Home Blog Page 46

রাত পোহালেই চসিক নির্বাচন

রাত পোহালেই চসিক নির্বাচন

নিউজ মেট্রো রিপোর্ট :

রাত পোহালেই বহুল আকাঙ্খিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। বিশেষ করে দুই প্রধান মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ মনোনীত এম. রেজাউল করিম চৌধুরী  (নৌকা) ও বিএনপি মনোনীত ডা. শাহাদাত হোসেন (ধানের শীষ)-এর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের আভাস মিলছে এবারের নির্বাচনে।

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রচারণার শেষ দিনে সোমবার বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে মিছিল-শ্লোগানে জমজমাট হয়ে ওঠেছিল নগরী। আজ নির্বাচন প্রচারণা বন্ধ থাকায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের অবস্থান নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে আলোচনা পর্যালোচনা। বিভিন্ন পর্যায়ের ভোটারদের মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মেয়র পদে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা বেশি।

তবে নির্বাচন পূর্ব অপ্রীতিকর নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে উৎসবের মাঝেও শংকা কাজ করছে বিভিন্ন প্রার্থী ও ভোটারদের মনে। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন নগরীর মোগলটুলি এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থককে গুলি করে হত্যার মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটেছে। ওই হত্যাকান্ডে একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীর বাসায় হামলা ও ফাঁকা গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া হামলার শিকার হয়েছে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাতের গাড়ি, তাঁর পক্ষের নির্বাচনী প্রচারণার গাড়ি। হামলার ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কার্যালয়েও। মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত অভিযোগ করেছেন, কতিপয় অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে। ৭ দিনের বিভিন্ন থানায় ১০টি সাজানো মামলা দেয়া হয়েছে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের বিরূদ্ধে। এসব মামলায় রোববার রাত পর্যন্ত ৬৯জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে সরাসরি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়েও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রায় ছয় বছর পর আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চসিক নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে গত ৮ জানুয়ারি থেকে চলে আসে জমজমাট প্রচারণা। নানা রঙে নানা ঢঙে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো নগরী। প্রধান দুই মেয়র প্রার্থী নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চষে বেড়িয়েছেন নগর জুড়ে। তিন সপ্তাহ ধরে কর্মী সমর্থকদের বহর নিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়েছেন তাঁরা । কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও ছুটে গেছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। পোস্টার লিফলেটে ছেয়ে গেছে নগরীর সবখানে। মাইকে বিভিন্ন গানের প্যারোডি বাজিয়ে চলেছে ভোটের প্রচারণা। দুই দলের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা এসে অংশ নিয়েছেন প্রচারণায়। শেষ মুহূর্তে ভোট ক্যাম্পেইনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে নৌকার পক্ষে ঢাকা থেকে আসা জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকাদের প্রচারণা। শেষ দিনে প্রার্থীরা শো-ডাউন করেছে বিভিন্ন এলাকায়। সোমবার রাত আটটায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শেষ হয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় নির্বাচন উৎসবের অন্যরকম আবহ সৃষ্টি হয় নগরীতে।

নির্বাচনকে ঘিরে নগরীতে বহিরাগতদের আগমন ও অবস্থানের অভিযোগ ওঠছে। গত রোববার রাতে নৌকার প্রার্থী এম রেজাউল করিমের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেছেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ও মানুষের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করার জন্য বিএনপি ও জামাত-শিবির সন্ত্রাসীদের জড়ো করছে। এদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহŸান জানান তিনি।

অন্যদিকে গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ধানের শীষের প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করে বলেছেন, নৌকার পক্ষে বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসীদের নিয়ে মিটিং করা হচ্ছে। বিভিন্ন কেন্দ্রের দায়িত্ব নিচ্ছে তারা। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এরা কি সিটি কর্পোরেশনের ভোটার। এরা কিভাবে কেন্দ্রে থাকবে। এসব বহিরাগতদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও সম্পূর্ণ দলীয়ভাবেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। দুই প্রধান রাজনৈতিক দল মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থীকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে পুরো নির্বাচন। বর্তমান সরকার আমলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম এবারের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ভোট আসবে বলে আশা করছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সম্পাদিত বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র বিমুখ ভোটাররা কেন্দ্রে নিয়ে সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদী বিএনপি নেতাকর্মীরা।

