হাজারো রহস্যেঘেরা ‘কামচাটকা’
বরফে মোড়া আগ্নেয়গিরির উপত্যকা। আর সেখানেই লুকিয়ে হাজারো রহস্য। রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপ এ রকমই এক রহস্যের আধার। সেখানে রহস্য এবং জীববৈচিত্র একে অপরকে পাল্লা দেয়।
হিমশীতল এই প্রান্তের একটি ছোট উপত্যকায় রহস্য ছড়িয়ে আছে পরতে পরতে। সেখানে জীবজন্তু প্রবেশ করে। কিন্তু আর বাইরে বার হতে পারে না। গ্রীষ্মে যখন বরফ গলতে শুরু করে, এই উপত্যকায় ঢোকে খরগোস, পাখি-সহ বিভিন্ন জীবজন্তু।
তাদের মধ্যে বেশির ভাগই তৎক্ষণাৎ সেখানে মারা যায়। নেকড়ের মতো শিকারি ঝাড়ুদার পশুরা সেখানে সহজেই খাবার পেয়ে যায়। শিয়াল, ঈগল থেকে শুরু করে ভল্লুকের মতো বড় প্রাণীও ১.২ মাইল লম্বা মৃত্যুফাঁদে পা দিয়েছে।
কী ভাবে মৃত্যু হয় প্রাণীগুলির? তীব্র ঠান্ডায় তাদের নিথর দেহগুলি অবিকৃত থাকে। বাইরে থেকে কোনও অসুখ এবং আঘাতের চিহ্নও দেখা যায় না। তবে তাদের মৃত্যুর জন্য কে দায়ী?

রাশিয়ার ইনস্টিটিউট অব ভলক্যানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি-র আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির লিয়োনোভের ধারণা, প্রাণীগুলির মৃত্যুরহস্যের কারণ হল আগ্নেয়গিরি। এই মত তিনি প্রচার করেছিলেন ১৯৭৫ সালে। সে বছরই তিনি এই উপত্যকার অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন।
জনশ্রুতি, এই উপত্যকা থেকে মৃত জীবজন্তুর দেহ নিয়মিত ভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। কে করে সেই কাজ? সে তথ্য আজও অন্ধকারে। সাতের দশকের মাঝে লিয়োনোভের ছাত্র এবং গবেষণায় সহকারী ভিক্টর দেরিয়াজিন দাবি করেন, রুশ সেনাবাহিনী এই উপত্যকার অস্তিত্ব জানতে পেরেই সক্রিয় হয়ে ওঠে। হেলিকপ্টার পাঠিয়ে উপত্যকা থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।
কামচাটকা উপদ্বীপের জনসংখ্যা সাড়ে ৩ লাখেরও কম। এখানে বেশির ভাগ আগ্নেয়গিরিই অতি সক্রিয়। বরফে ঢাকা আগ্নোগিরির এই উপত্যকাকে ইউনেস্কো ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ এর তকমা দিয়েছে। অনুমতি সাপেক্ষে এর বহু অংশেই যাওয়া যায়। উৎসাহী, গবেষক এবং পর্যটকরা যানও এই উপদ্বীপে।
তবে উপত্যকার ‘ভ্যালি অব ডেথ’ অংশে সাধারণের প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ। গেজারনায়া নদীর কাছে এই অংশে আছে বিপজ্জনক তুষারখাঁড়ি। সব জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে হিমশীতল প্রাণীর দেহ।

সোভিয়েত আমলে এই মৃত্যু উপত্যকার খবর দেওয়া হয়েছিল রুশ সরকারকে। ভূবিজ্ঞানীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তড়িঘড়ি সেখানে পাঠানো হয়েছিল হেলিকপ্টার। ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল মৃত প্রাণীদের। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
এই উপত্যকায় পা রাখলেই নাকি মাথা ঝিমঝিম করে। ঘুম পায়। এমনকি, মাথাব্যথাও করে। এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে বহু বিজ্ঞানী এবং গবেষকেরই। কিন্তু এখনও অবধি কোনও মানুষের মৃত্যু সেখানে হয়নি।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, সালফার ডাই অক্সাইড, হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের মতো গ্যাসের কারণেই জীবজন্তুরা মারা গিয়েছে। যে পরিমাণ গ্যাস এই উপদ্বীপে আছে, তার থেকে বেশি থাকলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।
মৃত্যুর কারণ হিসেবে কার্বন ডাই অক্সাইডের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। মৃত্যু উপত্যকার বাতাসে এই মারণগ্যাসের উপস্থিতি এতটাই বেশি যে, জীবজন্তুরা শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে নিজেদের অজান্তেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ফলে তাদের দেহে কোনও আঘাতের চিহ্নই থাকে না।
রাশিয়ার মৃত্যু উপত্যকা আবিষ্কার হওয়ার পরে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জল্পনা কল্পনা। লিয়োনোভ যখন এই উপত্যকা আবিষ্কার করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন এখানে যারা আসে, তারা সকলেই আতঙ্কিত হয়ে থাকে।
পাশাপাশি, তিনি এও চেয়েছিলেন উপত্যকা ঘিরে রহস্য দ্রুত দূর হয়ে প্রকাশিত হোক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। তাঁর আশা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। প্রত্যন্ত এবং ভয়ঙ্কর এই উপত্যকা ঘিরে বিজ্ঞানীদের গবেষণা চলছে। ভবিষ্যতেও এই উপত্যকা আরও অনেক গবেষণার আকর হয়ে উঠবে বলে আশা বিজ্ঞানীদের।
সূত্র : আনন্দবাজার
