রেজাউল করিম চৌধুরী :
যুক্তরাষ্ট্রে করোনার বুস্টার ডোজের অনুমোদন
নিউজমেট্রো ডেস্ক :
করোনা টিকার বুস্টার ডোজের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের এই বুস্টার বা তৃতীয় ডোজ দেওয়া যাবে। খবর রয়টার্সের।
রয়টার্স জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) জানিয়েছে, দেশে করোনার নতুন ঢেউ শুরু হয়েছে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই বুস্টার ডোজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এফডিএ’র ঘোষণায় স্বস্তি পেয়েছেন অনেকেই। যাদের অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়েছে বা ক্যানসার আক্রান্ত কিংবা জটিল কোনও রোগে আক্রান্ত তাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। তাদের অতিরিক্ত সুরক্ষা দেবে এই বুস্টার ডোজ। ইতিমধ্যেই ফ্রান্স ও ইসরাইল এর অনুমোদন দিয়েছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
টানা ১৯দিন পর করোনায় ২শ’র নিচে মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক : একটানা উনিশ দিন পর দেশে করোনায় একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা ২শ’র নিচে নেমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মারা গেছেন ১৯৭ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৮১০ জনে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৮ হাজার ৪৬৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ লাখ ৫ হাজার ৩৩৩ জনে।
স্বাস্থ্য অঅধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হাজার ৬৬১ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৪৫৭ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মোট সুস্থ হলেন ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৫২২ জন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার ২১৫, বুধবার ২৩৭, মঙ্গলবার ২৬৪, সোমবার ২৪৫, রোববার ২৪১, শনিবার ২৬১ ও শুক্রবার ২৪৮ জনের মৃত্যু হয়। গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়ায়। এদিন মৃত্যু হয় ২০১ জনের। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই করোনায় দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগ্রহীত হয়েছে ৪১ হাজার ৭৫১টি আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪০ হাজার ৬৪১টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮৩ লাখ ৪২ হাজার ১৯০টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৬১ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪৬টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪৪টি।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, মারা যাওয়া ১৯৭ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ৭৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৩ জন, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের আটজন করে, খুলনা বিভাগের ১৮ জন, বরিশাল বিভাগের ১১ জন, রংপুর বিভাগের নয়জন আর ময়মনসিংহ বিভাগের আছেন ১২ জন। মারা যাওয়া ১৯৭ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৫৬ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৩২ জন আর বাড়িতে মারা গেছেন নয়জন।
অষ্ট্রেলিয়ার বিরূদ্ধে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-১ ম্যাচের ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দলকে ৬০ রানে হারিয়ে দেয় টাইগাররা।১২৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে মাত্র ৬২ রানেই অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ১২২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে নামেন মোহাম্মদ নাইম শেখ ও মেহেদী হাসান। দু’জনে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন। প্রথম চার ওভারেই দলীয় রান ৪০ পার হয়ে হয়ে যায়। ৪.৩ ওভারে দলীয় ৪৩ রানের মাথায় অ্যাশটন টার্নারের বলে অ্যাগারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৩ রান করে ফিরে যান মেহেদী হাসান। এর পর সাকিব খেলেতে নেমে দলীয় ৬০ রানের মাথায় ২০ বলে ১১ রান করে আউট হয়ে যান । তার আগে ২৩ বলে ২৩ রান করে আউট হন অপর ওপেনার নাইম শেখ। এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। কিন্তু ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন হলেও তার ফর্ম আগের মতো রয়ে যায়। ১৬ রান করে আউট হয়ে যান। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১৯ ও আফিফ হোসেন ১০ করেন।
এদিন অস্ট্রেলিয়ার বিরূদ্ধে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান।৩.৪ ওভারের মধ্যে একটি মেডেনও দিয়েছেন। এটিই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন মাত্র ৩ ওভার বোলিং করে ১২ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। দারুণ বোলিং করেছেন নাসুম আহমেদ ও মেহেদী হাসানও। এর মধ্যে নাসুম নিয়েছেন অজিদের প্রথম দুটি উইকেট। তবে উইকেট না পেলেও নিয়ন্ত্রিত ছিলেন মেহেদী। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও নেন একটি উইকেট।
অজি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২২ রান করেন অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড। এছাড়া ১৭ রান করেন বেন ম্যাকডারমট। বাকিদের মধ্যে আর কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
পূর্ণাঙ্গ অনলাইন চা নিলাম এখন সময়ের দাবি
