Home Blog Page 18

বাঁশখালী লোহাগাড়ায় দুই খোরশেদ জয়ী

বাঁশখালী লোহাগাড়ায় দুই খোরশেদ জয়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও লোহাগাড়া উপজেলায় দুই খোরশেদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার (৫জুন) রাতে ভোটের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন দুই উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার।

বাঁশখালীতে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম। তিনি পেয়েছেন ৬১ হাজার ৫১১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. এমরানুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ২১ হাজার ৯৭৯ ভোট।

লোহাগাড়ায় ৩০ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন খোরশেদ আলম চৌধুরী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ২৯ হাজার ৭৯৩ ভোট।

এর আগে বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় দুই উপজেলায়।

পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজন লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন

পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজন লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন

পোশাক শিল্পে লিঙ্গ সমতা, নারী নেতৃত্ব ও দক্ষতা বিকাশের লক্ষ‌্যে শনিবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল “জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড রিটার্নস: অ্যাডভান্সিং উইমেন লিডারশিপ, স্কিল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্রোডাক্টিভিটি ইন দ্য সাপ্লাই চেইন” নামের একটি বিশেষ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানটিতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএও) ও আন্তর্জাতিক ফাইন‌্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) পরিচালিত ‘জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড রিটার্নস‘ বা গিয়ার-এর  ‍উদ‌্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা  হয়। বেটার ওয়ার্ক প্রোগ্রামের আওতায় পরিচালিত গিয়ার  ‍উদ‌্যোগটি ২০১৬ সাল থেকে ৮০০  জন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, যার মধ্যে ৫২৮ জন সুপারভাইজরের ভূমিকায় উন্নীত হয়েছেন। গিয়ার পোশাক খাতের নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে তাদের কর্মজীবনে নেতৃত্বমূলক পদে যেতে সহায়তা করে ।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গিয়ারের ফলে শ্রমিকদের লাইন দক্ষতা ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের থেকে নারীরা ৩৯ শতাংশ বেশি মজুরি পান গিয়ারের সাথে যুক্ত হয়ে।

বাংলাদেশের জন‌্য পোশাক খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ যেখানে ৪.২ মিলিয়ন মানুষ কাজ করেন। এই খাতে কর্মরত ৫৫ শতাংশই নারী। যাদের মাত্র ৫ শতাংশ সুপারভাইজর বা নেতৃত্বদানকরী ভূমিকায় আছেন।  যে পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে গিয়ার।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কারখানার মালিক, ক্রেতা, উন্নয়ন অংশীদার, জাতিসংঘ সংস্থা এবং সুশীল সমাজসহ সবাইকে একসাথে কাজ করা প্রয়োজেন একটি অন্তভুক্তিমূলক পোশাক খাত তৈরিতে।

বাংলাদেশে আইএলও-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর তুওমো পাউটিয়াইনেন লিঙ্গ সমতার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশের পোশাক খতে আমার ভাল অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি । এই খাতকে আরো টেকসই উন্নয়নে লিঙ্গ সমতা, নারীর দক্ষতা ও ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। “

বাংলাদেশে কোরিয়ান রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক বলেন, “ গিয়ারেরমত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলির সাথে কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত। এখানে লিঙ্গ সমতার অগ্রগতি অনেককে অনুপ্রাণিত করছে।”

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের লেবার অ্যাটাচে লীনা খান বলেন, “গিয়ার প্রোগ্রামে যারা অংশ নিয়েছেন তারা নিজের উন্নতির পাশাপাশি, ব‌্যবসায়েরও উন্নতি করছেন। পোশাক শিল্পে কর্মীদের অধিকার উন্নত করতে এবং খাতটিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে সরকার, মালিক, শ্রমিক এবং ব্র্যান্ডগুলির সাথে প্রোগ্রামটি খুব ভালভাবে কাজ করছে।“

অনুষ্ঠানটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিল্পের জন্য কৌশলগত আলোচনা, সম্ভাব্য সহযোগিতা এবং নীতি বিষয়ক একটি আলোচনার প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করেছে। গিয়ার প্রগ্রামের অংশগ্রহনকরীদের নিয়ে পরিচালিত একটি ফ্যাশন শো দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয় । প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বিপ্লব উদ্যানে সবুজ ধ্বংস করে স্থাপনা নয়