এ অবস্থায় আগামীকালের নির্বাচনকে ঘিরে নগরীতে উৎসবের আমেজ যেমন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয়ও বিরাজ করছে নগরবাসীর মধ্যে। তবে সকলের প্রত্যাশা একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই আসুক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নতুন মেয়র ও কাউন্সিলর।

ইশতেহারে ৩৭ প্রতিশ্রুতি রেজাউলের

ইশতেহারে ৩৭ প্রতিশ্রুতি রেজাউলের

নিউজ মেট্রো প্রতিনিধি :

আটটি খাতকে অগ্রাধিকার রেখে মোট ৩৭টি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীকে আরও এগিয়ে নিতে চান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘অঙ্গীকারের স্বপ্নের কাচ্চি বিরিয়ানি নয়, নগরের বিপুল জনগোষ্ঠীকে নূ্যূনতম সেবা দিতে পারাটাই আসল যোগ্যতা। সবার সহযোগিতা পেলে আমি যোগ্যতার পরীক্ষায় জিতব বলে আন্তরিকভাবে বিশ্বাসী।’ শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সাথে নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণাকালে এসব কথা বলেন তিনি।

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও ১০০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচিসহ আটটি খাতকে অগ্রাধিকার রেখে ইশতেহারে ৩৭টি প্রতিশ্রæতির সম্বলিত ইশতেহার পাঠ করেন আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী নিজেই। এসময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য শিক্ষাবিদ অনুপম সেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এড. সিরাজুল মোস্তফা, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক (সাবেক সিটি মেয়র) আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইশতেহারে জলাবদ্ধতা নিরসনকে প্রধান হিসেবে নিয়ে রেজাউল করিম বলেন, ‘নগরীর সবচেয়ে পুরানো ও বড় সংকট জলাবদ্ধতা তথা জলজট। মেঘ দেখলেই আমাদের গলা শুকিয়ে যায়। কাটে নির্ঘুম রাত। জলাবদ্ধতা ও জোয়ার জলের স্ফীতি রোধে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দশ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ দিয়েছেন। সিডিএ, ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশনসহ কিছু সেবা সংস্থা এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ওয়াসায় যুক্ত হয়েছে পয়ঃনিস্কাশন প্রকল্প। এসব মহাপ্রকল্প ঠিকভাবে বাস্তবায়নে অবশ্যই সর্বোচ্চ মনোযোগ থাকবে।

এছাড়াও মেয়র নির্বাচিত হলে ১০০ দিনের অগ্রাধিকার হিসেবে জলাবদ্ধতা নির্মূল মহাপরিকল্পনা ও নগর উন্নয়নে ডেল্টা প্ল্যান সঠিকভাবে বাস্তবায়নে যাতে ন্যূনতম বাধা ও দীর্ঘসূত্রিতা হবে না উল্লেখ করে রেজাউল করিম বলেন, সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সাথে বসে তা তদারকে অগ্রাধিকার দেবো। নির্বাচিত হলে নগরীর দখলকৃত খাল, নালা, নদী পুনরুদ্ধার ও পানি নিষ্কাশন উপযোগী করতে ১০০ দিনের মধ্যে সব ত্র“টি ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা নির্মূলে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করব।

পাশাপাশি নগরীর যানজট সমস্যা থেকে উত্তরণ ও সড়ক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নালা নর্দমা, খাল-নদী দখলদার উচ্ছেদ করে সবার সমন্বিত উদ্যোগে নাগরিক বান্ধব নগর গড়তে দ্রুত খাল, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অপচনশীল পলিথিন ও প্লাষ্টিক বর্জ্যরে আলাদা ডাম্পিং ইয়ার্ড করে রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে রপ্তানি উপযোগী গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরির উদ্যোগ নেয়া, চট্টগ্রামকে পর্যটন রাজধানী বানাতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পর্যটন খাত ও সৈকত পর্যটনে আধুনিক সুবিধা বাড়িয়ে এই খাত থেকে নগর উন্নয়নে বাড়তি আয়ের উপর জোর দেয় এবং হোল্ডিং ট্যাক্সের বিতর্ক অবসানে ডিজিটাল গৃহশুমারি করে বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন, ওভাবে যৌক্তিক হারে গৃহকর নির্ধারণ ও কর বিভাগে সর্বোচ্চ নজরদারি ও স্বচ্ছতা-দক্ষতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রতি দেন রেজাউল করিম।

