Home Blog Page 7

বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় ড. ইউনূস

বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় ড. ইউনূস

নিউজমেট্রো ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে । ২০২৫ সালের জন্য এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম রয়েছে ‘নেতা’ ক্যাটাগরিতে। এই একই তালিকায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া সেইনবোম এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের নাম।

প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পাওয়া অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, ‘ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে গত বছর বাংলাদেশের স্বৈরশাসক প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, একজন সুপরিচিত নেতা, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস দেশকে গণতন্ত্রের দিকে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসেন।’

তিনি বলেন, ‘কয়েক দশক আগে ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন করতে ইউনূস বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। যা কয়েক লাখ মানুষকে নিজস্ব ব্যবসা শুরু, তাদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে এবং তাদের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করেছে। এই ক্ষুদ্র ঋণের সুবিধা নেওয়া ৯৭ শতাংশই নারী।’

এরপর ড. ইউনূসের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ ও তাঁর সঙ্গে কাজ করা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেন, ‘আমি ড. ইউনূসের সঙ্গে প্রথম দেখা করি যখন তিনি তাঁর ক্ষুদ্র ঋণের মতো একই রকম প্রোগ্রাম চালু করতে তৎকালীন গভর্নর বিল ক্লিনটন (সাবেক প্রেসিডেন্ট) এবং আমাকে সহায়তা করতে আরকানসাসে আসেন। এরপর থেকে আমি বিশ্বের যেখানেই গেছি সেখানেই তাঁর কাজের অসাধারণ প্রভাব দেখেছি।’

‘নব্য আওয়ামী লীগ’ বাজারে আনার পরিকল্পনা

‘নব্য আওয়ামী লীগ’ বাজারে আনার পরিকল্পনা

আনন্দবাজার পত্রিকা :

নতুন কৌশল। আওয়ামী লীগ থাকবে, নেতৃত্বে শেখ হাসিনা থাকবেন না। তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নেতারাও বাদ যাবেন। আওয়ামী লীগের পরিচিত কিছু নেতা-নেত্রীকে সামনে রেখে নব্য আওয়ামী লীগ বা তথাকথিত পরিচ্ছন্ন আওয়ামী লীগকে বাজারে আনার একটি পরিকল্পনা বাংলাদেশে বেশ এগিয়েছে। আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব এই প্রয়াসকে ‘প্রতারণা’ ও তাঁদের ‘দলকে ধ্বংস করার চক্রান্ত’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। ভারতের কূটনীতিকদের একাংশও মনে করেন, হাসিনাকে বাদ দিয়ে নব্য আওয়ামী লীগ গঠিত হলে দিল্লির পক্ষে তা সুখকর হবে না। কারণ এই পরিকল্পনায় বাংলাদেশের যে সব আওয়ামী লীগ নেতা-নেত্রীর নাম উঠে আসছে, তাঁদের ভাবমূর্তি আদৌ পরিচ্ছন্ন নয়, তার উপরে পাকিস্তান-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি রয়েছে কয়‌েক জনের। ভারতের এক সাবেক কূটনীতিকের কথায়, “বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে দিল্লির কিছু করণীয় নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিক ভাবে ভারতের বন্ধু ও আস্থাভাজন রাজনৈতিক শক্তি। তার নেতৃত্বও পাকিস্তান-বান্ধবদের হাতে চলে গেলে ভারতের পক্ষে তা বিপর্যয়ের চেয়ে কম কিছু হবে না।”

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের সদ্যগঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপি (জাতীয় নাগরিক দল)-র নেতা হাসনাত আবদুল্লার একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে হইচই হয়েছিল বাংলাদেশে। সেই পোস্টে হাসনাত অভিযোগ করেছিলেন, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ় জ়ামান একান্ত বৈঠকে তাঁদের বলেছিলেন— প্রাক্তন স্পিকার শিরিন শরমিন চৌধুরী, ঢাকার প্রাক্তন মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস, প্রাক্তন সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরীর মতো ‘পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির’ নেতাদের নেতৃত্বে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁদের মেনে নিতে হবে। হাসনাত লেখেন, ‘আমাদের বলা হয়— রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাঁদের দিয়ে করা হবে, তাঁরা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবেন, হাসিনাকে অস্বীকার করবেন এবং তাঁরা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবেন এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবেন।’