বিপ্লব উদ্যানে সবুজ ধ্বংস করে স্থাপনা নয়

চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেট এলাকায় প্রীতিলতার স্বরণে তৈরিকৃত বিপ্লব উদ্যান দখল করে স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে ঘন্টা ব্যাপি অবস্থান ধর্মঘট করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা ও বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম। আজ শনিবার সকাল ১১টায় আয়োজিত উক্ত সমাবেশে বক্তরা বলেন, বিপ্লব উদ্যানে সবুজ অংশকে ইতোমধ্যেই ধ্বংস করা হয়েছে। উদ্যানের মাঝখানে নতুন করে নির্মিত হচ্ছে দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা। এই উদ্যান দখল করে চলমান ইট পাথরের ঢালাই কাজ দ্রæত বন্ধ করা না হলে লাগাতার সামাজিক আন্দোলনসহ উচ্চ আদালতে রিট মামলা করে কাজ বন্ধ করা হবে।

বক্তারা বলেন, ইতোপূর্বে উন্নয়নের নামে চট্টগ্রাম মহানগরীর জাম্বুরি মাঠ, মহসিন কলেজ মাঠ, প্যারেড ময়দান, জাতিসংঘ পার্ককে ধ্বংস করা হয়েছে। নগরীর বিপ্লব উদ্যানের ছোট্ট সবুজ চত্বরকে ইতোমধ্যে ধ্বংস করে সেখানে কনক্রিটের স্থাপনা বির্মান করা হচ্ছে। গত ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা থেকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার পরও কাজ থেমে নাই। গত কয়েকদিনে পুরো মাঠে ইট কনক্রিটের ঢালাই দেয়া হয়েছে। যা চট্টগ্রাম বাসির জনস্বার্থ বিরোধী। সিটি মেয়র জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না একটি বিশেষ শ্রেনীর সুবিধার জন্য পুরো মাঠে লোহা ও কনক্রিটের স্থাপনা নির্মানের যে আদেশ দিয়েছেন তার জবাবদিহিতা একদিন জনগণের আদালতে করতে হবে।

অবস্থান ধর্মঘটে বক্তব্য প্রদান করেন, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও বেলার নেটাওয়ার্ক মেম্বার আলীউর রহমান, বেলা চট্টগ্রাম অফিসের সমন্বয়ক মনিরা পারভিন রুবা, গ্রিন ফিঙ্গার এর কো ফাউন্ডার রিতু ফারভিন, প্রজন্ম চট্টগ্রামের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী জসীমুল হক, বিপ্লবী তারকেশ্বর পরিশনের সভাপতি চিংময় ভৌমিক, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বাকলিয়া থানা কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার মো. আলী আকবর প্রমুখ।

