মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা ২ এপ্রিল
নিউজ মেট্রো প্রতিনিধি :
দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস আগামী ২ এপ্রিল এবং ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটগুলোর বিডিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. আহসান হাবিব জানান, ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু হবে। অনলাইনে নির্ধারিত আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে। চলবে ১ মার্চ পর্যন্ত। ২০ থেকে ২৫ মার্চ এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেয়া হবে।
এছাড়া, বিডিএস কোর্সের আবেদন শুরু হবে ২৭ মার্চ। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে আর ডেন্টালে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিতরণ করা হবে। ২ এপ্রিল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রামের-দোহাজারী রুটে ডেমু ট্রেন উদ্বোধন
নিউজ মেট্রো প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম-দোহাজারী ও চট্টগ্রাম-পটিয়া রুটে চালু হয়েছে দুই জোড়া ডেমু ট্রেন।রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন শনিবার দুপুরে দোহাজারী রেল স্টেশন চত্বরে এ ট্রেনের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে এখানে ডেমু ট্রেন দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করার লক্ষে সামনে আরও ট্রেন সম্প্রসারিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি মেগা প্রকল্পের মধ্যে দুটি রেলওয়ের প্রকল্প রয়েছে। একটি পদ্মাসেতুর সঙ্গে রেল যোগাযোগ, আরেকটি মিয়ানমার, চীন ও ভারতের সঙ্গে রেল সংযোগ প্রকল্প।
তিনি বলেন, রেল চলাচল আরামদায়ক ও নিরাপদ।এজন্য রেললাইন সংস্কার ও রেলের উন্নয়নে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের রেল যোগাযোগ উন্নত করার লক্ষে দোহাজারীতে একটি অত্যাধুনিক জংশন হবে। যোগাযোগের পাশাপাশি এখানে অনেকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইনের কাজ শেষ করে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী, পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন ।
৯২৫৬ সুন্দরী লড়বে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ-২০২০ প্রতিযোগিতায়
নিউজ মেট্রো ডেস্ক :
মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ-২০২০ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করছেন ৯২৫৬ জন সুন্দরী।পর্যায়ক্রমে অডিসনের মাধ্যমে বাছাই এবং গ্রুমিং শেষে আগামী মার্চ মাসে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ-২০২০ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে । আগামী মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মিস ইউনিভার্সের মূল আয়োজনে অংশ নেবেন বাংলাদেশ পর্বের বিজয়ী।
‘আমার আত্মবিশ্বাস, আমার সৌন্দর্য’– এই শ্লোগান নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ-২০২০। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মূল আয়োজনের সময় পরিবর্তন করে ২০২১ সালে নেওয়া হয়ে।
এবারের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার নিবন্ধন শুরু হয় গত ১৩ জানুয়ারি হতে ৪ ফেব্রুয়ারি নিবন্ধন শেষ হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মোট ৯২৫৬ জন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেন।
শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য তুলে ধরেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, নিবন্ধনের জন্য প্রথমে ১০০০ টাকা আবেদন ফি নির্ধারণ করা হলেও সামগ্রিক করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিবন্ধন ফি তুলে নেওয়া হয়। ফলে নিবন্ধন ফি ছাড়াই আবেদন করেন প্রতিযোগীরা। প্রথম পর্যায়ে যারা পূর্ব নির্ধারিত ফি দিয়ে নিবন্ধন করেছিলেন তাদের ফি মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়।
‘২০১৯’ সালে প্রথমবার ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত বিজয়ী হন শিরিন আক্তার শিলা।
পরবর্তীতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতার ৬৮তম আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের ওয়েবসাইট ww.missuniverse.com.bd এবং অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ www.facebook.com/MUBangladesh এ প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
আইপিএল নিলামে সর্বোচ্চ দরের তালিকায় সাকিব
নিউজ মেট্রো স্পোর্টস :