ইশতেহারে রেজাউল করিম এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপহার চলমান প্রকল্প, মেগাপ্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নে বন্দরসহ সব সেবাখাতের উন্নয়ন কাজে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে জোরদার ভূমিকা ও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন, বন্ধ হয়ে যাওয়া নাগরিক পরিসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু, রূপসী চট্টগ্রামের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রাকৃতিক বৈচিত্র ও পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ ও ভূ প্রকৃতির ক্ষতি না করে উন্নয়ন কার্যক্রম চালু রাখা, ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হওয়ার কথা জানান।

ইশতেহারে আরও যা ছিল- পাহাড়, হ্রদ, বনানী সংরক্ষণ, সবুজায়ন, বেড়িবাঁধ ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে উপকুলসহ সামুদ্রিক জলোচ্ছ¡াস-প্লাবন থেকে নগর সুরক্ষায় গুরুত্ব দেয়া, কর্ণফুলী ও হালদা নদী দখল, দুষণমুক্ত করে নাব্যতা ফিরিয়ে এনে নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ-ষ্টিমার সেবা চালু করে নগর পরিবহনের বাড়তি চাপ কমানো, মশকমুক্ত নগর গড়তে কার্যকর ও পরিবেশ উপযোগী কীটনাশক প্রয়োগ ও বদ্ধ ডোবা, জলাশয় নিয়মিত পরিস্কার রাখা, অপরিকল্পিত স্থাপনা তৈরি, সড়ক ও ফুটপাত দখল কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা, নগরীর ব্যস্ততম সব কেন্দ্রে আধুনিক পাবলিক টয়লেট ও মহিলাদের জন্য নিরাপদ টয়লেট তৈরি করা, সব সড়ক ও গলি উপ-গলিতে পর্যাপ্ত এলইডি সড়ক বাতি ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো, সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো স্বল্প খরচে শিক্ষার মানসম্মত বিকাশে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেয়া, স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখতে নগরীর মানবতাবাদী ধনাঢ্য ব্যক্তি ও কর্পোরেট গ্র“পকে যুক্ত করা ও স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, চলমান হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বহির্সেবা কার্যক্রম উন্নত ও নতুন বহিঃবিভাগ চালু, কর্পোরেট ও ধনাঢ্যদের সহযোগিতা পেলে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীতে পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও ৫০০ বেডের হাসপাতাল গড়ে তোলা, অসচ্ছল নাগরিকরা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেতে নগরের প্রতি ওয়ার্ডে একটি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিক নিরাপত্তা জোরদারে সংশ্লিষ্ট সব এজেন্সীর সহযোগিতায় প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের নেতৃত্বে বিশিষ্ট নাগরিক সমন্বয়ে অপরাধ নির্মূল কমিটি গঠন, সাইবার দুষণ ও আসক্তি নির্মূলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ রাখার ওপর জোর দেয়া ইত্যাদি।

 

গৃহহীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা : তথ্যমন্ত্রী

গৃহহীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা : তথ্যমন্ত্রী

নিউজ মেট্রো প্রতিনিধি :