প্রসঙ্গত গত ৩০ মে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা চসিক মেয়র গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিডিএ চেয়ারম্যান, চসিক সিইও, জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিফর্ম কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের এমডি ও স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যানকে অবিলম্বে বিপ্লাব উদ্যানে স্থাপনা বন্ধ করতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংকুচিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংকুচিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বিশ্বের প্রতিটি কর্নারে আক্রমণের মধ্যে রয়েছে। সাংবাদিকদের ক্রমাগত হয়রানি, কারাগারে পাঠানো এবং হত্যা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এবং মিডিয়া আউটলেটগুলো মঙ্গলবার সতর্ক করে একথা জানিয়েছে।
বুধবার বিশ্ব প্রেস ফ্রিডম দিবসের আগে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক এবং মিডিয়ার জন্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
‘আমাদের সমস্ত স্বাধীনতা নির্ভর করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর’ এ কথা উল্লেখ করে তিনি এক ভিডিও বার্তায় এটিকে ‘গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের ভিত্তি’ এবং ‘মানবাধিকারের প্রাণশক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত এক সম্মেলনে গুতেরেস আরো বলেন, ‘তবে বিশ্বের প্রতিটি কোণে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আক্রমণের মুখে রয়েছে।’
সমস্যাটি তুলে ধরে ইউনেস্কো তার ২০২৩ সালের বিশ্ব প্রেস ফ্রিডম পুরষ্কার প্রদান করেছে তিন ইরানি নারী, দুই সাংবাদিক এবং একজন মানবাধিকার কর্মীকে। যারা এখনো কারাগারে বন্দী।
যদিও গুতেরেস সুনির্দিষ্ট কোন দেশগুলোর উপর দোষারোপ করেননি, অন্যান্য বক্তারা স্বতন্ত্র কেসগুলো হাইলাইট করেছেন। যেমন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্টার ইভান গারশকোভিচ রাশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক। তিনি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশক আলমার লাটোর ফোরামে বলেছেন, ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতার লড়াই হচ্ছে, ইভানের মুক্তির লড়াই, প্রত্যেকের স্বাধীনতার লড়াই।’
যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইভানের কারাবাসকে ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ বলে অভিহিত করেছেন তখন কয়েক ডজন সংবাদ সংস্থা গার্শকোভিচের বিরুদ্ধে অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে নিন্দা করেছে।
অন্যান্য সাংবাদিকরা বলেছেন, পেশার উপর ক্রমবর্ধমান বিপদের আঘাত বাড়ছে।
প্রবাসে বসবাসরত ইরান-আমেরিকান সাংবাদিক মাসিহ আলিনেজাদ বলেছেন, ‘আমি এমন একটি দেশ থেকে এসেছি যেখানে সাংবাদিক হওয়া একটি অপরাধ। আপনাকে কারাগারে পাঠাতে পারে, আপনাকে হত্যা করতে পারে, আপনাকে নির্যাতন করতে পারে’।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের মতে, ২০২২ সালে দায়িত্ব পালনকালে ৫৫ জন সাংবাদিক ও চারজন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন।
গুতেরেস বলেছেন, ‘সত্যকে বিভ্রান্তি এবং ঘৃণামূলক বক্তব্যের দ্বারা হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা ফ্যাক্ট এবং কল্পকাহিনী, বিজ্ঞান এবং ষড়যন্ত্রের মধ্যে পার্থক্যের সীমারেখা অস্পষ্ট করতে চাইছে।’
তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকদেরকে ‘নিয়মিতভাবে হয়রানি করা হয়, ভয় দেখানো হয়, আটক করা হয় এবং কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়।’
এই উপলক্ষে ইউনেস্কোর প্রধানের সাথে বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্টানে অন্যরা একই ধরনের কথা বলেছেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অড্রে আজৌলে বলেন, ডিজিটাল যুগ পুরো তথ্যের ল্যান্ডস্কেপকে বদলে দিচ্ছে-‘পেশাদার, মুক্ত, স্বাধীন সাংবাদিকতা’কে আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় করে তুলছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের হয়রানি ও ভয় দেখানো অগ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি নতুন মোড়ে নিজেদের খুঁজে পাই।’ ‘আমাদের বর্তমান পথ আমাদেরকে সচেতন পাবলিক বিতর্ক থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। আরও মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রকাশক এজি সুলজবার্গার বলেছেন, এটি শুধুমাত্র সরাসরি দমন-পীড়ন নয়, যা সাংবাদিকদের এবং তথ্যের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়।
তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট ভুল তথ্য, প্রোপাগান্ডা, পন্ডিট্রি এবং ক্লিকবাইটের তুষারপাতকেও মুক্ত করেছে যা এখন আমাদের তথ্য বাস্তুতন্ত্রকে আচ্ছন্ন করে। সামাজিক বিশ্বাসের পতনকে ত্বরান্বিত করে।’
তিনি বলেছেন, ‘যখন মুক্ত সংবাদ ক্ষয় হয়, তখন গণতান্ত্রিক ক্ষয় প্রায় সব সময় তাকে অনুসরণ করে।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, সেন্সরশিপ আরও সাধারণ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে সেন্সরশিপ তাদের সমাজের জ্ঞান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনেক সরকারের ত্রুটি থাকে।’
ইউনেস্কো পুরস্কারের প্রাপ্ত ছিলেন ইরানী সাংবাদিক এলাহেহ মোহাম্মদী এবং নিলোফার হামেদি। তারা গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশে সহায়তা করেছিলেন।

