Home Blog Page 22

স্মৃতি কথায় ৭৫-এর ১৫ আগস্ট

0
স্মৃতি কথায় ৭৫-এর ১৫ আগস্ট
রেজাউল করিম চৌধুরী :
আগষ্ট। বাঙালি জাতীয় জীবনে অত্যন্ত বেদনা বিদুর, অশ্রু ঝরানো, শোকাবহ মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতি হারিয়েছে তার অমূল্য রতন। বাংলার জনপদে নিরলস ছুটে চলায় যিনি বাঙালি জাতিসত্বাকে মুক্তির মোহনায় উপনীত করেছিলেন, জীবনের শ্রেষ্ট সময়টুকু বাঙালির অধিকার আদায়ের কথা বলতে গিয়ে কারান্তরীন হয়ে কাটিয়েছিলেন, যার তর্জনী হেলনে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র সংগ্রামী ও গেরিলা যোদ্ধা হয়ে ওঠেছিল, এনেছিল স্বাধীনতার লাল সূর্য। সেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে বাঙালির কপালে কালিমা লেপন করে স্বার্থলোভী ও চাকুরিচ্যুত কতিপয় সেনা কর্মকর্তা। তাদের পিছনে কলকাঠি নেড়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু দেশী, বিদেশী কুচক্রী মহল। সময়ের পরিক্রমায় সবকিছুই আস্তে আস্তে জাতির কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরপর খন্দকার মোস্তাক স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট ও মেজয় জিয়া সেনা প্রধানের দায়িত্বে এসে তাদের কলুষযুক্ত চেহারা উম্মোচন করে।
১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর খন্দকার মোশতাক আহমেদ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের রক্ষায় ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করে। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান এ অধ্যাদেশকে আইনে পরিনত করে।
দীর্ঘ ২১বছর নানা ছল ছাতুরী, হামলা, মামলা ও নির্যাতন করে আওয়ামী লীগকে জাতীয় রাজনীতিতে কোনঠাসা করে, ইতিহাস বিকৃতি ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনী ও স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। শত ঝড়, ঝঞ্ঝা বুকে নিয়ে, রোদ, বৃষ্টি গায়ে মেখে, লাঠি, গুলি, টিয়ার গ্যসকে মোকাবেলা করে দীর্ঘ সংগ্রামে পথ বেয়ে জাতির জনকের কন্যা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে এ নির্মম হত্যাকান্ডের বিচারের অবরুদ্ধ পথ অবমুক্ত করতে সক্ষম হন। এবং স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ১৫ জনকে বঙ্গবন্ধু ও তার সপরিবারের সদস্যদের হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ড প্রদানের রায় ঘোষিত হয়। ২০০১ সালে বিএনপি জামাত জোট রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে এ বিচার প্রক্রিয়া আবারো বাধাগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বহু বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যার ৫ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করার মধ্য
দিয়ে জাতি তার পিতা হত্যার কলঙ্ক হতে মুক্ত হলেও জাতির জীবন থেকে হারিয়ে গেছে সম্ভাবনার দীর্ঘ সময়টুকু।
১৯৭৫ সালের আগষ্ট মাস। সেদিনের কিছু স্মৃতিকথা আজ আমি নতুন প্রজন্মের জন্য এখানে তুলে ধরতে চাই। ‘বাংলাদেশ জাতীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ এর ব্যানারে চট্টগ্রামে আমরা একটি সাংস্কৃতিক সম্মেলনের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ততার মধ্যে ছিলাম। স্থানীয় মুসলিম হলে ১৭আগষ্ট হতে ১৯আগষ্ট তিনদিনব্যাপী এ সম্মেলন হবে ঠিক হল। তপন বৈদ্য ছিলেন এ সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহŸায়ক আর আমি ছিলাম যুগ্ম আহŸায়ক। ভারত ও বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের অনেকেরই এ সম্মেলনে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলুল হক