নিজস্ব প্রতিবেদক :
এক যুগের বেশি সময় পর ব্যবসায়ীদের সরাসরি ভোটে চট্টগ্রাম চেম্বারের ২৪ সদস্যদের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচিত হবার পর এখন সকলের দৃষ্টি নতুন প্রেসিডিয়ামের দিকে। কারা আসছেন চেম্বারের শীর্ষ তিন পদে-এ নিয়ে এখন ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলছে জল্পনা কল্পনা।
চট্টগ্রাম চেম্বার সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডিয়াম নির্বাচনের জন্য সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় নব নির্বাচিত পরিচালকদের সভা আহ্বান করা হয়েছে। ওই সভাতেই চেম্বারের নতুন সভাপতি, সিনিয়র সহ সভাপতি ও সহ সভাপতি নির্বাচন করা হবে।
বাণিজ্য সংগঠন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী চেম্বার নির্বাচনের পর নতুন নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্য থেকে প্রেসিডিয়াম (সভাপতি, সিনিয়র সহ সভাপতি ও সহ সভাপতি) নির্বাচন করতে হয়। চেম্বারের পরিচালক নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রেসিডিয়াম নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোহাম্মদ আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’ পূর্ণ প্যানেলে জয়লাভ করলেও নতুন প্রেসিডিয়ামে কারা আসছেন তা নিয়ে এখনো কিছুটা ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। রোববার রাতের মধ্যেই ফোরামের নীতি নির্ধারকরা বসে নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
অতীতের বিভিন্ন পর্ষদের প্রেসিডিয়ামে দেখা গেছে অর্ডিনারী গ্রুপ, এসোসিয়েট গ্রুপ ও ট্রেড গ্রুপ- এই তিন ক্যাটাগরি থেকেই তিনজনকে শীর্ষ তিন পদে বসানো হয়। এবারের নির্বাচনে বিজয়ী ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের প্যানেল লিডার মোহাম্মদ আমিরুল হক নির্বাচিত হয়ে এসেছেন ট্রেড গ্রুপ থেকে। এফবিসিসিআই, চট্টগ্রাম চেম্বার, সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন, এলপিজি অপারেটর্স এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। একাধিক ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সফল শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে খ্যাতি রয়েছে তাঁর। চেম্বারের নতুন সভাপতি হিসেবে তাঁকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে নব নির্বাচিত একাধিক পরিচালক এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। চেম্বার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’ গঠনের মূল কারিগর হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরীও প্যানেল লিডার মোহাম্মদ আমিরুল হকের নতুন সভাপতি হওয়ার ব্যাপারে আভাস দিয়েছেন।
চেম্বার নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যায়ে রাইজিং গ্রুপের আমজাদ হোসাইন চৌধুরী একক প্যানেল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় ছিল। পরবর্তীতে সমঝোতার মাধ্যমে মোহাম্মদ আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামে যুক্ত হয়ে অর্ডিনারী গ্রুপ থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি। আগেও তিনি চেম্বার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্বনামধন্য শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী আমজাদ হোসাইন চৌধুরী। নতুন পরিচালনা পর্ষদে সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে তাঁর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া একই ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত কামাল মোস্তফা চৌধুরী ও নাসির উদ্দিন চৌধুরীর নামও রয়েছে আলোচনায়। অতীতের রীতি অনুযায়ী সহ সভাপতি পদে ট্রেড গ্রুপ থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে কাউকে মনোনীত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ক্যাটাগরি থেকে নব নির্বাচিত পরিচালক জাহিদুল হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে।
জানতে চাইলে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের প্যানেল লিডার ও ট্রেড গ্রুপ থেকে নির্বাচিত পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, সোমবার সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ চেম্বার কার্যালয়ে প্রেসিডিয়াম নির্বাচনের জন্য নব নির্বাচিত পরিচালকরা বসবেন। সেখানেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম চেম্বারে ব্যবসায়ীদের ভোটের নেতৃত্ব নির্বাচনের সংস্কৃতি হারিয়ে গিয়েছিল। দেরিতে হলেও সকলের সহযোগিতায় আমরা সেটি ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। আশা করছি, আমরা সবাই মিলে একশত বিশ বছরের পুরোনো এই চেম্বারের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারবো। এক্ষেত্রে সকল পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের আন্তরিক সহযোগিতা আমরা কামনা করি।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম চেম্বারের সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয় ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে। তখন চেম্বারের পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল সাবেক এমপি এম এ লতিফের হাতে। ভোটবিহীন ওই পর্ষদে সভাপতি নির্বাচিত হন তাঁর পুত্র ওমর হাজ্জাজ। ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে ওই বছর ২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ পরিস্থিতিতে ৯ সেপ্টেম্বর চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর থেকে বিগত বিশ মাস প্রশাসকের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়ে আসছে ব্যবসায়ীদের এই শতবর্ষী সংগঠন।