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো: আশরাফুল ইসলাম এনডিসি, পিএসসি বলেছেন, দেশের চা নিলাম ও চায়ের বিপণন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পূর্ণাঙ্গভাবে অনলাইন চা নিলাম সিস্টেম চালুর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে এটা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। টি ট্রেডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিটিএবি) কে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। এর মাধ্যমে ক্রেতারা ঘরে বসেই চা ক্রয় করতে পারবেন। এছাড়া বাগান মালিকরাও নিলাম চলাকালীন চায়ের দাম সম্পর্কে জানতে পারবেন। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রের নিলাম কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে টিটিএবি এবং চা ব্রোকার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কোভিড পরিস্থিতিতে অনলাইন চা নিলাম সিস্টেম চালুর প্রতি গুরুত্বারোপ করে চা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন চা নিলাম চালু হয়েছে। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে অনলাইন চা নিলাম শুরু হোক। এজন্য প্রয়োজনীয় কারিগরী সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে টিটিএবিকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান। এছাড়াও সামগ্রিকভাবে চা শিল্পের উন্নয়ন করতে হলে অবশ্যই PQP (Production-Quality-Price) এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করার জন্য তিনি সকল অংশীজনকে আহবান জানান।
টিটিএবি’র সভাপতি ওমর হান্নান সভায় বলেন, চা বোর্ডের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে টিটিএবি কর্তৃক চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রে ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন নিলাম কার্যক্রম চালু রয়েছে। পূর্ণাঙ্গরূপে অনলাইন চা নিলাম চালুর বিষয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং বাংলাদেশ চা বোর্ডের সাথে টিটিএবি-র নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
সভায় বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য (অর্থ ও বাণিজ্য) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী অনলাইন চা নিলামের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বাংলাদেশ চা বোর্ডের ইতিবাচক ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন।
নিলাম কেন্দ্র পরিদর্শন ও চা ব্রোকার হাউজ পরিদর্শন শেষে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান চায়ের বন্ডেড ওয়ারহাউজ পরিদর্শন করেন।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে চা বোর্ডের সদস্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী, সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মাদ রুহুল আমীন, জনসংযোগ ও শ্রমকল্যাণ কর্মকর্তা মো: রাজিবুল হাসান, বিপণন কর্মকর্তা আহসান হাবিব, টিটিএবি’র সাবেক সভাপতি শাহ মঈনুদ্দীন হাসান, ব্রোকারদের প্রতিনিধিসহ চা ব্যবসায়ীগণ উপস্থিত ছিলেন।
-প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. গাজী সালেহ উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
তিন দফা জানাযা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডীন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ড. গাজী সালেহ উদ্দীন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. গাজী সালেহ উদ্দিন (৭৪) করোনায় আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রাজধানী ঢাকার সিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ১ ছেলে ও ১ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন-গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
শনিবার সকাল ১০টায় নগরী পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকা রোডের বনিক পাড়াস্থ বাসার সামনে তাঁর প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১১টায় নগরীর পাহাড়তলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে। জানাজা শেষে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের নেতৃতে মেট্টোপলিটন পুলিশের একটি চৌকষ দল ড. গাজী সালেহ উদ্দীনকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন। একই সাথে সিএমপি কমিশনারের পক্ষে মরহুমের একমাত্র পুত্র ও সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব সালেহীন তানভীর গাজীর হাতে একটি শোক ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদসহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড.বেনু কুমার দে সহ শিক্ষকবৃন্দ। পরে তাঁর মরদেহ নোয়াখালির সোনাইমুড়ি উপজেলার বদরপুরস্থ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তৃতীয় দফা জানাযা থেকে বাদে আছর তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
প্রধানমন্ত্রীর শোক : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজতত্ত¡ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. গাজী সালেহ উদ্দিনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এক শোক বার্তায় শেখ হাসিনা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
চট্টগ্রামে ৯৩% করোনা রোগীর শরীরে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট
চট্টগ্রামে করোনা রোগীদের ৯৩ শতাংশের নমুনায় মিলেছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
সিভাসু সূত্র জানায়, গত ১ থেকে ১৯ জুলাই মোট ৩০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনার ওপর যৌথভাবে গবেষণা চালায় প্রতিষ্ঠান দুটির গবেষক দল। এর মধ্যে ১৫টি নমুনা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার রোগী থেকে এবং ১৫টি উপজেলা এলাকার রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। নমুনা সংগ্রহ করা রোগীদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। এসব রোগীর বয়স ছিল ২১ থেকে ৭৪ বছর। গবেষণায় ৩০টি নমুনার মধ্যে ২৮টিতেই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এতে চট্টগ্রামের করোনা রোগীদের ৯৩ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা সংক্রমিত হচ্ছে প্রতীয়মান হয়। অবশিষ্ট দুটি নমুনার মধ্যে একটিতে আলফা ভ্যারিয়েন্ট এবং অপরটিতে ‘লাইনেজ-এ’ শনাক্ত হয়েছে।
সিভাসুর উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ‘কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন’ শীর্ষক ধারাবাহিক গবেষণার অংশ হিসেবে এ গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। সিভাসুর প্রফেসর ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, প্রফেসর ড. শারমিন চৌধুরী, ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা, ডা. ত্রিদিব দাশ, ডা. প্রনেশ দত্ত, ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, ডা. তানভীর আহমদ নিজামী, বিসিএসআইআরের গবেষক ড. মো. সেলিম খান ও ড. মোরশেদ হাসান সরকার এ গবেষণায় অংশ নেন।