মনি ভাই এ ব্যাপারে আমাদেরকে বিশেষ সহযোগিতা করেছিলেন। কথা ছিল, সম্মেলনের প্রত্যেকদিন একটি করে তিনদিনে মোট তিনটি নাটক মঞ্চস্থ করা হবে। আর, নাটক পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নাট্যকার অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ। জাতীয় সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার উন্নয়নে জাতির জনকের জ্যেষ্ট পুত্র শেখ কামাল ছিলেন অন্তপ্রাণ। আমাদের সাংস্কৃতিক সম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে আমরা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব শেখ কামাল সাহেবকে আমন্ত্রন জানিয়েছিলাম। ১৪ আগষ্ট সন্ধ্যায় আমরা আওয়ামী লীগ নেতা এম এ মান্নান ভাইয়ের বাসায় যাই, তার সাথে আমাদের সম্মেলন প্রস্তুতির নানাদিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি। তিনি আমাদেরকে সম্মেলনের খরচের জন্য ৫০০০টাকা দেন এবং রাতের ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এরপর আমরা তৎকালীন জেলা প্রশাসক এ.বি. চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করি। তিনি আমাদেরকে পরদিন সকালে তার বাসায় যেতে বলেন। সর্বশেষে আমরা তৎকালীন পূর্বদেশ পত্রিকার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম সাহেবের বাসায় যাই। কাশেম চিশ্তী সাহেবও সেদিন আমাদের সাথে ছিলেন। নুরুল ইসলাম সাহেবের বাসার ল্যান্ড ফোন থেকে আমরা সম্মেলনের উদ্বোধক বঙ্গবন্ধু পুত্র শেখ কামাল সাহেবের সাথে কথা বলি। তিনি ১৭ তারিখে আমাদের সম্মেলনে যথাসময়ে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করার ব্যাপারে আমাদেরকে শতভাগ আশ্বাস প্রদান করেন। নুরুল ইসলাম সাহেবের নন্দনকানস্থ বাসা থেকে বেরিয়ে চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছাই যখন, তখন রাত ১টা। বেশকিছু কুকুর একসাথে কান্নার রোল তুলে ডাকছিল। মনটা কেমন যেন মোচর দিয়ে উঠল, কেমন যেন বিষন্নতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল শরীর মন। তাছাড়া মুরব্বীদের মুখে শুনেছি, কুকুরের কান্না নাকি অশুভ লক্ষন। কিছুক্ষন চুপ থেকে তপন বৈদ্য বলল দেশে কোথায় কোন অঘটন ঘটতে চলেছে কে জানে? কুকুর গুলো এভাবে কান্না করছে কেন? আমি সান্তনা দিয়ে বললাম, ওসব কিছুই না। এগুলো সব মুরব্বীদের বলা কুসংস্কার। তারপর আমরা ঘুমোতে যাই। সকালে ওঠে ডিসি সাহেবের বাসায় যাব এমন সময় লেয়াকত নামের জাসদ সমর্থক এক ছাত্র আমাকে জানাল বঙ্গবন্ধুকে নাকি ভোর বেলায় হত্যা করা হয়েছে। আরেকটু পর আরেক ছাত্রনেতা গোলাম মোহাম্মদও একই কথা বলল। আমি তাদের কথা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। প্যারেড কর্ণারের পূর্বপাশে খালেকের বাসায় গিয়ে তাকে ঘুম থেকে উঠালাম। বললাম, তোমাদের রেডিওটা অন কর। রেডিও অন করতেই খুনিদের ঘোষনা শুনতে পেলাম। তবুও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল, এসব কিছু স্বাধীনতা বিরোধীদের অপপ্রচার। আমরা দ্রæত মতিন বিল্ডিং এর ছাত্রলীগের অফিসে গেলাম। সেখানে ছাত্রলীগ নেতা সরফরাজ খান বাবুল, সন্দ্বীপের রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়ির আনোয়ারুল আজিম, শওকত হোসেন, মান্নান, ইসমাইল, কাশেম চিশ্তী, পটিয়ার এম এ জাফর, শামসুজ্জামানসহ বিশ পঁচিশজন ছাত্রনেতাকে একসাথে পেলাম। তৎক্ষনাত বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কে.