চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু ১হাজার ছাড়াল
সরকারের কঠোর বিধি নিষেধেও থামছেনা চট্টগ্রামে করোনার উর্ধ্বগতি। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বুধবার সকালে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মঙ্গলবার একদিনেই চট্টগ্রামের করোনা আক্রান্ত ১৬জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ১০ জন বিভিন্ন উপজেলায় এবং ৬ জন মহানগর এলাকায়। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১হাজার ১০জনে।
এদিন বিভিন্ন ল্যাবে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার মোট ৩হাজার ৬৭৯টি জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তন্মধ্যে ১ হাজার ২৮৫ জনের নমুনায় কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। আক্রান্তের হার ৩৪ দশমিক ৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, নগরীর বাইরে হাটহাজারীতে ৮০জন, রাউজানে ৭৮জন, সীতাকুন্ডে ৫১জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৫৩জন, বোয়ালখালিতে ৪২জন, পটিয়ায় ৩০ জন, বাঁশখালীতে ২০জন, লোহাগাড়ায় ২০জন, সন্দ্বীপে ১৮ জন, মিরসরাইয়ে ১৪ জন, সাতকানিয়ায় ১০ জন, আনোয়ারায় ৮ জন ও চন্দনাইশে ২জন আক্রান্ত হয়েছেন।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, এখানে করোনায় মৃত্যু এক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত এলার্মিং। টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে অনেকে এখনো উদাসীন। যার প্রতিফলন ঘটছে এখানে। তিনি জানান, প্রথম দিকে নগরীর তুলনায় গ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটা কম হলেও এখন গ্রামাঞ্চলেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১হাজার ১০জনের মধ্যে ৫৯৭ জন মহানগরীর এবং ৪১৩ জন রয়েছে নগরীর বাইরের।
মাস্ক এর জন্য জরিমানার ক্ষমতা দেয়ার চিন্তা পুলিশকে
নিউজ মেট্রো প্রতিনিধি :
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মাস্ক না পারলে পুলিশও যাতে জরিমানা করতে পারে, সেই বিধান চালু করতে যাচ্ছে সরকার। অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মূলত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এই জরিমানা করে থাকেন।
করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে চলমান বিধিনিষেধ ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ১১ আগস্ট থেকে গণপরিবহন, দোকানপাট, অফিসসহ সবকিছু সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে ৭ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ১৪ হাজার কেন্দ্রে একযোগে করোনার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এতে বয়স্ক মানুষ অগ্রাধিকার পাবেন। একই সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষ, দোকানদার, গণপরিবহনের কর্মীদের নিজ নিজ ওয়ার্ড থেকে টিকা নিতে হবে। টিকা না নিয়ে কেউ কোনো কর্মস্থলে আসতে পারবেনা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিকার পাশাপাশি মাস্ক পরিধান করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যদি এটিকে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই, তাহলে পুলিশকেও ক্ষমতা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
যারা মাস্ক পরবে না, যাতে তাদের কিছুটা হলেও জরিমানা করতে পারে। এ বিষয়ে অধ্যাদেশ লাগবে। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। হয়তো বা আমরা সেদিকেও যাব। ’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের হাতে এখন প্রায় সোয়া কোটি টিকা আছে। তা ছাড়া এ মাসে আরও প্রায় এক কোটি টিকা হাতে এসে পৌঁছাবে। স্থানীয়ভাবেও টিকা উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। ইতিমধ্যে চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি কোম্পানি মিলে স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের কাজও অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিও পাওয়া গেছে।
মশক নিধনে বুধবার থেকে চসিকের মাসব্যাপী বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া সংক্রমণে প্রতিরোধে চট্টগ্রাম মহানগরীতে মশক নিধনে বুধবার থেকে মাসব্যাপী বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এসময় অত্যাধুনিক মেশিনে মশার ওষুধ ছিটানো হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ২৫জন স্প্রেম্যান ওষুধ ছিটাবেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী মঙ্গলবার এসব তথ্য জানান।
মশক নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিরুপন ও প্রয়োগ পদ্ধতির ভিন্নতা নির্ধারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত¡ বিভাগের গবেষণা প্রতিবেদনলব্ধ একটি নতুন ইতিবাচক মাত্রা যুক্ত করেছে বলে মন্তব্য করে সিটি মেয়র বলেন, এর ভিত্তিতে ৪ আগস্ট থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে মাসব্যাপী বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালিত হবে। প্রতিদিন ৪টি করে মোট ৪১টি ওয়ার্ডে ১০ দিন মশার ওষুধ ছিটানোর পর আবার পুন:কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অর্থাৎ প্রতিটি ওয়ার্ডে একমাসে তিনবার ওষুধ ছিটানো হবে। এর বাইরে নিয়মিত কার্যক্রমও চলবে। এভাবে মাসব্যাপী কার্যক্রমে ১০০জন জনবল সম্পৃক্ত থাকবে। একই সাথে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক প্রচার কার্যক্রম চলবে। তিনি জানান, মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য অত্যাধুনিক মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের সাথে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ১হাজার ৫শত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ২৫জন স্প্রেম্যান ওষুধ ছিটাবেন।
মেয়র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত¡ বিভাগ এর গবেষণালব্ধ প্রতিবেদনকে অত্যন্ত ফলপ্রসু প্রস্তাবনা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, গবেষণালব্ধ প্রতিবেদন তৈরীর জন্য চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার কে অনুরোধ জানালে তিনি তাতে সাড়া দিয়ে গুরুত্বের সাথে গবেষণা কর্ম সম্পাদনে সচেষ্ট ছিলেন এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে কীটতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকগণ যে প্রতিবেদন দিয়েছেন তা সত্যিই নগরবাসীর জন্য বড় প্রাপ্তি। এ জন্য চবি উপাচার্যসহ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরীতে সংশ্লিষ্ট সকলকে মেয়র ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মশক নিধনে এ ধরণের বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনই এই প্রথম বারের মত পেয়ে সারাদেশে মশক নিধনে দিক নির্দেশনামূলক উপায় অন্বেষণের পথ দেখিয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরিণ আখতার মশক নিধনে চসিকের কার্যক্রমেকে অর্থবহ ও ফলপ্রসু করতে গবেষণালব্ধ প্রতিবেদন তৈরীর জন্য চবিকে দায়িত্ব দেয়ায় সন্তোষ ও পরিতৃপ্তি জানিয়ে বলেন, এই দায়িত্বটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের এবং গর্বেরও। আমরা চেষ্টা করেছি, একটি কার্যকর ও ফলপ্রসু প্রস্তাবনা ও সুপারিশ সমৃদ্ধ গবেষণালব্ধ প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে। এতে মেধা, যোগ্যতা ও সামর্থকে উজার করে দিয়েছি। এতে যদি মশক নিধন সফল হয় আমাদের শ্রম সার্থক হবে। তিনি জানান, প্রতিবেদন তৈরীতে বিশেষজ্ঞ টিম ৯৯টি এলাকা পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ৫৭ টি স্পট থেকে লার্ভা সংগ্রহ করা হয়। এ সংগৃহীত লার্ভার মধ্যে ১৫টি স্পটে লার্ভার শতভাগই ছিলো এডিস, এনাপলিস ছিলো ৩৯টিতে। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয় যে, ফগার মেশিনের চেয়ে স্প্রে-মেশিনে ওষুধ ছিটানো হলে তার কার্যকারিতা ফলপ্রসূ হবে। তবে ফগার মেশিনে ছিটানো ওষুধের ভিন্নতা আনলে এর কার্যকারিতা পূর্ণতা পাবে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে প্রাকৃতিক ভাবে মশা প্রজনন প্রতিরোধ সম্ভব। এ ধরণের মাছ লার্ভা খেয়ে বিনাশ করে। এ ছাড়া পুদিনা পাতা, লেবু পাতা, তুলসী পাতা, নিমপাতার, তেজপাতার ঘ্রাণ মশা প্রজনন প্রতিরোধ করে। চবি ভিসি এ প্রসঙ্গে সুপারিশ করেন যে, সিটি কর্পোরেশনের যে সকল আইল্যান্ড আছে সেখানে এ ধরণের উদ্ভিদের চারা রোপন করা হলে মশা নিধন অনেকটা সহজ সাধ্য হবে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শহিদুল আলমের সভাপতিত্বে প্রতিবেদন উপস্থাপন সভায় বক্তব্য রাখেন-বিশেষ অতিথি চবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর বেনু কুমার দে, প্যানেল মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন, বর্জ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী, শৈবাল দাশ সুমন, চসিক সচিব খালেদ মাহমুদ, চবি গবেষণা টিমের আহবায়ক সহযোগী অধ্যাপক রবিউল হাসান, ড. মো. ওমর ফারুক, ড. তাপসী বোস, ড. এইচ.এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম প্রমুখ। চবি গবেষণা টিমের আহবায়ক অধ্যঅপক রবিউল হাসান প্রতিবেদনটি প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রেজেন্টেশন করেন।
বাংলাদেশে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন পেল কোভ্যাক্সিন
নিউজ মেট্রো ডেস্ক:
করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারতের নিজস্ব উদ্ভাবিত টিকা কোভ্যাক্সিন বাংলাদেশে ট্রায়ালের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) এ অনুমোদন দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগেই কোভ্যাক্সিন টিকা দেশে ট্রায়ালের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং যুক্তির ওপর ভিত্তি করে আমরা এ অনুমোদন দিয়েছি। এই টিকার ট্রায়ালে আর কোনো বাধা নেই।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) বেশ কয়েক মাস আগে এই টিকা ট্রায়ালের জন্য বিএমআরসির কাছে অনুমতি চেয়েছিলো। আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী কে জামান এ ট্রায়ালের প্রধান গবেষক। তবে কবে নাগাদ ট্রায়াল শুরু হবে, সেই বিষয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
করোনা মোকাবিলায় ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি ও উদ্যোগে তৈরি প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র টিকা কোভ্যাক্সিন। ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যভিত্তিক ওষুধ ও টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেক এ টিকার উদ্ভাবক।
চট্টগ্রাম নগরীতে দেয়া হবে দিনে দেড় লাখ ডোজ টিকা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী আগামী ৭ আগস্ট থেকে পরবর্তী ছয় দিনে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডে কমপক্ষে ৬শ ডোজ করে দেড় লক্সাধিক ডোজ মর্ডানা কোভিড-১৯ টিকা প্রয়োগের কার্যক্রম বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে বলেন, সরকার সামর্থ্য ও সক্ষমতার সর্বশক্তি দিয়ে কোডিভ-১৯ সংক্রমণ রোধে টিকাকে সর্বসাধারণের দ্বোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে পেরেছে। এর আওতায় নগরীতে যারা টিকা নিতে ১৮ বছরের উর্দ্ধে যৌগ্য বা আগ্রহী তারা কেউ বাদ পড়বে না। কোভিড-১৯ সংক্রমণ ও মৃত্যুর উর্দ্ধগতি হারের মধ্যেও এটা শুভ ও স্বস্তিদায়ক বার্তা। তিনি আজ রোববার সকালে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউ হলে অনুষ্ঠিত মর্ডানা (কোভিড-১৯) ভ্যাক্সিনেশন গ্রহণ ও প্রয়োগ সম্পর্কিত অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
তিনি ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইনের প্রায়োগিক কর্মপদ্ধতি তুলে ধরে বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি করে বুথে প্রতিদিন ২শ করে কমপক্ষে ৬শ ডোজ টিকা দেয়া হবে। প্রতিটি বুথে ২জন প্রশিক্ষিত ভ্যাক্সিনেটর ও ৩জন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সিনিয়র সিটিজেন, নিবন্ধনকৃত নাগরিক, আবেদনকৃত নাগরিক ও কাউন্সিলরদের কাছে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীরা টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, সোমবার থেকে স্বা স্ব ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের কাছে সরবরাহকৃত ফর্মে যে-কেউ আবেদন করতে পারবেন।
মেয়র কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেনিং কার্যক্রমে কাউন্সিলরদের ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ মুখ্য বিষয়। কারণ তারা এলাকাবাসীর ভাল-মন্দ ও সুবিধা-অসুবিধার সাথে সরাসরি যুক্ত। ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইনিং কার্যক্রম সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের জন্য একটা বড় ধরণের সুযোগ। তারা এলাকাবাসীর ভোটে নির্বাচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই কাজটি ভাল ভাবে সম্পাদন করতে পারলে সকলের বিশ^াস ও আস্থাভাজন হতে পারবেন। চসিক নগরীতে প্রথম পর্যায়ে ভ্যাক্সিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা সফল ভাবে পূরণ করতে পেরেছে।
তিনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ হারের উর্দ্ধগতির পাশাপাশি ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া বিস্তারের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। তবে এর বিস্তার ঢাকার মত এখনো প্রকট না হলেও এখন থেকে তা প্রতিরোধে সতর্ক হতে হবে। নগরীরর কোথাও, বাসা-বাড়ি, খোলা জায়গায় পরিষ্কার পানি যাতে জমতে না পারে সে দিকে কাউন্সিলদের দেখভাল ও তদারকী করতে হবে।
তিনি মশক নিধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করে বলেন, এ ক্ষেত্রে ছিটানো ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় ও সরঞ্জামগত অপ্রতুলতা থাকলেও সামর্থ্য অনুযায়ী সবকিছু করা হচ্ছে। মশার ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই-বাছাইয়ে চবি’র প্রাণ রসায়ন, অনুপ্রাণ বিজ্ঞান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের বিশেষজ্ঞদের একটি টিমের গবেষণা প্রতিবেদন আগামীকাল মঙ্গলবার আমাদের কাছে আসবে। এর ভিত্তিতে মশক নিধনে ৩০ দিনের ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করা হবে।
স্বাস্থ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সভপতি কাউন্সিলর জহর লাল হাজারীর সভাপতিত্বে ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলম। সভায় ক্যাম্পেন প্রেজেনটেশন উপস্থাপন করেন ডা. সরওয়ার আলম। সভায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সংরক্ষিত কাউন্সিলর, বিভাগীয় প্রধান ও কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি নেতারা টিকা নিয়ে বরাবরই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন -তথ্যমন্ত্রী
ভূমধ্যসাগর থেকে বাংলাদেশীসহ ৩৯৪ অভিভাসন প্রত্যাশী উদ্ধার
নিউজ মেট্রো ডেস্ক :
ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া সমুদ্র এলাকা থেকে রবিবার ৩৯৪ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে৷ জার্মানি ও ফ্রান্সের বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত উদ্ধারকারী জাহাজ সি-ওয়াচ ৩ ও ওশান ভাইকিং নৌকায় ভাসতে থাকা এসব মানুষকে উদ্ধার করে৷ উদ্ধারকৃতরা বাংলাদেশ, মরক্কো, মিশর ও সিরিয়ার নাগরিক। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্স জানায়, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় মানুষগুলো একটি কাঠের নৌকায় করে তারা সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছিলেন৷ ইঞ্জিন বিকল হয়ে নৌকাটি সমুদ্রে ভাসছিল বলে জানা গেছে৷ অভিবাসনের প্রত্যাশায় লিবিয়া ও তিউনিসিয়া হয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা বাড়ছে৷ জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচএসিআর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ৪৭ হাজার ৪২৫ অভিবাসনপ্রত্যাশী অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন৷

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, রবিবার ভূমধ্যসাগর থেকে যেসব অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের অনেকেই নৌকা থেকে লাফিয়ে পড়ে সি-ওয়াচ ৩ এর নৌকায় ওঠার চেষ্টা করেছেন।
আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় সম্প্রতি লিবিয়া এবং তিউনিশিয়া থেকে ইতালি এবং ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ভূমধ্যসাগরে ছোট ছোট নৌকায় চেপে প্রায়ই ইউরোপের উদ্দেশ্যে তাদের যাত্রা শুরু করেন।
চট্টগ্রামে করোনায় একদিনে মারা গেছেন ১১, নতুন আক্রান্ত ৯২৭
নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামে করোনায় একদিনে মারা গেছেন ১১জন। সেই সঙ্গে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৯২৭ জন। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