-বাসস

রক্তবিহীন কোন সংগ্রাম কখনো সফল হয়নি : নোমান

রক্তবিহীন কোন সংগ্রাম কখনো সফল হয়নি : নোমান
মহান মে দিবসে চট্টগ্রাম বিভাগীয় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের র‌্যালী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। তাঁকে মোকাবেলা করার সাহস আওয়ামী লীগে নেই। তাই তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। লড়াই করে রক্ত দিয়ে আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো। রক্তবিহীন কোন সংগ্রাম কখনো সফল হয়নি।
তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো প্রতিবছর শ্রমিকদের বেতন বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান করে। কিন্তু বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো শ্রমিকদের আটঘন্টা শ্রমের দাবি এখনো পূরণ করে নাই। তাই আন্দোলনের মাধ্যমেই শ্রমিকদের ৮ ঘন্টা শ্রমের দাবি আদায় করতে হবে।
মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের র‌্যালী ও শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে জনগণের কোনো মূল্য নেই। তাই তারা জনগণের স্বার্থের কথা চিন্তা করছে না। নিজেদের আখের গোছানোর জন্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণকে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। শ্রমজীবি মানুষ আজ পরিবার পরিজন নিয়ে দিশেহারা। জনগণের কোনো মূল্য আওয়ামী লীগের কাছে নেই, কারণ তারা ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় এসেছে। যদি জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়, তাহলে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করতে হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যরিষ্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান।###

মে দিবসে সিইউজের র‌্যালী ও আলোচনা সভা

মে দিবসে সিইউজের র‌্যালী ও আলোচনা সভা
সিইউজের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী
মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) উদ্যোগে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১মে সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে র‌্যালী শুরু হয়ে জামালখানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেস ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
র‌্যালী  শেষে দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
সিইউজের সভাপতি তপন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রুবেল খান।
মে দিবসে সিইউজের র‌্যালী
সিইউজের যুগ্ম সম্পাদক সাইদুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাহ্উদ্দিন মো. রেজা, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস, সিইউজের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের, সিনিয়র সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ ও সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, সিইউজের অর্থ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহরম হোসাইন, টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি শফিক আহমেদ সাজিব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিইউজের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সরওয়ার কামাল, নির্বাহী সদস্য আলাউদ্দীন হোসেন দুলাল, দৈনিক পূর্বদেশ ইউনিট প্রধান জীবক বড়ুয়া, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ ইউনিট প্রধান স ম ইব্রাহিম ও প্রতিনিধি ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সোহেল সরওয়ার, টিভি ইউনিটের ডেপুটি চিফ তৌহিদুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আহবমান কাল ধরে শ্রমিক শ্রেণির সংগ্রাম চলে আসছে। শ্রমিক শ্রেণির এই সংগ্রাম চলবেই। শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন করতে পারলেই মালিকপক্ষ সফল। শ্রমিক শেণি যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে মালিকপক্ষ বিভাজন তৈরি করতে পারবে না।
জীবনধারণে সাংবাদিকদের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, যুগে যুগে সাংবাদিকরা তাদের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে আসছে। ঐক্যের মধ্যে আলাদা শক্তি আছে। ঐক্য, সহমর্মিতা অধিকার আদায়ের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
আলোচনা সভায় মে দিবস নিয়ে আবৃত্তি সংগঠন উচ্চারক আবৃত্তিকুঞ্জের সদস্যরা বৃন্দ আবৃত্তি ‘ক্ষুধা’ পরিবেশন করেন।

#প্রেস বিজ্ঞপ্তি

শোক দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ৬দিন ব্যাপী কর্মসূচী

শোক দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ৬দিন ব্যাপী কর্মসূচী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ৬দিন ব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা ইউনিট। বুধবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৫ আগস্ট শুক্রবার বিকেল ৩টায় খতমে কোরআন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্যে দিয়ে শোক দিবসের কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম মোজাম্মেল হক। ঐদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান এমপি। প্রধান বক্তা থাকবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোমিনুর রহমান। ধারাবাহিকভাবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত এ কর্মসূচী চলবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলাউদ্দিন। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহাম্মদ ও জেলা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সরওয়ার কামাল দুলু। উপস্থিত ছিলেন মহানগর ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক চৌধুরী সৈয়দ, সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা ইউনিটের সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুর রাজ্জাক।

আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা জাওয়াহিরি নিহত

আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা জাওয়াহিরি নিহত

বিবিসি :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরিকে একটি ড্রোন হামলার মাধ্যমে হত্যা করেছে।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক ঘোষণার মাধ্যমে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রবিবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালিত ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন।

আয়মান আল-জাওয়াহিরিকে হত্যার খবর নিশ্চিত করে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, জাওয়াহিরির বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যা ও সহিংসতার প্রমাণ রয়েছে।

“এখন ন্যায় বিচার হয়েছে এবং এই সন্ত্রাসী নেতা আর নেই,” বলেন জো বাইডেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, যখন আমেরিকার ড্রোন থেকে দুটি মিসাইল হামলা চালানো হয় তখন জাওয়াহির একটি সেফ হাইজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।

তখন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাদের কোন ক্ষতি হয়নি।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন জানিয়েছেন, ৭১ বছর বয়সী জাওয়াহিরিকে হত্যার জন্য হামলা করতে তিনি অনুমোদন দিয়েছিলেন। এজন্য কয়েকমাস পরিকল্পনা করা হয়।

জাওয়াহিরিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর আমেরিকায় হামলায় নিহতদের পরিবারের জন্য বিচারের বিষয়টি সুরাহা করবে।

” এর জন্য কতদিন সময় লেগেছে সেটা বড় বিষয় নয়, কোথায় লুকিয়ে ছিল সেটাও কোন ব্যাপার নয়। তুমি যদি আমেরিকার জনগণের জন্য হুমকি হও, তাহলে আমেরিকা তোমাকে খুঁজে বের করবে,” বলেন মি. বাইডেন।

আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন এবং আল-জাওয়াহিরি এক সাথে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের আক্রমণের আয়োজন করেন।

ওসামা বিন লাদেনের ডান হাত

একই সময়ে, তালেবানের একজন মুখপাত্র বলেন যে, রবিবার কাবুলের একটি আবাসিক এলাকায় আমেরিকান ড্রোন হামলা হয়েছে।

তিনি এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক নীতির পরিষ্কার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।

দুই হাজার এগার সালে পাকিস্তানে আমেরিকার এক অভিযানে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর আয়মান আল-জাওয়াহিরি আল-কায়েদার নেতৃত্ব নেন।

আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন এবং আল-জাওয়াহিরি এক সাথে আমেরিকার ওপর যুদ্ধ ঘোষণা করেন, এবং ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের আক্রমণের আয়োজন করেন।বলে অভিহিত করেন।

আল-জাওয়াহিরি মিশরের ইসলামি জিহাদ নামক জঙ্গি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ওসামা বিন লাদেন ২০১১ সালের মে মাসে মার্কিন বাহিনীর হাতে নিহত হবার পর আল-জাওয়াহিরি আল-কায়েদার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

তার আগে আল-জাওয়াহিরিকে ওসামা বিন লাদেনের ডান হাত আর আল-কায়েদার মূল চিন্তাবিদ বলে গণ্য করা হত।

অনেকে মনে করেন আয়মান আল-জাওয়াহিরিই ছিলেন ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর আমেরিকায় হামলার মূল রূপকার।

ঠিকাদার জটিলতায় আটকা চায়না ইকোনোমিক জোনের কাজ

ঠিকাদার জটিলতায় আটকা চায়না ইকোনোমিক জোনের কাজ

বঙ্গবন্ধু টানেল রোডের লাগোয়া কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে ৭৮৩ একর জায়গায় ৩৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে পাঁচ বছর আগে চীন সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয় চট্টগ্রামের চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের। কিন্তু প্রকল্পের কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সাড়ে ৩ বছর ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। বিশেষ এ অর্থনৈতিক জোনকে ঘিরে আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানসহ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যে স্বপ্ন দেখা গিয়েছিল তা ফিকে হয়ে যাচ্ছে।বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির (বেজা) কর্মকর্তারা বলছেন, ‘চীন সরকারের সঙ্গে জি টু জি ভিত্তিতে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান পরিবর্তিত হয়েছে। তবে নতুন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি না হওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। চুক্তি হলে পুরোদমে কাজ শুরু হবে।’

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভিসেসের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বেজার জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে চীনা কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু নতুন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগে বিলম্বের কারণে প্রকল্পটি স্থবির হয়ে আছে।