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মানুষের তিনটি মৌলিক চাহিদা, অন্ন বস্ত্র এবং বাসস্থান। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের অন্ন ও বস্ত্রের সমস্যার সমাধান অনেক আগেই করেছেন। এখন গৃহহীনদের মাথা গোঁজার জন্য ঠাঁই করে দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তিনি বলেন, বাসস্থানের সমস্যা এখনও আমাদের দেশে থেকে গেছে। এই সমস্যাকে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষে এবং স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তিতে সমস্ত গৃহহীন মানুষকে ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এবং দেশে কোন গৃহহীন মানুষ থাকবে না, সেই ঘোষণা দিয়েছেন। ৭০ হাজারের মতো পরিবারের কাছে জমিসহ ঘরের দলিল হস্তান্তর করে সেই ঘোষণা তিনি আজকে বাস্তবায়ন করে চলেছেন।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়নের ঘর ও জমির দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভুমিহীন ও গৃহহীনদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জমি ও ঘর প্রদান কর্মসুচি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে তথ্যমন্ত্রীসহ রাঙ্গুনিয়ার উপকারভোগী, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতারা উপভোগ করেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সহকারি কমিশনার (ভুমি) রাজিব চৌধুরীর সঞ্চালনায় দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, এডভোকেট আয়েশা আক্তার।
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুজিববর্ষে আমরা গৃহহীনদের ঘর করে দেবো। সেই ঘোষণা শুধু ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি তার রাষ্ট্রযন্ত্র ও দলকে কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। আজকে একদিনে ৭০ হাজারের মতো ঘর তিনি উদ্বোধন করেছেন।
তিনি বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে আজকে যারা ঘর পেয়েছে তারা কখনও ভাবেনি এই ধরণের দুই শতাংশ জমির মালিকানাসহ দুই রুমের একটি ঘর উপহার পাবেন। এই অভাবনীয় কাজ আজকে জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা করেছেন। আমার জানা নেই পৃথিবীর অন্য কোন দেশে এভাবে একই দিনে ৭০ হাজার পরিবারকে ঘর দেওয়া উদ্বোধন হয়েছে কিনা।
যারা ঘর পেয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা ঘর পেয়েছেন তারা কখনও চিন্তা করেননি জমিসহ এরকম একটি ঘর পাবে, কিন্তু তারা ঘর পেয়েছেন। এটি কোন সরকার দিয়েছে সেটি মনে রাখতে হবে। এটি দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার, নৌকা মার্কার সরকার, এটি দেশের সবধরনের ভোটের সময়ও মনে রাখতে হবে। ভোটের সময় আসলে অনেক রকমের দল আপনাদের সামনে হাজির হবে, তাদের বলতে হবে কখনো আমাদের খবর নাওনি, বদমাইশরা আবার এসেছো ধোঁকা দিতে, এমন করে তাদের জবাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, যদি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকে, এখন যে গৃহহীনরা ঘর পেয়েছে তা অন্যরা ক্ষমতায় এলে কেড়ে নেবে। নৌকা মার্কার সরকার ক্ষমতায় না থাকলে অন্য কাউকেও এভাবে আর কেউ ঘর করে দেবেনা। প্রধানমন্ত্রীর আহবানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ নিজের নির্বাচনী এলাকায় নিজের ও দলের নেতৃবৃন্দের অর্থায়নে এধরণের কমপক্ষে ৫০টি ঘর করে দেবেন বলেও আশ্বাস দেন।