আসন্ন আইপিএলের নিলামে সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য ২ কোটি রুপির তালিকাভূক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এ তালিকায় রয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আরো ১০ জন ক্রিকেটার। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের চেন্নাইতে এ নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।নিষেধাজ্ঞার কারণে গত মৌসুমে আইপিএলে ছিলেন না সাকিব ।
আসন্ন আইপিএল নিলামের জন্য বিভিন্ন দেশের মোট ১০৯৭ জন খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এর মধ্যে ভারতের রয়েছেন ৮১৪ জন। বাংলাদেশের ৫জন সহ অন্যান্য দেশের মোট ২৮৩ জন খেলোয়াড় রয়েছেন।
সাকিবের মতো সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য ২ কোটি রুপির তালিকায় থাকা অন্যরা হলেন-কেদর যাদব, হরভজন সিং, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, স্টিভ স্মিথ, মঈন আলি, স্যাম বিলিংস, লিয়াম প্লাঙ্কেট, জেসন রয়, মার্ক উড এবং কলিন ইনগ্রাম।
আল জাজিরার প্রতিবেদন দুরভিসন্ধিমূলক : বিপিএসএ
নিউজ মেট্রো ডেস্ক :
কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরায় ২ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত ‘অল দি প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ শীর্ষক প্রতিবেদনকে ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনের সভাপতি ও ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জায়েদুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় পুলিশের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সব প্রকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি। পুলিশ সদস্যদের সব ধরনের অপেশাদার আচরণ ও মাদকের সঙ্গে পুলিশের যেকোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি প্রদর্শন করে চলেছেন’।
আইজিপি পুলিশের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম, ‘দুর্নীতি রোধে কাজ করছেন। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনে ফৌজদারি অথবা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না’।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সর্বোচ্চ জবাবদিহি ও পেশাগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও নিয়েছে নানা পদক্ষেপ। সর্বোপরি, আধুনিক বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে তিনি পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন, যা ইতিমধ্যে বাস্তব রূপ লাভ করেছে। তার এ উদ্যোগ জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। করোনাকালে বর্তমান আইজিপির নেতৃত্বে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে পুলিশ সদস্যরা পেশাদারি, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন’।
‘এ দায়িত্ব পালনকালে এ পর্যন্ত ৮৫ পুলিশ সদস্য জনগণের সেবায় আত্মোৎসর্গ করেছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৯ হাজার পুলিশ সদস্য’।
পুলিশের এ সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আলজাজিরার প্রতিবেদনে জনৈক ব্যক্তির বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার কর্তৃক উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে ওসির পদায়নের কথা উল্লেখ করেছেন। ওই ব্যক্তি আদৌ এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন নাকি কাট, কপি ও পেস্ট করে এ বক্তব্য তৈরি করা হয়েছে সে সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ বিদেশে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানের কারণে বর্তমান প্রজন্মের পুলিশিং এবং পুলিশের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে তার কোনো স্বচ্ছ ধারণা নেই। উপরন্তু বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান প্রজন্মের অফিসারদের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। সাক্ষাৎকারে পুলিশ সম্পর্কে তার প্রদত্ত বক্তব্য কল্পনা নির্ভর মর্মে প্রতীয়মান হয়’।
প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘জনৈক ব্যক্তি তার বক্তব্যে ডিএমপি’র এয়ারপোর্ট থানায় ওসি বদলি সম্পর্কে বক্তব্য দিয়েছেন। ডিএমপি’র এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের অধিক্ষেত্র অন্যান্য থানার মতো বিস্তৃত নয়। ডিএমপি’র ৫০টি থানার আয়তনের দিক বিবেচনায় সবচেয়ে ক্ষুদ্র আয়তনের থানা এয়ারপোর্ট থানা। এ থানা এলাকায় অন্যান্য থানার তুলনায় কমসংখ্যক জনগণ বসবাস করেন। এ ছাড়া, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টটি, এয়ারপোর্ট থানার মধ্যে অবস্থিত হলেও এয়ারপোর্ট ও তৎসংলগ্ন সংরক্ষিত এলাকায় এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের কর্মপরিধি অত্যন্ত সীমিত। এয়ারপোর্ট ও তৎসংলগ্ন সংরক্ষিত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), এ্যাভসেক, ইমিগ্রেশন পুলিশ, কাস্টমস, সিভিল অ্যাভিয়েশন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আনসারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দায়িত্ব পালন করে থাকে। এ ক্ষেত্রে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে বা যৌক্তিকভাবে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের প্রয়োজন হলে সুরক্ষিত এয়ারপোর্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাই দায়িত্ব পালন করে থাকে’।