সি দে রোড, টি এন্ড টি অফিস, লালদীঘি হয়ে রেয়াজ উদ্দীন বাজার আমতল, তিনপুলের মাথা হতে ঘুরে শহীদ মিনার হয়ে পুনারায় পার্টি অফিসে আসি। কোথাও কোন বাঁধা পাইনি। রাস্তায় তেমন কোন মানুষজন কিংবা পুলিশও ছিলনা। সবদিকে কেমন জানি শুনশান নিরবতা। তপন বৈদ্যর বাসা ছিল ফকির হাট। মিছিলের পর আমরা তার বাসায় যাওয়ার পথে আগ্রাবাদ রেডিও স্টেশনের সামনে নামলাম এবং স্টেশনে ঢুকে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে বক্তব্য রাখার সুযোগ চাইলাম। রেডিও কর্তৃপক্ষ রাজী হলেন না। তারপর তপন বৈদ্যর বাসায় চলে যাই। বাকশাল সাধারন সম্পাদকের সাথে জেলা গভর্ণরদের প্রশিক্ষন কর্মসূচীর জন্য নেতৃবৃন্দের প্রায় সকলেই ঢাকায় ছিলেন। অনেক চেষ্টা করেও কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। ঢাকার সাথে সারাদেশের সমস্ত যোগাযোগ মূলত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিকেলে আমরা আবারো বেরিয়ে পড়ি। মুক্তিযোদ্ধা চেঙ্গিস খানের শ্বশুরের কাজীর দেউড়িস্থ বাড়ীর সামনের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আমরা কয়জন কথা বলছিলাম। বিকেল পাঁচটার দিকে দেখলাম সামরিক বাহিনীর কিছু গাড়ী রাস্তায় বেরিয়ে পথচারীদের হুমকি, ধমকি দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করছে। আমরা রাস্তার পাশ ছেড়ে কিছুটা ভেতরে গলির দিকে ঢুকে পড়লাম। আমাদের মধ্যে কাশেম চিশ্তীর বাসা ছিল চাক্তাই। আমরা সবাই যে যার বাসায় চলে গেলাম।
১৭ আগষ্ট সকালে চট্টগ্রাম কলেজ হোস্টেল থেকে রাউজানের সালাম ও বাবুল আমাদের বহরদার বাড়ীর বাসায় আসে। পরবর্তী করনীয় বিষয়ে আলোচনা করতে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মী ও কিছু কিছু আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথেও যোগাযোগ করতে লাগলাম।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এস এম ইউসুফ ভাই (মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনীর জেলা প্রধান) আমার বাসায় আসলেন। বললেন, চল বাইরে যাব। মাকে বলে বেরিয়ে পড়লাম (মা অবশ্য বাঁধা দিয়েছিলেন, তবুও) দুজনে। ইউসুফ ভাই আমাকে জামালখানস্থ নজরুলের বাসায় রেখে কোথায় জানি চলে গেলেন। সেই রাতে নজরুলের বাসায় রয়ে গেলাম। সকালে সাতকানিয়ার মুনিরের মারফত ইউসুফ ভাই খবর পাঠালেন। বললেন, তিনি আসবেন। সারাদিন অপেক্ষায় ছিলাম, রাত দশটার দিকে আবারো মনির এসে আমাকে তার সাথে বের হতে বললেন। বললেন, ইউসুফ ভাই আমাদের জন্য অভয় মিত্র ঘাটে অপেক্ষা করছেন। অভয় মিত্র ঘাটের একটি ফিশিং বোটে আনোয়ারুল আজিম, গোলাম রাব্বানী, মো. সেলিম, শওকত হোসেন, রফিক, মনির, কাজী আবু তৈয়ব, মহিউদ্দিন রাশেদ, শামসুজ্জামান, জাফর, দেলোয়ার, মান্নানসহ আমরা ১৪জন ইউসুফ ভাইয়ের সাথে বসলাম। ইউসুফ ভাই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে করনীয় সম্পর্কে আমাদের উদ্দেশ্যে দীর্ঘক্ষণ বক্তব্য রাখেন এবং যার যা কিছু আছে তা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহŸান জানান। এ বৈঠকের ঠিক পনের দিন পর আমরা নিউ মার্কেট মোড়, আগ্রাবাদ, কাজীর দেউরীসহ চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি জায়গায় গ্রেনেড চার্জ করি। এরপর ইউসুফ ভাইসহ কাজী আবু তৈয়ব ও আমি আমাদের নেতা মান্নান ভাইয়ের বাসায় যাই। শক্তি সংগ্রহের জন্য ভারতে যাওয়ার ব্যাপারে মান্নান ভাইকে বুঝিয়ে বলি। মান্নান ভাই এতে রাজী হলেন না। কিন্তু ইউসুফ ভাই ঠিকই ভারতে চলে গেলেন। এদিকে কঠোর বিধি নিষেধের যাঁতাকলে পড়ে কোথাও জড়ো হওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ল। তখন নিউমার্কেটে নজরুলের শাহ আমান স্টোর হয়ে উঠল আমাদের যোগাযোগের অন্যতম ক্ষেত্র। এখানে আমরা ক্রেতাবেশে আসতাম এবং পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতাম। একসময় সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে লিফলেট ছাপিয়ে বিতরন করব। ছাপানোর দায়িত্ব ছিল ফটিকছড়ির এস এম ফারুকের উপর। যথারীতি লিফলেট ছাপানো হল, বিভিন্ন জায়গায় বিতরন করা হল। এভাবে বিক্ষিপ্তভাবে আমরা প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকলাম। নভেম্বর মাসের ৪ তারিখ আমরা জানতে পারলাম, জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও কামরুজ্জামানকে কারাগারের ভেতর ঢুকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়েছে। সেদিন মুক্তি যোদ্ধা নুরুল বশর ও আমি আমাদের বহরদার বাড়ীর বাসা থেকে বেরিয়ে কাজেম আলী স্কুলের সামনে দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে লিয়াকত (পরবর্তীতে কমিশনার) ও আওয়ামী লীগ কর্মী ফোরক আহমদের সাথে দেখা হয়। ৪ জন মিলে আলাপ করলাম কি করা যায়! লিয়াকত বলল, চল আমরা চট্টগ্রাম কলেজ গিয়ে প্রতিবাদী মিছিল বের করি। যদিও আমি সভাপতি নির্বাচিত হই ১৯৭২ সালে, সম্মেলন না হওয়ায় তখনো আমি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বে আছি। আমরা কয়েকজন দ্রæত কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়লাম আর গ্যালারী ২ তে গিয়ে বললাম ক্লাস হবেনা। শিক্ষক আবু তাহের সাহেব তা মানতে রাজী হলেন না। লিয়াকত ক্যাম্পাসের এদিক সেদিক ছুটোছুটি শুরু করেছে, একজন ছাত্র ক্লাস থেকে বেরিয়ে গিয়ে আয়নায় সজোড়ে একটি পাথর ছুঁড়ে মারল। বিকট আওয়াজ আর কাঁচ ভাঙ্গার শব্দ শুনে সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা দিগ্বিদিক ছুটতে আড়ম্ভ করল। তারপর, প্রতিবাদী ছাত্রদের নিয়ে আমরা মিছিল বের করি এবং মহসীন কলেজ, কাজেম আলী স্কুল ও খাস্তগীর স্কুলের ক্লাশ বন্ধ করে দিই। এরপর মিছিল নিয়ে আন্দরকিল্লা, নজির আহমদ সড়ক, রাইফেল ক্লাব হয়ে শহীদ মিনারে দিকে ঘুরতেই নিউমার্কেটের ঐদিক থেকে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর কয়েকটি গাড়ী এসে আমাদের উপর হামলে পড়ে। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তৎকালীন গ্র্যান্ড হোটেলের গলিতে ঢুকে যাওয়ার পরও দেখি পুলিশ আমার পিছু ছাড়েনি। পাশ্ববর্তী একটি ভবনের সীমানা প্রাচীর টপকে আমি কোন প্রকারে গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হলেও অনেকেই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। রাঙ্গুনিয়ার এমপি মরহুম ক্যাপ্টেন কাশেম সাহেবের একান্ত সহাযোগিতায় পরের দিনই তারা ছাড়া পান। সেদিন বিকেলেই ইউনাইটেড হোটেলের সামনে সিটি কলেজের ছাত্রনেতা জানে আলমের সাথে আমাদের দেখা হয়। হোটেলের কাছেই জানে আলমের বাসা। হোটেল মালিকের শ্যালক যখন বললেন, কক্সবাজারের গোলাম রাব্বান ভাই হোটেলে আছেন তখন আমরা হোটেলের এক কোনার গোপন আস্তানায় তার সাথে দেখা করলাম। তিনি বললেন, আমরা সন্ধ্যায় মশাল মিছিল বের করব তোমরা দ্রæত প্রস্তুতি নাও। চট্টগ্রাম কলেজের হোস্টেলে এসে বেয়ারা বশরকে ৫০টাকা দিয়ে বাঁশ, চট ও কেরোসিন আনতে পাঠালাম। কিছু পরে হোস্টেলের আরেক বেয়ারা চিত্ত এসে বলল মশালের সরঞ্জামসহ বশর পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। আমাদের মশাল মিছিলের পরিকল্পনা এখানে ব্যর্থ হল। এরপর রাব্বান ভাইসহ আমরা পরেরদিন হরতাল কর্মসূচী ঘোষনার সিদ্ধান্ত নিলাম। ফেনীর গোলাম মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করলাম। তার একটা ছাপখানা ছিল, এখান থেকে হরতালের সমর্থনে লিফলেট ছাপানো হল। সারা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঐ লিফলেট বিতরন করা হল। মুত্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল বশর ও আমি বহরদার