শাহাদাতের ইশতেহারে ৯ ইস্যু অগ্রাধিকার

শাহাদাতের ইশতেহারে ৯ ইস্যু অগ্রাধিকার

নিউজ মেট্রো প্রতিনিধি
চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত, স্বাস্থ্যকর, শিক্ষাবান্ধব, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, সাম্য-সম্প্রীতির, নান্দনিক, তথ্য প্রযুক্তি ও সহনীয় গৃহকর সমৃদ্ধ নগরী হিসাবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে নিজেকে নেতা নয়-কর্মী মনে করি। নগর পিতা নয়, আমি ‘নগর সেবক’ হতে চাই। শনিবার দুপুরে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।
দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ঘোষিত ইশতেহারে চট্টগ্রাম নগরকে ঘিরে তাঁর নয়টি অগ্রাধিকারের বর্ণনা দেন এবং এসব বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। এসময় ডা. শাহাদাত বলেন, নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজন ও সময়ের পরিক্রমায় তা উন্নত হতে উন্নততর পর্যায়ে উন্নীত হয়। যার জন্য প্রয়োজন সততা আর নিষ্ঠার সাথে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ ও সফল বাস্তবায়ন। তাই অবাস্তব প্রতিশ্রæতির ফুলঝুড়ি নয়- প্রয়োজন ত্রæটিহীন পরিকল্পনা, বাস্তবায়নে অভিজ্ঞতা, অভীষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছানোর যৌক্তিক আকাঙ্খা এবং সততা ও দুর্ণীতিমুক্ত মানসিকতা।
তিনি বলেন, নগরবাসীর অধিকার সংবিধান নির্দিষ্ট করে দিলেও তা দিনে দিনে সংকুচিত হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনই পাওে বিদ্যমান উন্নয়ন অংশীদার সংস্থা সমূহের সাথে সমন্বয় সাধন করে নগরবাসীর দোরগোড়ায় উন্নয়ন পৌঁছে দিতে। মেয়র নির্বাচিত হলে এ প্রচেষ্ঠায় সফল হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ডা.শাহাদাত বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন নগর ও নগরবাসীর উন্নত জীবন গড়তে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা, নগরের সৌন্দর্যবৃদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ, নাগরিক বিনোদন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ দূষণ ও ভেজালমুক্ত করণ, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজমুক্ত করণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসন চ্যালেঞ্জ উত্তরণে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাতের ৯ অগ্রাধিকারের মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ‘জলাবদ্ধতা মুক্ত চট্টগ্রাম’। নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করার প্রতিশ্রæতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর একটি পাহাড়, সাগর ও নদী পরিবেষ্টিত শহর। পাহাড় হতে বৃষ্টির পানি বিভিন্ন খাল হয়ে শহরের মধ্য দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়। অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি মাটি পড়ে খাল ও নালা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে তা খালে গিয়ে পড়ে। যা নিরসনে শহরের মধ্যে প্রবাহিত খাল উদ্ধার করে তা পানি চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং খালের উভয় পাশ রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করা হবে। প্রতি বছর বর্ষার আগে শহরের সমস্ত খাল, নালা-নর্দমা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারসহ পানি চলাচলের উপযুক্ত করে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন করবো। ১৯৯১-১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় ইউএনডিপি এর সহায়তায় নালা নর্দমা সংস্কারের যে মাস্টার প্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছিল পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার তা বন্ধ করে দেয়। নির্বাচিত হলে সেটি পুনঃবাস্তবায়ন করবো।
চট্টগ্রামকে স্বাস্থ্যকর নগরী হিসাবে গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়ে শাহাদাত বলেন, কর্পোরেশন এলাকায় অবহেলিত বিভাগগুলোর মধ্যে অন্যতম স্বাস্থ্য বিভাগ। মহানগরের জনসংখ্যা গত ৫০ বৎসরে প্রায় ২০ গুণ বৃদ্ধি পেলেও নতুন কোনও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় শয্যা সংখ্যার অপ্রতুলতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় ১০টি বিশেষায়িত হাসপাতাল থাকলেও চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত নেই। চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত বন্দরনগরীর স্বাস্থ্য সেবার পরিধি বৃদ্ধিকল্পে অন্তত আরও ২ হাজার শয্যার পর্যাপ্ত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। সাথে সাথে শিশু হাসপাতাল, মাতৃসদন ও ট্রমা সেন্টারসহ বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। সেই সঙ্গে করোনা পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামে বিশ^মানের পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে যাতে নতুন রোগ নির্ণয় সহজসাধ্য হয়। নগরবাসীর স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে ‘মোবাইল মেডিকেল ইউনিট’ স্থাপনেরও প্রতিশ্রæতি দেন তিনি।
শিক্ষাবান্ধব চট্টগ্রাম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত কওে ডা. শাহাদাত বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অটোমেশনের আওতায় এনে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার মান উন্নয়ন, স্কুলে প্রবেশ, প্রস্থান, ক্লাস কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও পরীক্ষার ফলাফল সবকিছু যাতে অভিভাবকরা ঘরে বসে মোবাইলের মাধ্যমে মনিটরিং করতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। করপোরেশন পরিচালিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সরকারি নির্দেশনার আলোকে পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যত জীবনে নেতৃত্ব ও গুণাবলী অর্জনের নিমিত্তে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে রাখা ও আবাসন সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়ে মেয়র প্রার্থী শাহাদাত বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণের উন্নত সেবা নিশ্চিতকরণে বর্তমান গৃহকরের প্রয়োজনীয় বিন্যাস ও সরলীকরণ করাসহ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমি প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। এছাড়া নি¤œ আয়ের নগরবাসী, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের আবাসন গৃহ করমুক্ত করা হবে। হিজরা, ভবঘুরে ও ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করা হবে। শ্রমজীবীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কিস্তিতে আবাসন সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হবে।
সেবক হিসাবে পরিচ্ছন্নতাকে নির্বাচিত মেয়রের অন্যতম প্রধান কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশ বান্ধব নান্দনিক পর্যটন নগরী গড়তে পরিচ্ছন্নতার কোন বিকল্প নেই। মেয়র নির্বাচিত হলে চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগকে ঢেলে সাজিয়ে আধুনিকায়ন করা হবে। সেই সাথে উন্নত বিশে^র আদলে চট্টগ্রাম নগরীকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য পরিস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।
চট্টগ্রামকে নিরাপদ নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, সন্ত্রাস দমন ও মাদক বিরোধী কার্যক্রম জোরদারসহ এলাকাভিত্তিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র চালু করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচীর মাধ্যমে মাদকাসক্তি ঝুঁকি কমাতে সার্বিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হাজার বছরের ঐতিহ্যের আলোকে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় সহনশীলতা ও সম্প্রীতির মেলবন্ধনে আবদ্ধ করার প্রয়াস অব্যাহত রাখার মাধ্যমে সাম্য-সম্প্রীতির চট্টগ্রাম গড়ে তোলার প্রতিশ্রæতিও দেন শাহাদাত।
চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এজন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে পাহাড়, নদী, সমুদ্র, বিরল প্রকৃতির সৌন্দর্য্যরে আলোকে পর্যটন শিল্পের বিকাশ সাধন করা হবে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের লক্ষ্যে আইটি পার্কসহ আইটি উপ-শহর গড়ে তোলারও প্রতিশ্রæতি ব্যক্ত করেন বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী।
ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে জয়যুক্ত করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহŸান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট আপনার পবিত্র আমানত ও সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার রক্ষায় আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবেন।
ইশতেহার ঘোষণাকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এমি, নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