সিভাসু উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে এর আগে আলফার (ইউ কে ভ্যারিয়েন্ট) ও বিটা (সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট) উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। যদিও আলফা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি এখনো আছে, তবে তার শতকরা হার খুবই কম। এবারের গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল থেকে বুঝা যায়, শহর ও গ্রামাঞ্চলে এখন সম্ভবত সমানভাবেই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, কভিড সংক্রমণের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে আমাদেরও ধারণা ছিল দেশে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। সিভাসু ও বিসিএসআইআরের গবেষণাতেও সেটার প্রমাণ মিলেছে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের এ ধরনটি অত্যন্ত সংক্রমক, যা দ্রুত অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সময়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চট্টগ্রাম নগরী ও নগরীর বাইরে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সী মানুষই এর শিকার।
জেলা সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ৮৮ হাজার ৬৬০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ৮১২ জন মহানগর এলাকায় এবং ২২ হাজার ৮৪৮ জন উপজেলা এলাকায়। এদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছে ১ হাজার ৩৬ জন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ৩ হাজার ৭৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়। এদের মধ্যে ১১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এদিন মারা যায় ১৭ জন। নগরীর বাইরে হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়িতে করোনা আক্রান্তের হার অন্যান্য উপজেলা থেকে বেশি বলে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য থেকে জানা গেছে।
সূত্র- দেশ রূপান্তর
দেশজুড়ে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু
নিউজ মেট্রো ডেস্ক :
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে গণটিকাদান কার্যক্রম। এতে ২৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠী, নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ১২ আগস্ট পর্যন্ত। নির্ধারিত বয়সের নারী-পুরুষরা কেন্দ্রে কেন্দ্রে টিকা নেয়ার জন্য ভিড় করছেন।
এই ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশের ৪ হাজার ৬০০টি ইউনিয়নে, ১ হাজার ৫৪টি পৌরসভায় এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৪৩৩টি ওয়ার্ডে একযোগে টিকা দেয়া হচ্ছে। এতে ৩২ হাজার ৭০৬ জন টিকাদানকর্মী ও ৪৮ হাজার ৪৫৯ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন।
করোনার ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য এরইমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ও কোভিড–১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক স্বাক্ষরিত নির্দেশনা পরিচালক (স্বাস্থ্য), বিভাগীয় কমিটির সদস্য, সিটি করপোরেশন কমিটির সদস্য সচিব, জেলা কমিটির সদস্য সচিব, উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ও সব পৌরসভার মেডিকেল কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়।
শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার সম্প্রসারিত আকারে শনিবার দেশব্যাপী ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৭ আগস্ট ২৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীকে আমরা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এলাকায় ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন শুরু হবে। ৮ ও ৯ আগস্ট ইউনিয়ন ও পৌরসভার বাদ পড়া ওয়ার্ডে এবং ৭ থেকে ৯ আগস্ট সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি চলবে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৮ ও ৯ আগস্ট ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম চালু থাকবে। ১০ থেকে ১২ আগস্ট জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের জনগোষ্ঠীর ৫৫ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোভিড–১৯ ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম পরিচালিত হবে’
টিকাগ্রহণ ও টিকা নেয়ার পর করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এগুলো হলো–
১. আগামী ৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কোভিড–১৯ টিকা দেয়া হবে।
২. সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকায়ও প্রতি ওয়ার্ডে ৭ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত টিকা দেয়া হবে।
৩. যাদের বয়স ২৫ বা তদূর্ধ্ব তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে এসে ভ্যাকসিন গ্রহণ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
৪. প্রথম দুই ঘণ্টা শুধু নারী ও ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে সকল পুরুষকে টিকা দেয়া হবে।
৫. যারা ইতোমধ্যে অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন তাদের নিবন্ধনের সময় উল্লিখিত টিকাকেন্দ্রে এসে টিকা গ্রহণ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
টিকা নেয়ার পরে করণীয়
১. টিকা নেয়ার পর টিকাকেন্দ্রে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
২. টিকা নেয়ার পর যেকোনো রকম শারীরিক অসুবিধা হলে সাথে সাথে টিকাদানকর্মীকে খবর দিন। প্রয়োজনে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
এছাড়া টিকা নেয়ার পরও জরুরি কাজে ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। একে অপর হতে অন্তত ছয় ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সাবান ও পানি দিয়ে ঘন ঘন ২০ সেকেন্ড ধরে দুই হাত ধুতে হবে। হাঁচি–কাশির সময় হাত/রুমাল দিয়ে নাকমুখ ঢেকে নিতে হবে।