শনিবার সকালে পূর্ববর্তী চব্বিশ ঘন্টায় চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতির প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিভিল সার্জন কার্যালয়। এতে দেখা যায়, চট্টগ্রামের আটটি ল্যাবে মোট ৩ হাজার ১৯৩জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে মোট ৯২৭ জন করোনা পজিটিভ হিসাবে সনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে মহানগর এলাকা ৫৩২ জন ও উপজেলা এলাকার ৩৯৫ জন রোগী রয়েছেন। সনাক্তের হার ২৯ দশমিক শূণ্য তিন শতাংশ।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নগরীর বাইরে উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে হাটহাজারীতে। সেখানে ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০৩ জন। এছাড়া রাউজানে ৬৪ জন, পটিয়া ৪৯ জন, চন্দনাইশে ৪৫ জন, সাতকানিয়ায় ৩০ জন, স›দ্বীপে ২৪ জন, ফটিকছড়িতে ২২জন, বোয়ালখালিতে ১৭ জন, বাঁশখালীতে ১০ জন, মিরসরাইতে ১০ জন, সীতাকুন্ডে ৯জন, লোহাগাড়ায় ৮জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩জন ও আনোয়ারায় ১জন করোনা পজিটিভ সনাক্ত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল একদিন বের হবে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার জন্য জিয়াউর রহমানকে পুনরায় অভিযুক্ত করে বলেছেন, ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল সেটা একদিন বের হবে।
তিনি বলেন, ‘হত্যার বিচার হয়েছে। তবে, এই ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল, একদিন সেটাও আবিষ্কার হবে। কিন্তু, আমাদের কাজ একটা ছিল- প্রত্যক্ষভাবে যারা হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার করা। আর সব থেকে বড় কাজ এই দেশ এবং দেশের মানুষ নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন- দেশের মানুষের উন্নয়ন করা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন করাটাকেই আমি সব থেকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। তাই, পেছনে কে ষড়যন্ত্র করেছে, কি করেছে সেদিকে না গিয়ে আমার প্রথম কাজ হচ্ছে এই ক্ষুধার্ত দরিদ্র মানুষগুলোর ভাগ্য পরিবর্তন করে তাঁদের জীবন মান উন্নত করা।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে শোকের মাসের প্রথম দিনে আসন্ন শোক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ধানমন্ডী ৩২ নম্বরের জাতির পিতা ম্মৃতি জাদুঘর সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অংশ গ্রহণ করেন। এ সময় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভেনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তও অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিল।
জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ’ উদ্ধৃতি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রক্ত জাতির পিতাও দিয়ে গেছেন। কারণ, যখন এদেশের মানুষকে তিনি মুক্ত করেছেন তখন যারা স্বাধীনতা বিরোধী বা যারা বিজয় চায়নি তারা তাঁকে হত্যা করেছে।’
এই সময় প্রধানমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারি হিসেবে আত্মস্বীকৃত খুনী ফারুক-রশিদের স্বেচ্ছায় বিবিসিকে দেয়া ইন্টারভিউ অনুযায়ী সাবেক সেনা শাসক জিয়াউর রহমানকে নেপথ্য শক্তি হিসেবে উল্লেখের তথ্য এবং পরবর্তীতে ধারাবাহিক ভাবে খুনীদের পুরস্কৃত করায় জিয়া, এরশাদ এবং খালেদা জিয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁর (জাতির পিতার) রক্তের ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে।’
তিনি রক্তদান কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে বলেন, এই রক্তদানের মাধ্যমে আমরা একজন মুমূর্ষু রোগীকেও যদি বাঁচাতে পারি, সেটাই হবে সব থেকে বড় কথা। কেননা, মানবকল্যাণে আপনি দান করছেন।
তিনি বলেন, বাবা, মা, ভাই সব হারিয়েছি কিন্তু একটা আদর্শকে নিয়েই পথ চলি, যে কথাগুলো ছোটবেলা থেকে বাবার মুখে শুনেছি, সেই স্বপ্নটাকে আমার বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশ^ দরবারে বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে চলতে পারে।
অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাবেক কৃষিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়–ুয়া, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলি বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজক কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দের সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, এমপি বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বেগম মতিয়া চৌধুরী দুঃস্থ কৃষকদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেন।
-বাসস