বেজা সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরকালে চীনা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে তাদের শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার আগ্রহ ব্যক্ত করে। তখন চীন সরকার তাদের বিনিয়োগকারীদের সমুদ্রবন্দর-সংলগ্ন চট্টগ্রাম অঞ্চলে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) ও শিল্পাঞ্চল গড়ার পরামর্শ দেয়। অতঃপর চীন সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বেজার মধ্যে ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ স্থাপনের জন্য সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য ৪২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৮৩ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ ও আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার চুক্তি সই করেন। পরে চীন সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজের জন্য ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান হিসেবে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে মনোনীত করে। ২০১৭ সালের জুন মাসে চায়না হারবারের সঙ্গে বেজা’র চুক্তি হয়।

চুক্তি সইয়ের পর প্রায় ৫ বছর পার হলেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোন। কাছেই রয়েছে কোরিয়ান ইপিজেড। ইকোনমিক জোন ঘেঁষে চলে গেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের মূল সড়ক। পিচঢালা সড়ক থেকে নেমে ইটবিছানো রাস্তা দিয়ে প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার যেতে হয়। প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেল, ইকোনমিক জোনের গেট বন্ধ। গেটের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে ভেতরে গিয়ে দেখা গেল, টিলার ওপর তৈরি করা হয়েছে একটি ছোট ভবন। চারদিক খাঁ খাঁ করছে। বিস্তীর্ণ পাহাড়ী এলাকা। ভবনের ভেতরে ইকোনমিক জোনের প্রস্তাবিত শিল্পাঞ্চলের সুদৃশ্য নকশা। প্রকল্পের কোথায় কী ধরনের শিল্প স্থাপন করা হবে তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নকশায়।

ভবনটিতে থাকেন চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভিসেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনয় বাড়ৈ। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে ২০১৯ সাল থেকে কার্যত প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। কবে আবার কাজ শুরু হবে জানেন না জানিয়ে তিনি বলেন, মাঝেমাঝে মিরসরাই ইকোনমিক জোন থেকে একজন কর্মকর্তা এসে ঘুরে যান। তিনিও এ ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেননি।

চায়না হারবারের নিয়োজিত এ কর্মকর্তা জানান, কাজ বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ২০০ একর পাহাড়ী এলাকা সমান করা হয়েছে। পিএবি সড়ক থেকে ইকোনমিক জোন পর্যন্ত ৪০ ফুট চওড়া এক কিলোমিটার এবং বৈরাগ এলাকা থেকে ইকোনমিক জোন পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক তৈরি করা হয়েছে। বৈরাগ অংশে প্রায় এক কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

জানা যায়, বিশেষায়িত এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কেবল চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য শিল্প স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফার্মাসিউটিক্যাল, গার্মেন্ট, আইটি, রাসায়নিক, টেলিযোগাযোগ, কৃষিনির্ভর শিল্প, প্লাস্টিক পণ্য প্রভৃতি ৩৭১ ধরনের শিল্প স্থাপনের কথা রয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কখন হবে তা রয়েছে অনিশ্চয়তায়।

বেজার মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) দয়ানন্দ দেবনাথ বলেন, চীনা কর্তৃপক্ষ ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করায় ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের কাজ বন্ধ রয়েছে। নতুন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। চুক্তি হলেই নতুন করে কাজ শুরু হবে। কবে নাগাদ এ চুক্তি হতে পারে নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, চায়না ইকোনমিক জোন ঘিরে চট্টগ্রামে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকা এবং বিস্তীর্ণ জায়গা অব্যবহৃত পড়ে থাকা দুঃখজনক। তিনি বলেন, একই সঙ্গে চুক্তি হলেও যেখানে বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের পথে সেখানে চায়না ইকোনমিক জোনের কাজ শুরু করতে না পারা দুঃখজনক। যদি কোনো জটিলতা থেকে থাকে তা নিরসন করে দ্রুত প্রকল্পের কাজ দরকার।

-দেশ রূপান্তর

বিস্ফোরণের দায় ডিপো কর্তৃপক্ষের

বিস্ফোরণের দায় ডিপো কর্তৃপক্ষের

শামসুল ইসলাম :