ইডিইউতে ভাষা শহীদদের স্মরণ
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এবং ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ ও সম্মান জানাতে আজ রবিবার ২১ ফেব্রুয়ারি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি (ইডিইউ) আয়োজন করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। ভোরে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সিকান্দার খানের নেতৃত্বে প্রভাতফেরীর মধ্যদিয়ে ইডিইউ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন, একটি জাতির পরিচিতি তার ভাষায়। বিশ্বের বুকে প্রতিটি জাতি নিজের ভাষা-সংস্কৃতির মাধ্যমেই স্বকীয় স্থান তৈরি করে নেয়। বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়া মূলত বাঙালি জাতিসত্তাকে ধ্বংস করে দিতে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ঘৃণ্য চক্রান্ত। কিন্তু হাজার বছরের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা বাঙালি জাতি এর প্রতিবাদে বাংলার মাটি প্রকম্পিত করে। বাঙালি জাতিসত্তার অনন্যতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে একুশে ফেব্রুয়ারি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান বলেন, ভাষা আন্দোলন বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা ছিলো না। বাঙালির দীর্ঘ স্বাধীকার আন্দোলনের সূত্রপাত ছিলো বায়ান্ন, যা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ভিত গড়ে দিয়েছিলো। ভাষার মর্যাদা রক্ষার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন সালাম-বরকতেরা, আমাদেরও তা অনুসরণ করতে হবে।
রেজিস্ট্রার সজল কান্তি বড়ুয়ার সঞ্চালনায় ও স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অ্যাসোসিয়েট ডিন ড. মো. নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন স্কুল অব বিজনেসের অ্যাসোসিয়েট ডিন ড. মোহাম্মদ রকিবুল কবির, স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কুল অব লিবারেল আর্টসের অ্যাসোসিয়েট ডিন মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং বক্তব্য রাখেন প্রক্টর ও সহকারী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান, অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক অনন্যা নন্দী প্রমুখ।
-প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সাংবাদিক মুজাক্কিরের খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি
নিউজ মেট্রো প্রতিনিধি :
নোয়াখালীতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা। গতকাল দুপুর ১২টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাব, কোম্পানীগঞ্জ উপজলো ও চাটখিল উপজলোয় মানববন্ধনও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করে।
মানববন্ধনে বক্তারা খুনের সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে চিহ্নিত করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। লাশ নিয়ে যেনো কেউ রাজনীতি করতে না পারে সে বিষয়েও হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।
সাংবাদকি নেতারা বলেন, আগেও অনেক সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় এ ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বখতিয়ার শিকদার, আলমগীর ইউসুফ, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন বিষাদ, সাংবাদিক সমিতি কেন্দ্রীয় সদস্য আবু নাছের মঞ্জু, ফুয়াদ হোসেন, মাহবুবুর রহমানসহ সাংবাদিক নেতারা।
এদিকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুুজাক্কিরের নিহতের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে প্রেসক্লাব কোম্পানীগঞ্জ। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারের বঙ্গবন্ধু চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এইচএম মান্নান মুন্না, প্রেসক্লাব কোম্পানীগঞ্জের সভাপতি হাসান ইমাম রাসেল ও সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন রনি।
মানববন্ধনে বক্তারা রাজনৈতিক সহিসংসতার বলি হওয়া এই তরুণ সংবাদকর্মীর নিহতের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল অনুুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে চাটখিল উপজেলার সাংবাদিকরা।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশীরহাট পূর্ববাজার এলাকায় দু’গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে চিত্র ধারনের সময় গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক মুজাক্কির। গুরতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢামেকের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে মুজাক্কিরের মৃত্যু হয়।