‘এ ক্ষেত্রে কোনো ঘটনায় মামলা রুজু করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধি এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ দাখিল করেন এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে থানায় সোপর্দ করেন। এয়ারপোর্টের সব ধরনের কার্যক্রম সিসিটিভি মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাগণ এয়ারপোর্ট থানার কার্যক্রম সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন। অধিকন্তু, এয়ারপোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা টহল কার্যক্রম ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পালন করে থাকে’।
‘প্রতিবেদনে জনৈক ব্যক্তি তার বক্তব্যে এয়ারপোর্ট থানার ওসি বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি মহোদয় এবং ডিএমপি কমিশনার মহোদয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন সৎ, সজ্জন এবং আদর্শ রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে সর্বমহলে সুপরিচিত। থানায় ওসি পদায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী তিনি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য একজন সম্মানিত ব্যক্তি সম্পর্কে এ ধরনের বক্তব্য অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। বর্তমান আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ ‘ক্লিন ইমেজের’ একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত। পুলিশ প্রধান হিসেবে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের প্রশাসনিক কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী থানায় ওসি বদলি বা পদায়নে ক্ষেত্রে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নন’।
প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তির পুলিশে বদলি/পদায়ন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই। ডিএমপি’র বর্তমান পুলিশ কমিশনার একজন দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত। তিনি পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর পরই থানায় আগত সেবা প্রত্যাশীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং যথাযথ আইনি সেবা পান সে লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সে ক্ষেত্রে থানায় ওসি বদলি/পদায়নে উৎকোচ গ্রহণের প্রসঙ্গের অবতারণা বাতুলতামাত্র। এতে প্রমাণিত হয় যে, বাংলাদেশ পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিষয় সম্পর্কে উক্ত ব্যক্তির কোনো ধারণাই নেই। এ ধরনের বক্তব্য তার কল্পনাপ্রসূত এবং বানোয়াট’।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের সূচনাকারী বাংলাদেশ পুলিশের প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণের প্রতি অবিচল আস্থা এবং শ্রদ্ধা রেখে দেশ ও জনগণের কল্যাণে অহর্নিশ কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ পুলিশ দেশের যে কোনো প্রয়োজন ও সংকটে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে অঙ্গীকারবদ্ধ। আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ও লক্ষ্য পূরণে যখন বাংলাদেশ পুলিশ এগিয়ে যাচ্ছে, যখন ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশের উপযোগী করে বাংলাদেশ পুলিশকে গড়ে তোলা হচ্ছে, তখন একটি মহলের এ ধরনের দুরভিসন্ধিমূলক প্রতিবেদন প্রচার অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত’।
আমার জীবনে ক্যান্সার অভিজ্ঞতা
নাসরিন সুলতানা খানম :
“I am and I will”
“আমি আছি, আমি থাকবো”
ক্যান্সার সচেতনতা দিবসের প্রতিপাদ্য। আর আমার জীবনের প্রতিক্ষণের বাঁচার মন্ত্র, উজ্জীবনী শক্তি।
বিশ্ব ক্যান্সার সচেতনতা দিবস আমার মত অসংখ্য ক্যান্সার যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ দিন।
মনে হলো এটি আমার বলার দিন। আমি চাই মানুষ জানুক, মানুষ বলুক। কষ্ট গোপন করে কেউ আর না কাঁদুক। এটি গোপন করার, গোপন রাখার মতো কোন বিষয় নয়। অন্যকে জানিয়ে সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরী করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কষ্টকে সবাই মিলে জয় করবো হাসিমুখে পরস্পরের সমব্যথী হয়ে এটাই চাওয়া।