হাট, মুরাদপুর, চকবাজার, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও এলাকার দায়িত্ব নিয়ে লিফলেট বিতরন করি। হরতাল হয়নি, পরিবেশ পরিস্থিতি আমাদের অনুকুলে ছিলনা সেটাতো বুঝতেই পারছেন। আমরা বিচ্ছিন্ন কর্মসূচী দিয়ে সরকার ও প্রশাসনকে আস্তে আস্তে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছিলাম মাত্র। এভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, মহানগরীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে প্রতিবাদী কর্মসূচী দিয়ে তৎপরতা চালিয়ে যাই। সেদিনের কথা মনে হলে হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হয়। রাতারাতি সবকিছু যেন বদলে গিয়েছিল তখন। চেনা মানুষগুলোর অনেকেই যেন অচেনা হয়ে গেল। বঙ্গবন্ধু থাকাকালীন সময়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা লোকগুলো, যাদের সাথে আমাদেরও বেশ সখ্যতা ছিল, আজ তার রঙ বদলে নিয়েছে গিরগিটির মত। তাদের কাছে গেলে তারা আমাদের দুর দুর করে তাড়িয়ে দিতে লাগল। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নানান কটুক্তি করতেও ছাড়েনি তারা। তাদের এই কটু আচরন, স্বৈরাচার ও স্বাধীনতা বিরুধী অপশক্তি এবং সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাসহ জাতীয় চারনেতা হত্যাকান্ডের বেনিফিশিয়ারী গোষ্ঠীর অত্যাচার, নিপীড়ন, প্রলোভনকে পদদলিত করে জীবনবাজী রেখে আমরা মুজিবপ্রেমী জনগন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে ন্যাস্ত করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু, বর্ণচোরা গিরগিটির দল আবারো আওয়ামী লীগ ও রাষ্ট্র ক্ষমতার নানান স্তরে জেঁকে বসেছে। নিজেদের প্রভাব বলয়ের বিস্তার ঘটাতে প্রগতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে অবস্থানকারী স্বাধীনতা বিরোধীদেরকেও মুজিবাদর্শের সৈনিক আখ্যা দিয়ে প্রকৃত মুজিপ্রেমীদের কোনঠাসা করে রাখায় অপপ্রয়াসে লিপ্ত।
তারা আজ ভাবতে শুরু করেছে সংগঠনে তারাই শক্তিশালী। তাই, তারা অসম্ভব রকমের বেপরোয়া। এদের আস্ফালন ও বেপরোয়া আচরনে অতিষ্ট হয়ে প্রকৃত আওয়ামী লীগের অনুসারীরা রাজনীতি কর্মকান্ডের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। তাদের অভিমানী মন আজ রাজনীতি বিমূখ। এর থেকে ফায়দা লুটছে সুবিধাবাদীরা, তারা ক্ষমতার সুযোগে দিনের পর দিন অঢেল বিত্ত বৈভবের মালিক হচ্ছে। আর এই অর্থের দাপটে আদর্শিক কর্মীরা আজ ক্ষত বিক্ষত।
তাই শোকের মাসে ডাক দিয়ে যাই আসুন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকেরা। আর হতাশা নয়, অভিমান নয়। সুবিধা বাদীদের হটিয়ে, তাদের সকল চক্রান্তকে পদদলিত করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ঝান্ডা উড়াই। মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধুর রক্তের কাছে আমরা ঋনী। আমরা দায়বদ্ধ আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক, ইতিহাসের শ্রেষ্ট সন্তান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রক্তের ঋনের কাছে। আসুন জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন অভিযাত্রাকে কন্টক মুক্ত করতে ও জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী রাখতে কাজ করে যাই।
সকলকে ধন্যবাদ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয়তু জননেত্রী শেখ হাসিনা।
লেখক : মেয়র
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জ্যেষ্ট যুগ্ম সাধারন সম্পাদক
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার বুস্টার ডোজের অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার বুস্টার ডোজের অনুমোদন

