪ থেকে ৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। কিন্তু ভোটের হিসাবে দেখানো হয়েছে ২২ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন। কিন্তু তাকে আরও সাড়ে তিন লাখ ভোট যোগ করে মেয়র বানানো হয়েছে। মামলায় বলা হয়, মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন চসিক নির্বাচনের ভোটের হিসাব চেয়ে এখনও পাননি। কোনো কেন্দ্র থেকে ইভিএমের প্রিন্ট কপি দেয়া হয়নি। নির্বাচনে তাকে জোর করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে।
মামলা দায়ের শেষে ডা. শাহাদাত হোসেন নিউজ মেট্রো টুয়েন্টি ফোরকে বলেন, চসিক নির্বাচনে মোট ৪৮৮৫টি কেন্দ্রে ইভিএম-এ ভোট গ্রহণ করা হলেও মাত্র ২০টি কেন্দ্রে মেশিনে প্রিন্টেড ফলাফল দিয়েছে। বাকি ৪৬৬৫টি কেন্দ্রের হাতে লেখা ফলাফল প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে সবগুলো কেন্দ্রের প্রিন্টেড ফলাফলের লিখিত আবেদন জানালেও তারা তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’
ডা. শাহাদাত বলেন, নির্বাচন কমিশন ২৮টি কেন্দ্রে আমাকে শূন্য ভোট এবং ১৭৮টি কেন্দ্রে ১০টির কম ভোট দেখিয়েছে যা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভোট জালিয়াতি জ্বলন্ত নমুনা। এসবের প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।
ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য ও  চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি দেলওয়ার হোসেন আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। এসময়  বিপুলসংখ্যক আইনজীবী তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী তিন লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়রপ্রার্থী শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট। নির্বাচনের পর সংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর বিরূদ্ধে কারচুপির অভিযোগ করে আসছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন ও বিএনপি নেতারা।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নব-নির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিম চসিকের দায়িত্বগ্রহণ করেন।

1 thought on “চসিক নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে সিইসি ও মেয়রের বিরূদ্ধে মামলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *