অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি

image-112440-1698745310

বিশেষ প্রতিবেদক :

আগস্ট মাসের শুরুতেই পদত্যাগ করতে পারেন বহুল আলোচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি এ পদত্যাগ পত্র জমা দিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে তার সুবিধাজনক সময়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন তিনি।

যেভাবে পদত্যাগ করবেন : বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে। যদি সে সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার দায়িত্ব পালন করতে অপারগ হন বা পদটি শূন্য থাকে, তাহলে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী পরবর্তী সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ওই সময় ব্যাপক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে শপথবাক্য পাঠ করান, নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায়ও রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ করান।

২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। ওই সময়  রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণ, রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে অভিভাবকত্ব প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী দেশে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন এবং নতুন সরকারকে শপথ পাঠ করান।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিভিন্ন সময় তাকে অপসারণের দাবি ওঠে। তবে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করেনি। বরং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তীতে সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।