নিউজমেট্রো ডেস্ক :
করোনা টিকার বুস্টার ডোজের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের এই বুস্টার বা তৃতীয় ডোজ দেওয়া যাবে। খবর রয়টার্সের।

রয়টার্স জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) জানিয়েছে, দেশে করোনার নতুন ঢেউ শুরু হয়েছে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই বুস্টার ডোজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এফডিএ’র ঘোষণায় স্বস্তি পেয়েছেন অনেকেই। যাদের অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়েছে বা ক্যানসার আক্রান্ত কিংবা জটিল কোনও রোগে আক্রান্ত তাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। তাদের অতিরিক্ত সুরক্ষা দেবে এই বুস্টার ডোজ। ইতিমধ্যেই ফ্রান্স ও ইসরাইল এর অনুমোদন দিয়েছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

টানা ১৯দিন পর করোনায় ২শ’র নিচে মৃত্যু

টানা ১৯দিন পর করোনায় ২শ’র নিচে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : একটানা উনিশ দিন পর দেশে করোনায় একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা ২শ’র নিচে নেমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মারা গেছেন ১৯৭ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৮১০ জনে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৮ হাজার ৪৬৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ লাখ ৫ হাজার ৩৩৩ জনে।

স্বাস্থ্য অঅধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হাজার ৬৬১ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৪৫৭ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মোট সুস্থ হলেন ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৫২২ জন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার ২১৫, বুধবার ২৩৭, মঙ্গলবার ২৬৪, সোমবার ২৪৫, রোববার ২৪১, শনিবার ২৬১ ও শুক্রবার ২৪৮ জনের মৃত্যু হয়। গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়ায়। এদিন মৃত্যু হয় ২০১ জনের। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই করোনায় দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগ্রহীত হয়েছে ৪১ হাজার ৭৫১টি আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪০ হাজার ৬৪১টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮৩ লাখ ৪২ হাজার ১৯০টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৬১ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪৬টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪৪টি।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, মারা যাওয়া ১৯৭ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ৭৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৩ জন, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের আটজন করে, খুলনা বিভাগের ১৮ জন, বরিশাল বিভাগের ১১ জন, রংপুর বিভাগের নয়জন আর ময়মনসিংহ বিভাগের আছেন ১২ জন। মারা যাওয়া ১৯৭ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৫৬ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৩২ জন আর বাড়িতে মারা গেছেন নয়জন।

 

অষ্ট্রেলিয়ার বিরূদ্ধে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়

অষ্ট্রেলিয়ার বিরূদ্ধে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-১ ম্যাচের ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দলকে ৬০ রানে হারিয়ে দেয় টাইগাররা।১২৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে মাত্র ৬২ রানেই অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ১২২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে নামেন মোহাম্মদ নাইম শেখ ও মেহেদী হাসান। দু’জনে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন। প্রথম চার ওভারেই দলীয় রান ৪০ পার হয়ে হয়ে যায়। ৪.৩ ওভারে দলীয় ৪৩ রানের মাথায় অ্যাশটন টার্নারের বলে অ্যাগারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৩ রান করে ফিরে যান মেহেদী হাসান। এর পর সাকিব খেলেতে নেমে দলীয় ৬০ রানের মাথায় ২০ বলে ১১ রান করে আউট হয়ে যান । তার আগে ২৩ বলে ২৩ রান করে আউট হন অপর ওপেনার নাইম শেখ। এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। কিন্তু ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন হলেও তার ফর্ম আগের মতো রয়ে যায়। ১৬ রান করে আউট হয়ে যান। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১৯ ও আফিফ হোসেন ১০ করেন।

এদিন অস্ট্রেলিয়ার বিরূদ্ধে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান।৩.৪ ওভারের মধ্যে একটি মেডেনও দিয়েছেন। এটিই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন মাত্র ৩ ওভার বোলিং করে ১২ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। দারুণ বোলিং করেছেন নাসুম আহমেদ ও মেহেদী হাসানও। এর মধ্যে নাসুম নিয়েছেন অজিদের প্রথম দুটি উইকেট। তবে উইকেট না পেলেও নিয়ন্ত্রিত ছিলেন মেহেদী। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও নেন একটি উইকেট।

অজি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২২ রান করেন অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড। এছাড়া ১৭ রান করেন বেন ম্যাকডারমট। বাকিদের মধ্যে আর কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।

পূর্ণাঙ্গ অনলাইন চা নিলাম এখন সময়ের দাবি

পূর্ণাঙ্গ অনলাইন চা নিলাম এখন সময়ের দাবি

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো: আশরাফুল ইসলাম এনডিসি, পিএসসি বলেছেন, দেশের চা নিলাম ও চায়ের বিপণন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পূর্ণাঙ্গভাবে অনলাইন চা নিলাম সিস্টেম চালুর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে এটা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। টি ট্রেডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিটিএবি) কে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। এর মাধ্যমে ক্রেতারা ঘরে বসেই চা ক্রয় করতে পারবেন। এছাড়া বাগান মালিকরাও নিলাম চলাকালীন চায়ের দাম সম্পর্কে জানতে পারবেন।  সোমবার সকালে চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রের নিলাম কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে টিটিএবি এবং চা ব্রোকার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কোভিড পরিস্থিতিতে অনলাইন চা নিলাম সিস্টেম চালুর প্রতি গুরুত্বারোপ করে চা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন চা নিলাম চালু হয়েছে। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে অনলাইন চা নিলাম শুরু হোক। এজন্য প্রয়োজনীয় কারিগরী সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে টিটিএবিকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান। এছাড়াও সামগ্রিকভাবে চা শিল্পের উন্নয়ন করতে হলে অবশ্যই PQP (Production-Quality-Price) এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করার জন্য তিনি সকল অংশীজনকে আহবান জানান।