২০১৯ আমার জীবনের মোড় ঘুরে যাওয়া এক যুদ্ধ বছর। আমার ক্যান্সার জীবনের সংস্পর্শের বছর। জীবনে সহজে ভেঙে না পড়া মানুষ আমি। আশাবাদ আর স্বপ্ন নিয়ে চলি। সেই আমিই সেদিন কিছুটা সময়ের জন্য থমকে গিয়েছিলাম আমার শরীরে ‘ক্যান্সার’ এমন এক অপ্রত্যাশিত খবরে।
তেমন কোন সমস্যা নেই, হঠাৎ একটু অন্যরকম ব্যথা অনুভব, ছোট মার্বেল সাইজ চাকার অস্তিত্ব এটুকুই। ভেবেছিলাম টিউমার হবে হয়তো। ক্যান্সার হতে পারে এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। সচেতন ছিলাম সবসময়। এ বিষয়ক নূন্যতম ধারণা ছিলো আগে থেকেই। নিজেই প্রাথমিক পরীক্ষা করতাম। তাই লক্ষণ দেখে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় গিয়েছিলাম।
দেরী করিনি একটুও। ডাক্তার দেখালাম। প্রাথমিক পরীক্ষা -নিরীক্ষা হলো রিপোর্ট সন্দেহজনক। চলে গেলাম টাটা মেডিকেল সেন্টারে। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা- নিরীক্ষা শেষে ডাক্তার জানালেন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত আমি। পৃথিবীর সমস্ত শূন্যতা আমাকে ঘিরে ধরেছিল। জীবন-মরণ ঘনিষ্ট অন্যরকম এক অনুভবের ক্ষণ সেটি।
ডাক্তার অভয় দিলেন, সচেতন ছিলাম বলে একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আমার রোগ শনাক্ত করা গেছে। এ অবস্থায় আরোগ্যের সম্ভাবনা ৯০%। বললেন, এটি একটি লড়াই। সময় আর ধৈর্য সাপেক্ষ লড়াই। আমাকে সেই লড়াই জিততে হবে। আমার সময় আর কষ্টের সাথে লড়তে হবে। অসীম ধৈর্য লাগবে। তবুও ঐ মুহূর্তে এই খবরটি মেনে নেয়ার মতো শক্তি আমার ছিলো না। ভেঙে পড়েছিলাম আমি।
আমার হাত ছুঁয়ে থাকা প্রাণের মানুষটি আমাকে আরও শক্ত করে ধরে রেখে জানান দিয়েছিলো, এ লড়াইয়ে তুমি একা নও; আমি সাথে আছি। পরিবারের সবাই জানিয়েছিলো, সাথে আছে ভয় নেই। কিছু বন্ধু, স্বজন দূরে থেকেও প্রতিমুহূর্ত একান্ত কাছে থেকেছে, খবর নিয়েছে, সাহস দিয়েছে।
তারপর থেকে প্রতিক্ষণের লড়াই; কখনো শরীরের, কখনো মনের, আর কখনো বা শরীর-মনের। পরিবারের স্বজনরা পরম ভালোবাসা, মমতায় প্রতিক্ষণ আগলে রেখেছিলো বলে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক কোন লড়াইয়ে ভেঙে পড়তে হয়নি আমাকে। অশেষ কৃতজ্ঞতা সবার প্রতি।
কিন্তু আমার মতো সৌভাগ্য সবার হয় না। আমি ক্যান্সার রোগীদের অসহনীয় কষ্ট দেখেছি। কারও অর্থ কষ্ট, কারও যত্নের অভাব, কারও সহযোগিতা ও সঙ্গ দেয়ার কেউ নেই, কারও চিকিৎসাজনিত যন্ত্রণা, কারও মৃত্যু যন্ত্রণা।
কতোরকম কষ্ট! নানারকমের পরীক্ষা, সার্জারি, রেডিয়েশন, ক্যামো, ঔষধ….. এক একটি যন্ত্রণাময় অধ্যায়। একেক জনের একেকরকম। এটি এমন এক রোগ যেখানে মানুষ কোন না কোনভাবে অসহায়। সবকিছু মেনে নিয়ে পরিস্থিতি ও সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে পথ চলতে হয় প্রতিটি ক্যান্সার যোদ্ধাকে। বাইরে থেকে বিষয়টা কতোটা কঠিন বুঝার উপায় নেই কারও। কাছ থেকে দেখলে অনেকটা বোঝা যায় হয়তো। রোগী আর পরিবার জানে প্রতিক্ষণের দুঃশ্চিন্তা, যন্ত্রণাগুলো। ভূক্তভোগী ছাড়া অতোটা সহজ নয় অনুমান।
এ লড়াইয়ে আমি জীবনকে নতুন করে জেনেছি, নতুন করে চিনেছি। আমি আমার ভেতরের শক্তিকে চিনেছি। বিপদের বন্ধু চিনেছি। আমি হারবো না বলে আপ্রাণ লড়েছি। এখন আমার বিশ্বাস মনে, আমি হয়তো জিতে গেছি।
আমি জেনেছি, ক্যান্সারে মৃত্যুটা বড় বিষয় নয়; দীর্ঘ কঠিন লড়াই লড়ে স্বাভাবিক জীবনে থাকতে পারার বিষয়টাই বড়। এটাই বেঁচে থাকা, এটাই জীবন।
দুঃখ লাগে যখন দেখি, ক্যান্সার সম্পর্কে মানুষের ধারণার অভাবে, কুসংস্কার আর জড়তার জন্য, পরিবারের সহযোগিতার অভাবে, সময়মতো রোগ শনাক্ত না হওয়ায়, ভুল চিকিৎসায়, যথাযথ চিকিৎসার অভাবে রোগী ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে এসে রোগের কথা জানতে পারে। তখন মৃত্যু অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। এটা সত্যি যে, ক্যান্সারের পর্যায় যাই হোক না কেন লড়াইটা কোন পর্যায়েই অতোটা সহজ নয়।
সচেতনতা, চিকিৎসা সবই আমাদের দেশে এখনো অপ্রতুল। তাই ক্যান্সার সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। মানুষকে জানাতে হবে। সময় থাকতে সচেতন হলে এ রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যাবে।
আসুন আমরা সবাই মানবিক হই, সমব্যথী হই।
চব্বিশ ঘন্টায় দেশে করোনায় ৭ জনের মৃত্যু
নিউজ মেট্রো ডেস্ক :
দেশে করোনায় মৃত্যুর হার ক্রমশ কমছে। শুক্রবার দুপুরে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত ৭ জন মারা যাবার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আগের দিন একই সময়ে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল সরকারি ওই দপ্তর।