 

মুক্তিযোদ্ধা অভিনেতা দিলু আর নেই

মুক্তিযোদ্ধা অভিনেতা দিলু আর নেই

বিশিষ্ট অভিনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান দিলু আর নেই। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

সকালে ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে দিলুর বড় ভাই ন্যাটকার আতাউর রহমান লিখেছেন, ‘আমার ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা, কীর্তিমান মঞ্চ ও টেলিভিশন অভিনেতা মজিবুর রহমান দিলু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আজ সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে অসীমের যাত্রী হয়েছেন । সে  জীবনযুদ্ধে যেমন ছিল এক পরাক্রান্ত সৈনিক, তেমনি ছিল এক বর্ণিল জীবনের অধিকারী। তার আত্মার চির শান্তি কামনাই দেশবাসীদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা’ যোগ করেন আতাউর রহমান।’

জানুয়ারির শুরুর দিকে ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন ৬৯ বছর বয়সী মুজিবুর রহমান দিলু। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

১৯৫২ সালের ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অভিনেতা মুজিবুর রহমান দিলু। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী হন। ১৯৭৬ সাল থেকে টেলিভিশনে নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। বিটিভির কালজয়ী ধারাবাহিক নাটক সংশপ্তক এর মালু চরিত্রে অভিনয় করে মুজিবুর রহমান দিলুকে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। স্ত্রী রানী রহমান, দুই ছেলে অয়ন রহমান, অতুল রহমান ও এক মেয়ে তানজিলা মুজিবকে নিয়ে ঢাকার উত্তরায় তিনি থাকতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজ বাদে যোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে ‍দিলুর জানাজা হবে। পরে বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রাখা হবে তার মরদেহ। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আসরের পর বনানী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

 

ভারতের উপহার হিসাবে ২০ লাখ ডোজ টিকা আসছে বুধবার

ভারতের উপহার হিসাবে ২০ লাখ ডোজ  টিকা আসছে বুধবার

নিউজ মেট্রো প্রতিনিধি :

ভারত সরকারের উপহার হিসাবে আগামীকাল ‍বুধবার বাংলাদেশে আসছে  অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ডোজ করোনার টিকা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সোমবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, এটা এটা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন ‘কভিশিল্ড’। ভারত সরকারের উপহার হিসাবে এ টিকা আসছে।

ভারত সরকারের উপহার হিসেবে এই টিকা বাংলাদেশে এলে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাবে। সেই সঙ্গে ভারত থেকে টিকা পাওয়ার ব্যাপারে যে সংশয় দেখা দিয়েছিল, সেটারও অবসান হবে।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি টিকা কিনতে গত নভেম্বরে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও সেরাম ইনস্টিটিউটের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে ছয় মাসে এই টিকা বাংলাদেশ সরকারের কাছে পৌঁছে দেবে বেক্সিমকো। প্রতি টিকার দাম পড়ছে ৫ ডলার। বেক্সিমকো সরকারকে জানায়, জানুয়ারির শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির প্রথমে বাংলাদেশে এই টিকা আসা শুরু হবে।

ইসির চিঠিতে সিএমপির ৫ ওসি রদবদল

ইসির  চিঠিতে সিএমপির ৫ ওসি রদবদল

নিউজ মেট্রো প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনর দেড় সপ্তাহ আগে রদবদল করা হলো চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ৫ ওসি পদে। সোমবার সন্ধ্যায় এ রদবদল করা হয়। নির্বাচন কমিশনের চিঠির আলোকে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভির এ বদলির আদেশ দেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আদেশে কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিনকে ডবলমুরিং থানার ওসি, বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিনকে কোতোয়ালী থানার ওসি, , চকবাজার থানার ওসি মুহাম্মদ রুহল আমীনকে বাকলিয়া থানার ওসি, চাঁন্দগাও থানার ওসি আতাউর রহমান খোন্দকারকে চকবাজার থানার ওসি, ডিবি-উত্তরের পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে চাঁন্দগাও থানার ওসি পদে বদলি করা হয়েছে। ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশকে পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পাঁচ থানার ওসি রদবদলের বিষয়টি নিউজ মেট্রোকে নিশ্চিত করেছেন সিএমপি কমিশনার উপ-কমিশনার (সদর) আমির জাফর