টিটিএবি’র সভাপতি  ওমর হান্নান সভায় বলেন, চা বোর্ডের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে টিটিএবি কর্তৃক চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রে ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন নিলাম কার্যক্রম চালু রয়েছে। পূর্ণাঙ্গরূপে অনলাইন চা নিলাম চালুর বিষয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং বাংলাদেশ চা বোর্ডের সাথে টিটিএবি-র নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

সভায় বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য (অর্থ ও বাণিজ্য) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী অনলাইন চা নিলামের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বাংলাদেশ চা বোর্ডের ইতিবাচক ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন।

নিলাম কেন্দ্র পরিদর্শন ও চা ব্রোকার হাউজ পরিদর্শন শেষে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান চায়ের বন্ডেড ওয়ারহাউজ পরিদর্শন করেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে চা বোর্ডের সদস্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী, সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মাদ রুহুল আমীন, জনসংযোগ ও শ্রমকল্যাণ কর্মকর্তা মো: রাজিবুল হাসান, বিপণন কর্মকর্তা  আহসান হাবিব, টিটিএবি’র সাবেক সভাপতি  শাহ মঈনুদ্দীন হাসান, ব্রোকারদের প্রতিনিধিসহ চা ব্যবসায়ীগণ উপস্থিত ছিলেন।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. গাজী সালেহ উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. গাজী সালেহ উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
তিন দফা জানাযা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডীন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ড. গাজী সালেহ উদ্দীন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. গাজী সালেহ উদ্দিন (৭৪) করোনায় আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রাজধানী ঢাকার সিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ১ ছেলে ও ১ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন-গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
শনিবার সকাল ১০টায় নগরী পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকা রোডের বনিক পাড়াস্থ বাসার সামনে তাঁর প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১১টায় নগরীর পাহাড়তলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে। জানাজা শেষে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের নেতৃতে মেট্টোপলিটন পুলিশের একটি চৌকষ দল ড. গাজী সালেহ উদ্দীনকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন। একই সাথে সিএমপি কমিশনারের পক্ষে মরহুমের একমাত্র পুত্র ও সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব সালেহীন তানভীর গাজীর হাতে একটি শোক ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদসহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড.বেনু কুমার দে সহ শিক্ষকবৃন্দ। পরে তাঁর মরদেহ নোয়াখালির সোনাইমুড়ি উপজেলার বদরপুরস্থ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তৃতীয় দফা জানাযা থেকে বাদে আছর তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
প্রধানমন্ত্রীর শোক : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজতত্ত¡ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. গাজী সালেহ উদ্দিনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এক শোক বার্তায় শেখ হাসিনা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

চট্টগ্রামে ৯৩% করোনা রোগীর শরীরে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট

চট্টগ্রামে ৯৩% করোনা রোগীর শরীরে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট

চট্টগ্রামে করোনা রোগীদের ৯৩ শতাংশের নমুনায় মিলেছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

সিভাসু সূত্র জানায়, গত ১ থেকে ১৯ জুলাই মোট ৩০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনার ওপর যৌথভাবে গবেষণা চালায় প্রতিষ্ঠান দুটির গবেষক দল। এর মধ্যে ১৫টি নমুনা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার রোগী থেকে এবং ১৫টি উপজেলা এলাকার রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। নমুনা সংগ্রহ করা রোগীদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। এসব রোগীর বয়স ছিল ২১ থেকে ৭৪ বছর। গবেষণায় ৩০টি নমুনার মধ্যে ২৮টিতেই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এতে চট্টগ্রামের করোনা রোগীদের ৯৩ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা সংক্রমিত হচ্ছে প্রতীয়মান হয়। অবশিষ্ট দুটি নমুনার মধ্যে একটিতে আলফা ভ্যারিয়েন্ট এবং অপরটিতে ‘লাইনেজ-এ’ শনাক্ত হয়েছে।

সিভাসুর উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ‘কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন’ শীর্ষক ধারাবাহিক গবেষণার অংশ হিসেবে এ গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। সিভাসুর প্রফেসর ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, প্রফেসর ড. শারমিন চৌধুরী, ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা, ডা. ত্রিদিব দাশ, ডা. প্রনেশ দত্ত, ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, ডা. তানভীর আহমদ নিজামী, বিসিএসআইআরের গবেষক ড. মো. সেলিম খান ও ড. মোরশেদ হাসান সরকার এ গবেষণায় অংশ নেন।