বিবিআরডিসির যাত্রা শুরু
বাংলাদেশ বিজনেস রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল’র যাত্রা শুরু
ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কিত গবেষণা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রনয়ণ এবং নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রত্যয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ বিজনেস রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল- বিবিআরডিসি। চট্টগ্রাম নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্ট অনুষ্ঠিত কাউন্সিল সভায় সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
রবিবার ( ২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত কাউন্সিল সভায় বিবিআরডিসি’র নতুন যাত্রার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংগঠনের উদ্যোক্তা প্রিয় রঞ্জন দে ।
এতে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এর স্টাফ রিপোর্টার শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, চট্টগ্রাম ওয়াসার একাউন্টস অফিসার রক্তিম দেব, ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট এম আই চৌধুরী এন্ড কোং এর পরিচালক মীর মো: রাশেদুল হাসান মামুন, বিএসআরএম এর সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মো: মনজুর হোসেন, টিকে গ্রæপের ইন্টারনাল অডিটর মো: ইমরান হোসেন । সভায় অনলাইনে থেকে অংশগ্রহন করেন বাংলাদেশ টি বোর্ড এর একাউন্টস অফিসার সাগর নন্দী ও অগ্রনী ব্যাংকের সিনিয়র অডিটর বিজয় পাল।সভায় বিবিআরডিসি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে প্রিয় রঞ্জন দে তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্যে দ্রুত অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। এই অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ব্যবসায়িক গবেষনা, নীতি প্রনয়ন ও ব্যবসা বাণিজ্যে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ন। এই লক্ষ্যে বিবিআরডিসি ভবিষ্যতে অগ্রনী ভূমিকা রাখবে।
-প্রেস বিজ্ঞপ্তি
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাও সংরক্ষণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
নিউজ মেট্রো প্রতিনিধি :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা করে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমাদের অন্যভাষা যেমন শিখতে হবে তেমনি মাতৃভাষাও শিখতে হবে। সেই সাথে আমাদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাটাও সংরক্ষণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ করা গেলে তারা সেই ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। সেজন্য আমরা যখন বিনামূল্যে বই দিচ্ছি তখন তাদের বইগুলো ছাপিয়ে বিনামূল্যে দিয়ে দিচ্ছি, যাতে তারাও নিজের ভাষা শিখতে এবং কথা বলতে পারে, সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউট আয়োজিত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি আজ বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউটে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষার অধিকার রক্ষা করা, ভাষাকে সম্মান দেয়া এবং পৃথিবীর হারিয়ে যাওয়া ভাষাগুলো সংরক্ষণের জন্যই আমি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউট গড়ে তুলেছি। ভাষা নিয়ে পড়াশোনা, ভাষার ইতিহাস সংগ্রহ করা এবং এ ব্যাপারে যারা শিক্ষা ও গবেষণা করবেন তাঁরা যেন সুযোগ পান সে ব্যবস্থা এখানে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের, আমরা রক্ত দিয়ে ভাষার কথা লিখে গিয়েছি। কাজেই অন্য ভাষাগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, এর অস্তিত্ব যে আছে সেটা যেন প্রকাশ পায়, সেজন্য আমরা এই ব্যবস্থা নিয়েছি। কাজেই এটা আমি মনে করি বাংলাদেশের জন্য একটা সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানকে দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে উন্নীত করায় তিনি ইউনেস্কোকে ধন্যবাদও জানান।
ভাষা নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকার এ বছর থেকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক-২০২১’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা আন্তর্জাতিক পদক-২০২১’ প্রবর্তন করেছে। প্রতি দুই বছর অন্তর এই সম্মাননা প্রদান করা হবে।