 

দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন : রাষ্ট্রপ্রতি

দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন : রাষ্ট্রপ্রতি

নিউজ মেট্রো ডেস্ক (১৮ জানুয়ারি) :

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে দল-মতের পার্থক্য ভুলে আরো ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণে তিনি আরো বলেন, দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সুশাসন সুসংহতকরণ, গণতন্ত্র চর্চা ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।

আবদুল হামিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের লক্ষ্যে আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আসুন, দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমরা লাখো শহিদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।

জাতীয় সংসদকে দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষার ভাষণে আবদুল হামিদ বলেন, গণতন্ত্রায়ন, সুশাসন ও নিরবচ্ছিন্ন আর্থসামাজিক উন্নয়নে সকল রাজনৈতিক দল, শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে ঐকমত্য গড়ে তোলার সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি সরকারি দল ও বিরোধী দল নির্বিশেষে মহান জাতীয় সংসদে যথাযথ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারি ও বিরোধি দলের সংসদ সদস্যগণ অধিবেশনে অংশ নেন।
এর আগে আজ ৪টা ৫৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি অধিবেশনে প্রবেশ করেন। এ সময় নিয়ম অনুযায়ি জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করেন।

ভাষণে তিনি বলেন, শত বাধা বিঘœ আর প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সরকার দেশের উন্নয়ন, সুসাশন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডে জনগণের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ভাষণদানকালে রাষ্ট্রপতি অর্থনীতি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, খাদ্য-কৃষি, পরিবেশ-জলবায়ু, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরেন। এছাড়া দেশে আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা বহুমুখী সেতু’র দুই প্রান্তের মাওয়া ও জাজিরা সংযোগকারী সর্বশেষ ৪১তম স্প্যান স্থাপন করার মাধ্যমে সেতুর ছয় দশমিক এক-পাঁচ কিলোমিটার মূল অবকাঠামো দৃশ্যমান হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ জুলাই ২০২২ সাল নাগাদ সমাপ্ত হবে। এর ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে অন্যান্য অঞ্চলের সমম্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ৩ দশমিক তিন-দুই কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহু লেন বিশিষ্ট টানেলের নির্মাণকাজ ডিসেম্বর ২০২২ সাল নাগাদ সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে টানেলের ১ম টিউবের নির্মাণ শেষে গত ১২ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ২য় টিউবের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

শেখ হাসিনার দৃঢ়, প্রাজ্ঞ, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সাহসী সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি সাফল্যের সাথে মোকাবিলা করে এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
আবদুল হামিদ বলেন, এর ধারাবাহিকতায় প্রথিতযশা সাময়িকী ‘ফোর্বস’ কর্তৃক প্রকাশিত বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সফল রাষ্ট্রনায়ক ও নারী নেতৃত্বের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ জনিত প্যানডেমিকের সফল মোকাবিলা, অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন ও জীবনমান সচল রাখার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ প্রণীত ‘কোভিড-১৯ সহনশীল র‌্যাংকিং’-এ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ এবং বিশ্বে ২০তম স্থান অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে। এজন্য তিনি তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
আবদুল হামিদ বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিকেলস লিমিটেড এবং ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অব লাইফ সাইনসেস প্রাইভেট লিমিটেডের সাথে ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরাসরি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সিএমএসডির মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন ক্রয় বাবদ ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদান করা হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার খুব শিগগিরই দেশের জনগণকে কোভিড-১৯-এর টিকা প্রদান করতে পারবে।

আর্থিক খাত ব্যবস্থাপনায় সরকারের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপ্রধান হামিদ বলেন, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও উৎকর্ষ সাধন এবং প্রাজ্ঞ রাজস্ব নীতি ও সহায়ক মুদ্রানীতি অনুসরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

আবদুল হামিদ বলেন,আমরা আজ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দারপ্রান্তে। শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে পথে আমরা হাঁটছি, সে পথেই আমাদেরকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। এ বছর মধ্য-আয়ের দেশ হিসাবে আমরা স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী পালন করবো।