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোর বিস্ফোরণের ঘটনায় ডিপো কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার গঠিত তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে ডিপোগুলোর কার্যক্রম তদারকিতে নিয়োজিত ২৫ সংস্থার সমন্বয়হীনতার বিষয় উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে। ডিপোগুলোতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ২০ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে কমিটি।

 বুধবার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিনের কাছে ১৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার প্রতিবেদন বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএম ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কে সরকারের সর্বোচ্চ মহল অবগত। আমরা এই তদন্ত প্রতিবেদক সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেব।’

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনাকালে কমিটির সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থল বিএম কন্টেইনার ডিপো ও ডিপোতে থাকা হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আল রাজী কেমিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা বিএম কন্টেইনার ডিপো ও আল রাজী  কেমিক্যালসের দুই মালিক মোস্তাফিজুর রহমান ও মুজিবুর রহমানসহ মোট ২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে বিএম কন্টেইনার ডিপোর দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জিয়াউল হায়দার ও জিএম মার্কেটিং নাজমুল আকতার খানের কাছে তদন্ত কমিটি নোটিস পাঠালেও তারা দুজন কমিটির কাছে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কোনো বক্তব্য দেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জিয়াউল হায়দার বিএম কন্টেইনার ডিপোতে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ৩১ মে সর্বশেষ তিনি ডিপোতে যান। আর নাজমুল আকতার খান দুর্ঘটনার পর পুলিশের দায়ের করা মামলার আসামি।

বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোগুলোর কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা কাস্টমস, চট্টগ্রাম বন্দর, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার তদারকি কার্যক্রম এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ডিপো কর্তৃপক্ষের কমপ্লায়েন্স কার্যক্রমের প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি।

ঘটনার পর বিভিন্ন মহল থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমানের মালিকানার বিষয়টি গৌণ করে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মুজিবুর রহমান ও তার ভাই মোস্তাফিজুর রহমানকে বিএম ডিপোর ৫১ শতাংশের ও আল রাজী কেমিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের শতভাগ মালিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

১১৮টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হতো পুরো কন্টেইনার ডিপো। সাতটি ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডিং (ডিভিআর) মেশিনে এসব তথ্য সংরক্ষণ করা হলেও মেশিনগুলো পুড়ে যাওয়ায় সিসিটিভির কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তদন্তকালে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজের কোনো ব্যাকআপও পাওয়া যায়নি। যে কারণে অগ্নিকা-ের সূত্রপাতসহ তদন্ত-সংশ্লিষ্ট অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। একটি বিদেশি অংশীদারিত্বের প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে প্রযুক্তিগতভাবে সংরক্ষিত তথ্যের কোনো ব্যাকআপ না থাকা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। ভিডিও ফুটেজ না পেলেও ডিপোতে থাকা রাসায়নিক থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে মন্তব্য করেছে তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ‘মূলত তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই আমরা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এগুলো হলো বিস্ফোরণ ও অগ্নিকা-ের কারণ, দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন।’ তিনি বলেন ‘আমরা সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী, ডিপোর মালিকপক্ষ, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়েছি। হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও সেখানকার দায়িত্বশীলদের বক্তব্য গ্রহণ করেছি। তদারকি সংস্থাগুলোর তদারকি কার্যক্রম ও ডিপোর কমপ্লায়েন্স কার্যক্রমও পর্যালোচনা করেছি। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় এনে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছি। এতে আমরা ভবিষ্যতে ডিপোগুলোর সুষ্ঠু কার্যক্রম পরিচালনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এড়াতে ২০ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছি। তবে এটাই যে চূড়ান্ত তা নয়, এ ঘটনায় আরও বৃহত্তর তদন্তও হতে পারে।’

গত ৪ জুন রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত বিএম কন্টেইনার ডিপোতে প্রথমে আগুন ও পরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আগুন নেভাতে যাওয়া ৯ জন ফায়ার ফাইটারসহ ৫০ জন মারা যান। আহত হন দুই শতাধিক।

ঘটনা তদন্তে ৫ জুন ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন খান, কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার ডা. আবু নুর রাশেদ আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুফিদুল আলম, সেনাবাহিনীর মেজর আবু হেনা মো. কাউসার জাহান, চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম, ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী আকতার।