জাতীয় অধ্যাপক বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক রফিকুল ইসলাম এবং খাগড়াছড়ি জাবরং ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বাংলাদেশে বিদ্যমান বিভিন্ন মাতৃভাষার কার্যক্রম ও বিকাশ প্রশস্ত করার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মত ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক-২০২১’ এ ভূষিত হন।
উজবেকিস্তানের ইসমাইলভ গুলম মির জায়ালিজ এবং বলিভিয়ার অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এ্যাক্টিভিজমো লিংগুয়ান বা ল্যাংগুয়েজ এ্যাকটিভিজম ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা আন্তর্জাতিক পদক-২০২১’ এ ভূষিত হন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম এবং মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা’র হাতে পদক তুলে দেন। উজবেক ইসমাইলভ গুলম মির জায়ালিজ-এর পক্ষে ঢাকায় উজবেকিস্তানের অনারারি কনস্যাল তাহের শাহ এবং বলিভিয়ার সংস্থার পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন পুরস্কার গ্রহণ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। ইউনেস্কোর হেড অব অফিস এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধি বিটট্রেস কালডুন বক্তৃতা করেন। বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী ‘ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহব্বু হোসেন স্বাগত ভাষণ দেন।
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী এবং মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. জীনাত ইমতিয়াজ আলী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মিশন প্রধান এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শেরপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৬ জন নিহত
নিউজ মেট্রো প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ৬ জন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার ভোর ৫টার দিকে শেরপুর উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে বগুড়া অভিমুখী এসআর পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বেপরোয়া গতিতে বগুড়ার দিকে যাওয়ার সময় বিপরীতমুখী পাথরবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে বাস ঘটনাস্থলেই বাস ও ট্রাকের চালকসহ ৬ জন মারা যান। আহত হন আরও অন্তত ১০ জন।
আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ। আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। রাত ১২টা ১ মিনিট থেকেই সারাদেশের শহীদ মিনারগুলোতে ফুল দিয়ে ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে পুরো জাতি।
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।
একুশের প্রথম প্রহরেই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর পরপরই সর্বস্তরের জনতার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় শহীদ মিনার। স্বাস্থ্য বিধি মেনে অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে বিভিন্ন সংগঠন। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও আজ সকাল থেকে শহীদ মিনারমুখী মানুষের দীর্ঘ লাইন পড়েছে।
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২১ উপলক্ষে বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করছে সর্বস্তরের মানুষ। একুশে ফেব্রুয়ারি রোববার প্রথম প্রহরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরী। এর পরেই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ এনডিসি, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আনোয়ার হোসেন, সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, পুলিশ সুপার এস.এম রশিদুল হকচট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তা ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বাঙালি জাতির জন্য এই দিবসটি হচ্ছে চরম শোক ও বেদনার। অনদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত। যে কোন জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার-মরতে জানা ও মরতে পারার উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদরা জাতিকে সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন।
১৯৫২ সালের এদিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠির চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে।
মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।