সিভাসু উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ  বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে এর আগে আলফার (ইউ কে ভ্যারিয়েন্ট) ও বিটা (সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট) উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। যদিও আলফা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি এখনো আছে, তবে তার শতকরা হার খুবই কম। এবারের গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল থেকে বুঝা যায়, শহর ও গ্রামাঞ্চলে এখন সম্ভবত সমানভাবেই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. ফজলে রাব্বি  বলেন, কভিড সংক্রমণের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে আমাদেরও ধারণা ছিল দেশে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। সিভাসু ও বিসিএসআইআরের গবেষণাতেও সেটার প্রমাণ মিলেছে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের এ ধরনটি অত্যন্ত সংক্রমক, যা দ্রুত অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চট্টগ্রাম নগরী ও নগরীর বাইরে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সী মানুষই এর শিকার।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ৮৮ হাজার ৬৬০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ৮১২ জন মহানগর এলাকায় এবং ২২ হাজার ৮৪৮ জন উপজেলা এলাকায়। এদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছে ১ হাজার ৩৬ জন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ৩ হাজার ৭৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়। এদের মধ্যে ১১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এদিন মারা যায় ১৭ জন। নগরীর বাইরে হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়িতে করোনা আক্রান্তের হার অন্যান্য উপজেলা থেকে বেশি বলে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য থেকে জানা গেছে।

সূত্র- দেশ রূপান্তর

দেশজুড়ে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু

দেশজুড়ে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে টিকা নিচ্ছেন এক প্রতিবন্ধী্

নিউজ মেট্রো ডেস্ক :

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে গণটিকাদান কার্যক্রম। এতে ২৫ বছর তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠী, নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দুর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ১২ আগস্ট পর্যন্ত। নির্ধারিত বয়সের নারী-পুরুষরা কেন্দ্রে কেন্দ্রে টিকা নেয়ার জন্য ভিড় করছেন।

এই ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশের হাজার ৬০০টি ইউনিয়নে, হাজার ৫৪টি পৌরসভায় এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৪৩৩টি ওয়ার্ডে একযোগে টিকা দেয়া হচ্ছে। এতে ৩২ হাজার ৭০৬ জন টিকাদানকর্মী ৪৮ হাজার ৪৫৯ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন

করোনার ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য এরইমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক কোভিড১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক স্বাক্ষরিত নির্দেশনা পরিচালক (স্বাস্থ্য), বিভাগীয় কমিটির সদস্য, সিটি করপোরেশন কমিটির সদস্য সচিব, জেলা কমিটির সদস্য সচিব, উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা সব পৌরসভার মেডিকেল কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়

শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার সম্প্রসারিত আকারে শনিবার দেশব্যাপী ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী আগস্ট ২৫ বছর তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীকে আমরা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এলাকায় ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন শুরু হবে। আগস্ট ইউনিয়ন পৌরসভার বাদ পড়া ওয়ার্ডে এবং থেকে আগস্ট সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি চলবে। দুর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চলে আগস্ট ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম চালু থাকবে। ১০ থেকে ১২ আগস্ট জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের জনগোষ্ঠীর ৫৫ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোভিড১৯ ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম পরিচালিত হবে

টিকাগ্রহণ টিকা নেয়ার পর করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এগুলো হলো

. আগামী আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কোভিড১৯ টিকা দেয়া হবে।
. সিটি করপোরেশন পৌরসভা এলাকায়ও প্রতি ওয়ার্ডে থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত টিকা দেয়া হবে।
. যাদের বয়স ২৫ বা তদূর্ধ্ব তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে এসে ভ্যাকসিন গ্রহণ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
. প্রথম দুই ঘণ্টা শুধু নারী ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে সকল পুরুষকে টিকা দেয়া হবে।
. যারা ইতোমধ্যে অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন তাদের নিবন্ধনের সময় উল্লিখিত টিকাকেন্দ্রে এসে টিকা গ্রহণ করার অনুরোধ করা হয়েছে

টিকা নেয়ার পরে করণীয়

. টিকা নেয়ার পর টিকাকেন্দ্রে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
. টিকা নেয়ার পর যেকোনো রকম শারীরিক অসুবিধা হলে সাথে সাথে টিকাদানকর্মীকে খবর দিন। প্রয়োজনে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন

এছাড়া টিকা নেয়ার পরও জরুরি কাজে ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। একে অপর হতে অন্তত ছয় ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সাবান পানি দিয়ে ঘন ঘন ২০ সেকেন্ড ধরে দুই হাত ধুতে হবে। হাঁচিকাশির সময় হাত/রুমাল দিয়ে নাকমুখ ঢেকে নিতে হবে