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোর বিস্ফোরণের ঘটনায় ডিপো কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার গঠিত তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে ডিপোগুলোর কার্যক্রম তদারকিতে নিয়োজিত ২৫ সংস্থার সমন্বয়হীনতার বিষয় উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে। ডিপোগুলোতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ২০ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে কমিটি।

গতকাল বুধবার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিনের কাছে ১৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার প্রতিবেদন বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএম ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কে সরকারের সর্বোচ্চ মহল অবগত। আমরা এই তদন্ত প্রতিবেদক সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেব।’

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনাকালে কমিটির সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থল বিএম কন্টেইনার ডিপো ও ডিপোতে থাকা হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আল রাজী কেমিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা বিএম কন্টেইনার ডিপো ও আল রাজী  কেমিক্যালসের দুই মালিক মোস্তাফিজুর রহমান ও মুজিবুর রহমানসহ মোট ২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে বিএম কন্টেইনার ডিপোর দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জিয়াউল হায়দার ও জিএম মার্কেটিং নাজমুল আকতার খানের কাছে তদন্ত কমিটি নোটিস পাঠালেও তারা দুজন কমিটির কাছে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কোনো বক্তব্য দেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জিয়াউল হায়দার বিএম কন্টেইনার ডিপোতে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ৩১ মে সর্বশেষ তিনি ডিপোতে যান। আর নাজমুল আকতার খান দুর্ঘটনার পর পুলিশের দায়ের করা মামলার আসামি।

বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোগুলোর কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা কাস্টমস, চট্টগ্রাম বন্দর, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার তদারকি কার্যক্রম এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ডিপো কর্তৃপক্ষের কমপ্লায়েন্স কার্যক্রমের প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি।

ঘটনার পর বিভিন্ন মহল থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমানের মালিকানার বিষয়টি গৌণ করে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মুজিবুর রহমান ও তার ভাই মোস্তাফিজুর রহমানকে বিএম ডিপোর ৫১ শতাংশের ও আল রাজী কেমিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের শতভাগ মালিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

১১৮টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হতো পুরো কন্টেইনার ডিপো। সাতটি ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডিং (ডিভিআর) মেশিনে এসব তথ্য সংরক্ষণ করা হলেও মেশিনগুলো পুড়ে যাওয়ায় সিসিটিভির কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তদন্তকালে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজের কোনো ব্যাকআপও পাওয়া যায়নি। যে কারণে অগ্নিকা-ের সূত্রপাতসহ তদন্ত-সংশ্লিষ্ট অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। একটি বিদেশি অংশীদারিত্বের প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে প্রযুক্তিগতভাবে সংরক্ষিত তথ্যের কোনো ব্যাকআপ না থাকা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। ভিডিও ফুটেজ না পেলেও ডিপোতে থাকা রাসায়নিক থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে মন্তব্য করেছে তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ‘মূলত তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই আমরা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এগুলো হলো বিস্ফোরণ ও অগ্নিকা-ের কারণ, দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন।’ তিনি বলেন ‘আমরা সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী, ডিপোর মালিকপক্ষ, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়েছি। হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও সেখানকার দায়িত্বশীলদের বক্তব্য গ্রহণ করেছি। তদারকি সংস্থাগুলোর তদারকি কার্যক্রম ও ডিপোর কমপ্লায়েন্স কার্যক্রমও পর্যালোচনা করেছি। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় এনে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছি। এতে আমরা ভবিষ্যতে ডিপোগুলোর সুষ্ঠু কার্যক্রম পরিচালনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এড়াতে ২০ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছি। তবে এটাই যে চূড়ান্ত তা নয়, এ ঘটনায় আরও বৃহত্তর তদন্তও হতে পারে।’

গত ৪ জুন রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত বিএম কন্টেইনার ডিপোতে প্রথমে আগুন ও পরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আগুন নেভাতে যাওয়া ৯ জন ফায়ার ফাইটারসহ ৫০ জন মারা যান। আহত হন দুই শতাধিক।

ঘটনা তদন্তে ৫ জুন ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন খান, কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার ডা. আবু নুর রাশেদ আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুফিদুল আলম, সেনাবাহিনীর মেজর আবু হেনা মো. কাউসার জাহান, চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম, ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী আকতার।

-দেশ রূপান্তর