করোনার টিকা নিতে আ্যাপে তালিকাভূক্ত হতে হবে : পলক

করোনার টিকা নিতে আ্যাপে তালিকাভূক্ত হতে হবে : পলক

নিউজ মেট্রো প্রতিনিধি (১৮ জানুয়ারি)

দেশে কাউকে করোনা ভ্যাকসিন নিতে হলে প্রথমে এই অ্যাপে নিজেদের তথ্য দিয়ে তালিকাভুক্ত করতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সোমবার সাংবাদিকদের একথা জানান।

তিনি বলেন, দেশে করোনা ভ্যাকসিনের অনলাইন নিবন্ধন ও যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণে একটি সুরক্ষা অ্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখান থেকে সরকার ভ্যাকসিন গ্রহীতার সম্পর্কে তথ্য পাবেন, তেমনি যারা ভ্যাকসিন নেবেন, তারাও পরবর্তী আপডেট সম্পর্কে জানতে পারবেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে অ্যাপটি হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে সোমবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালিক জানিয়েছেন, চলতি মাসের ২৬ তারিখের মধ্যে দেশে করোনাভাইরাসের টিকা আসবে ভারত থেকে। এ টিকা ১৮ বছরের নিচের কাউকে দেওয়া হবে না। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদন করা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আনবে সরকার। এই টিকা আনার জন্য বাংলাদেশ সরকার, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল ও সেরামের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির কথা আগেই জানানো হয়েছে।

ভারতে করোনার টিকা: ৪৪৭ জনের শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া

ভারতে করোনার টিকা: ৪৪৭ জনের শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া

ভারতে করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার পর ৪৪৭ জনের নানা ধরণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এসব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, এবং বমিভাব।

এসব উপসর্গকে টিকাদানের বিরূপ প্রতিক্রিয়া যেটাকে অ্যাডভার্স ইভেন্ট ফলোইং ইমিউনাজেশন (এইএফআই) বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। যার সাথে সরাসরি টিকা বা টিকাদান প্রক্রিয়ার সরাসরি সম্পর্ক নাও থাকতে পারে।

দেশটিতে শনিবার করোনার টিকাদান কর্মসূচী শুরু হয়। সারা দেশের তিন হাজার ছয়টি কেন্দ্রে একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচীর সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

উত্তরপ্রদেশের একটি সরকারি হাসপাতালের একজন কর্মী টিকা নেয়ার ২৪ ঘণ্টা পর মারা গেছেন। তার বয়স ৪৬ বছর। জেলার প্রধান মেডিকেল অফিসার বলেছেন টিকা নেয়ার সাথে এই মৃত্যুর কোন সম্পর্ক নেই। উত্তর প্রদেশের সরকার বলছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হার্ট এবং ফুসফুসের রোগজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে বলা হচ্ছে।

এদিকে কোলকাতায় ৩৫ বছর বয়সী একজন নার্স কোভিড ১৯ এর টিকা নেয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল আছে। তিনি টিকা নেয়ার পর অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। স্বাস্থ্য-মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন ঐ নার্স কেন অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন সেটা খতিয়ে দেখতে একটা মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

দেশটিতে প্রথম দফায় চিকিৎসক, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স চালক, স্বাস্থ্য কর্মী, সাফাই-কর্মীরা টিকা পাবেন।

এর পরে পুলিশ, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা এবং অন্যান্য করোনা যোদ্ধাদের টিকা দেওয়া হবে। প্রথম দফায় টিকা পাবেন প্রায় তিন কোটি মানুষ।

দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস এর একজন নিরাপত্তা কর্মী টিকা নেয়ার পর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ( আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। টিকা নেয়ার পর এই ব্যক্তির অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হয়। ২২ বছর বয়সী এই নিরাপত্তা কর্মী টিকাদানের প্রথম দিনে টিকা নেন।

যে সাড়ে চারশো লোকের মধ্যে টিকা নেওয়ার পর নানা ধরনের অসুস্থতার উপসর্গ দেখা গেছে, তাদের মধ্যে কারা কারা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার উদ্ভাবিত ‘কোভিশিল্ড’ আর কারা ভারত বায়োটেকের তৈরি ‘কোভ্যাক্সিন’ নিয়েছেন, সেই পরিসংখ্যান অবশ্য সরকার প্রকাশ করেনি।

#সূত্র : বিবিসি