আওয়ামী লীগের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলছেন, “হাসনাতের পোস্টের আগেই আমরা এই চক্রান্তের বিষয়টি জানতে পারি। নামগুলিও নতুন নয়। এই ভাবে তারা দেখাতে চায়, নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেও অংশ নিতে দেওয়া হয়েছে। তবে সেটা হবে প্রতারণা। মানুষকে এ ভাবে ভুল বোঝানো যায় না।” এই নেতা বলেন, “২০০৬-এও সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখলের পরে শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে অন্য কিছু নেতাকে নিয়ে একটা আওয়ামী লীগ গঠনের চেষ্টা করেছিল পশ্চিমি শক্তি। তা ব্যর্থ হয়। এ বারেও তাই হবে।” ওই নেতার মতে, ভারতের কংগ্রেসের যেমন গান্ধী পরিবার, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকের কাছেও শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের উপরে অগাধ আস্থা ও ভরসা। রাজনীতিতে দুই পরিবারের ত্যাগ ও সাফল্য কম নয়। রাহুল গান্ধী যেমন ঠাকুমা ও বাবাকে হারিয়েছেন, শেখ হাসিনার বাবা-মা, ভাই-সহ গোটা পরিবার খুন হয়েছে। ওই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “চক্রান্তকারীরাও জানে, হাসিনাহীন আওয়ামী লীগ টিকবে না।আদতে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করাই তাদের লক্ষ্য।”

কলকাতায় আত্মগোপনে থাকা এক আওয়ামী লীগ নেতা জানাচ্ছেন, আপাতত এই ‘রিফাইন্ড’ চক্রান্তই তাঁদের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, হাসিনার বিরুদ্ধে তোপ দাগলে তাঁদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেওয়া হবে। এলাকায় ফিরে নির্বাচনে অংশ নিতেও দেওয়া হবে। অন্যথায় তাঁদের ভবিষ্যৎ হবে অন্ধকার। কয়েক জন বিএনপি নেতা এবং সেনাদের বশংবদ ব্যবসায়ী ফোন করে এই প্রস্তাব দিচ্ছেন বলে তিনি জানান। হাসিনা-ঘনিষ্ঠ এই নেতা জানাচ্ছেন, কলকাতায় আশ্রয় নেওয়া কিছু নেতাও এই দিকে ঝুঁকছেন বলে তাঁরা খবর পেয়েছেন। এঁরা অন্যদেরও টানতে চেষ্টা করছেন। ওই নেতা বলেন, “যাঁদের ‘ক্লিন’ বলা হচ্ছে, তাঁদের কেউই পরিচ্ছন্ন নন। এঁদের অনেকে চিন বা পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা করেন। সে সব বাঁচাতেই দলের বিরুদ্ধে চক্রান্তে রাজি হয়েছেন।”

কী ভাবে এই চক্রান্তের মোকাবিলা করছে আওয়ামী লীগ? দলের ওই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জানাচ্ছেন, জেলায় জেলায় ভার্চুয়াল মিটিং করছেন নেতৃত্ব। সেই মিটিংয়ে শেখ হাসিনা নিজে যুক্ত হচ্ছেন। ঘণ্টা কয়েক ধরে তিনি কর্মীদের কথা শুনছেন। তাঁদের বলছেন, “এদের দিন ফুরিয়ে আসছে। আমি যখন বেঁচে রয়েছি, শীঘ্রই ফিরব। কর্মীদের উপরে হওয়া প্রতিটি নির্যাতনের বিচার করব।” ৬৪টি জেলার মধ্যে ২৩টি জেলার কর্মীদের সঙ্গে এই বৈঠক শেষ হয়েছে। হাসিনা বলছেন, “আমি দেশ ছাড়তে চাইনি। ইস্তফাও দিইনি। আমাকে জোর করে বিমানে তুলে দেশছাড়া করা হয়েছে। চক্রান্ত করে আমার সরকার ফেলা হয়েছে। এর শেষ দেখে ছাড়ব।”

 

শিরীতলায় চলবে নববর্ষের অনুষ্ঠান, ডিসি হিলে বাতিল

শিরীতলায় চলবে নববর্ষের  অনুষ্ঠান, ডিসি হিলে বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মঞ্চ ভাংচুরের ঘটনার পর চট্টগ্রামে ডিসি হিলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান বাতিল করা হলেও সিআরবির শিরীষতলায় নববর্ষ উদযাপন পরিষদের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলবে। নববর্ষ উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ফারুক তাহের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে সোমবার নগরীর ডিসি হিলে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের কর্মসূচী ছিল। প্রায় ৫০টি সংগঠন অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার জন্য তালিকাভূক্ত হয়। এর মধ্যে রোববার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে ,  ‘স্বৈরাচারের দোসরেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ শ্লোগান দিয়ে ৪০-৫০ জন লোক অতর্কিতে হামলা চালিয়ে মঞ্চ ভাংচুর করে এবং ব্যানার ছিড়ে ফেলে।

সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব সুচরিত দাশ খোকন জানান, সোমবারের অনুষ্ঠানের জন্য আমরা যখন মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ শেষ করে ফিরে যাচ্ছিলাম তখন হঠাৎ একদল লোক এসে সেখানে হামলা চালায়। হামলাকারী আমার ব্যানার ছিলে ফেলে এবং মঞ্চ ভাংচুর করে। এ ঘটনায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের জন্য সংগঠনগুলো নিরাপত্তাহীনতার কারণে আসতে আগ্রহী হচ্ছেনা। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতা ও প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে আমরা পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করেছি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ২০টি সংগঠনকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যায়িত করে তাদের ডিসি হিলের অনুষ্ঠানে না রাখার নির্দেশনা দিয়ে রোববার বিকেলে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের কাছে তালিকায় পাঠানো হয় জেলা প্রশাসন থেকে। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে আয়োজকরা। এর মধ্যে সন্ধ্যায় মঞ্চে হামলার ঘটনার পর তারা  অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে, সোমবার সকাল সাতটা থেকে সিআরবি শিরীষতলায় নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানানোর সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে নববর্ষ উদযাপন পরিষদ। পরিষদের সদস্য সচিব ফারুক তাহের বলেন, আমাদের দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে রোববার বিকেলে বিভিন্ন সংগঠনের অংশ গ্রহণে বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল ৭টা থেকে যথারীতি বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলবে। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তাঁরা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছে।

ঢাকায় ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচীতে লাখো জনতার জমায়েত

ঢাকায় ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচীতে লাখো জনতার জমায়েত

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি গণহত্যার প্রতিবাদে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে লাখো মানুষের গণজমায়েতের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ। ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ’ নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে এবং দখলদার ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

দুপুর ৩টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি। গাজাবাসীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির দিয়ে গণজমায়েত সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল মালেক।

এদিন ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে ফিলিস্তিনের জন্য এক মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও শিল্পী, কবি, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় ব্যক্তিরাও যোগ দিয়েছেন কর্মসূচিতে। দল-মত নির্বিশেষে এক কাতারে সবাই এ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে ইসরাইলের গণহত্যা বন্ধের দাবি জানান।

গণজমায়েতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আমাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তা-মত পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু স্বাধীন ফিলিস্তিন সেখানকার মানুষের অধিকার। গাজার মানুষের ওপর জুলুম বন্ধের দাবিতে আমরা প্রত্যেক বাংলাদেশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি।

মিজানুর রহমান আজহারি স্লোগানে স্লোগানে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, আজকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনতার মহাসমুদ্রে উপস্থিত হয়ে আমরা বুঝতে পেরেছি এই জনসমুদ্র ফিলিস্তিন ও আল-আকসার প্রতি বাংলাদেশের জনগণের সম্মিলিত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক ভাবে বাংলাদেশ ফিলিস্তিন থেকে অনেক দূরে হলেও সকলের হৃদয়ে বাস করছে একেকটি ফিলিস্তিন।

ঘোষণাপত্রে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ৫ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো : জায়নবাদী ইজরাইলের গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে নিশ্চিত করতে হবে, যুদ্ধবিরতি নয়-গণহত্যা বন্ধে কার্যকর ও সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী ভূমি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে, পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত করতে হবে।

ঘোষণাপত্রে মুসলিম বিশ্বের সরকার ও ওআইসি’র মতো মুসলিম উম্মাহর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর প্রতি ৫ দফা দাবির কথা উল্লেখ করা হয়। দাবিগুলো হলো ইজরাইলের সঙ্গে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সকল সম্পর্ক অবিলম্বে ছিন্ন করতে হবে, জায়নবাদী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে, গাজার মজলুম জনগণের পাশে চিকিৎসা, খাদ্য, আবাসন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা-সহ সর্বাত্মক সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াতে হবে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইজরাইলকে এক ঘরে করতে সক্রিয় কূটনৈতিক অভিযান শুরু করতে হবে এবং জায়নবাদের দোসর ভারতের হিন্দুত্ববাদী শাসনের অধীনে মুসলিমদের অধিকার হরণ, বিশেষ করে ওয়াক্ফ আইনে হস্তক্ষেপের মতো রাষ্ট্রীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ওআইসি ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে দৃঢ় প্রতিবাদ ও কার্যকর কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে।

ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের সরকারের প্রতি ৬টি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ শর্ত পুনর্বহাল এবং ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে, ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সকল চুক্তি বাতিল করতে হবে, গাজায় রাষ্ট্রীয়ভাবে ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠাতে হবে, জায়নবাদী কোম্পানির পণ্য বর্জনে সরকারি নির্দেশনা দিতে হবে, ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং পাঠ্যবই ও নীতিতে আল-আকসা ও ফিলিস্তিনের সংগ্রামী ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এ সময় ‘মার্চ ফর গাজা’ সমাবেশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আব্দুস সালাম আজাদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি জেনারেল রেজাউল করিম ও দক্ষিণের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন উপস্থিত ছিলেন।

-বাসস

নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন ও দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবি

12
নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন ও দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দ্রুত নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন ও দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)। শনিবার (১২ এপ্রিল) বিএফইউজে নির্বাহী পরিষদের সভায় এ দাবি জানানো হয়।

ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় খায়রুল বাশার, একেএম মহসিন, বাছির জামাল, শহীদুল ইসলাম, এরফানুল হক নাহিদ, আবু বকর, শাহীন হাসনাত, মোদাব্বের হোসেন, অপর্ণা রায়, খুরশীদ আলম, মহামিদুল হক মানিক, আবু হানিফ, দেলোয়ার হোসেন, সাইফুল ইসলাম, কাজী বিপ্লব হাসান, সাখাওয়াত হোসেন মানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন বন্ধ; সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিসহ সকল সাংবাদিক খুনের বিচার; সাংবাদিক সুরক্ষা আইন; ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বন্ধ মিডিয়া খুলে দেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিরোধী সব কালাকানুন বাতিল; গণমাধ্যমের ওপর থেকে সব ধরনের চাপ বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ; সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

 

১৫ সাতারুর কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি

১৫ সাতারুর কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া-মগনামার সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারের চ্যানেল পাড়ি দিলেন ১৫ জনের একটি সাঁতারু দল। শনিবার (১২ এপ্রিল) তাঁরা এই চ্যানেল পাড়ি দেন। বাংলাদেশ ওপেন ওয়াটার সুইমিং এই আয়োজন করে।

সাতারে অংশগ্রহণকারীরা হলেন- চাঁদপুরের মো. মাহমুদুল হাসান, বগুড়ার জাহেদুল ইসলাম জাহিদ, রাজশাহীর এস এম শাহরিয়ার মাহমুদ, ঢাকার শাহনেওয়াজ বাবু, কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মো. আবদুল মতিন, হবিগঞ্জের আলী রওনক সৌরভ, পাবনার জামিল হাসান, ঢাকার শহিদুল্লাহ প্রান্তিক, নেত্রকোনার হাবিবুর রহমান, বরগুনার সাইফুল ইসলাম রাসেল, শরিয়তপুরের জিহাদ হোসাইন, বরিশালের মো. শরিফ ফয়সাল, ঢাকার নাসির আহমের সৌরভ, দিনাজপুরের শাখাওয়াত হোসাইন সাকিব ও চট্টগ্রামের মো. ফয়সাল জিয়া।

শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে দেশের কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাটের উত্তর পাশ থেকে এই সাঁতার অভিযান শুরু করেন। সাতারুদের নিরাপত্তা ও উদ্ধার কাজের জন্য  ৭টি ইঞ্জিন চালিত বোট প্রস্তুত রাখা হয়।

প্রতিযোগিতায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিটে চ্যানেলের ওপারের কুতুবদিয়া জেটি ঘাঁটে পৌঁছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইফুল ইসলাম রাসেল। তার বাড়ি বরগুনা জেলায়।  ২০২১ সালে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন ‘বাংলা চ্যানেল’ পাড়ি দিয়ে প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিলেন তিনি।

 

ডিসি হিল আর শিরীষতলায় জমবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান

ডিসি হিল আর শিরীষতলায় জমবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে চলছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রস্তুতি। ডিসি হিল ও সিআরবি শিরীষতলা দুই জায়গাতেই বর্ষবরনের আয়োজন হবে এবার। ডিসি হিলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ এবং শিরীষতলায় থাকবে নববর্ষ উদযাপন পরিষদের নানা অনুষ্ঠান।
এবার ডিসি হিলে নববর্ষের অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত সেখানে একদিনের অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আহ্বায়ক অলক ঘোষ পিন্টু ও সদস্য সচিব সুচরিত দাশ খোকনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ সেখানে সকাল সাতটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেবে। নৃত্য, গান, আবৃত্তি, নাটক, কৌতুকসহ নানা অনুষ্ঠান থাকবে তাদের আয়োজনে।
অন্যদিকে, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক ও উচ্চারক আবৃত্তিকুঞ্জের সভাপতি ফারুক তাহেরের নেতৃত্বে নববর্ষ উদযাপন পরিষদ বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের দুই দিনের অনুষ্ঠান করবে সিআরবি শিরীষতলায়। রবিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১৪৩১ সালকে বিদায় জানানো হবে সেখানে। আর সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। শিরীষতলায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে আলোচনা অনুষ্ঠান, আবৃত্তি, গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি ছাড়াও এবার ব্যতিক্রম হিসেবে থাকবে কাবাডি প্রতিযোগিতা।
বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ফারুক তাহের জানান, বাংলা নববর্ষ আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। প্রতি বছরের মতো এবারও এ উপলক্ষ্যে আমরা শিরীষতলায় নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছি। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এসব কর্মসূচীতে অংশ নেবে। থাকবে স্বনামধন্য শিল্পীদের নানা পরিবেশনা। ইতিমধ্যে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
এদিকে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে এবারও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে সকালে বের করা হবে শোভাযাত্রা। এজন্যে চারুকলার শিক্ষার্থীরা তৈরি করছে রংবেরঙের নানা প্রতিকৃতি। নগরীর বাদশা মিয়া রোডস্থ চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে বের হলে শোভাযাত্রাটি আলমাস মোড়, কাজির দেউড়ি, জামালখান প্রেস ক্লাব হয়ে আবারও একই রুটে চারুকলায় গিয়ে শেষ হবে।

রহস্যজনক আগুনে পুড়লো ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি

রহস্যজনক আগুনে পুড়লো ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নববর্ষের শোভাযাত্রা উদযাপনের জন্য বানানো ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি ও শান্তির পায়রা মোটিফ রহস্যজনক আগুনে পুড়ে গেছে। শনিবার ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদে এ আগুনের ঘটনা ঘটে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ভোর পৌনে পাঁচটা থেকে পাঁচটার মধ্যে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওইসময় দায়িত্বরত মোবাইল টিমের সদস্যরা ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য গিয়েছিলেন।
জুলাই- আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সামনে রেখে এবার নববর্ষের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ বছরের প্রধান মোটিফ ছিল ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি।’ এটির উচ্চতা ২০ ফুট। এই মোটিফে বাঁশ ও বেত দিয়ে দাঁতাল মুখের এক নারীর মুখাবয়ব বানানো হয়। মাথায় খাঁড়া চারটি শিং, হাঁ করা মুখ, বিশালাকৃতির নাক ও ভয়ার্ত দুটি চোখ।
জানা যায়, অনুষদের যেখানে মোটিফ তৈরির কাজ চলছিল সেখানে আগুনে দানবীয় ফ্যাসিবাদী মুখাকৃতির মোটিফটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে। শান্তির পায়রা মোটিফটিও আংশিক পুড়ে গেছে।

“রেলের এক টাকা আয় করতে আড়াই টাকা খরচ হয়”

“রেলের এক টাকা আয় করতে আড়াই টাকা খরচ হয়”

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রেলের এক টাকা আয় করতে আড়াই টাকা খরচ হয় উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, এভাবে হলে চলবে না। এটি দুই টাকার নিচে নিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, রেলসেবাকে আরো উন্নত করতে আমরা বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। রেল ওর্য়াকশপের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এগুলোকে রিপেয়ার, মেইন্টেন্যান্স এবং এসেম্বলি ওর্য়াকশপে পরিণত করা হবে।
শুক্রবার নগরীর সিআরবিতে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং কালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, রেল সচিব মো: ফাহিমুল ইসলাম, বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীনসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা বলেন, দেশের সব রেল হাসপাতালকে রেলওয়ে হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে পরিণত করবো। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং সর্বাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও রোগীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে মানুষ চিকিৎসার জন্য আশ^স্ত বোধ করে। এখানে রেলের কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও চিকিৎসা সেবা নিতে পারবে। এতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপর চাপ কমবে।
গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের লোডশেডিং বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, অর্ন্তবর্তী সরকার গ্রীষ্ম মৌসুমে যাতে লোডশেডিং কম হয় সেজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। জনগণকে বিদ্যুতের অপচয় রোধ করতে হবে। এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি রাখতে হবে। তারপরও যদি লোডশেডিং হয় সেটা প্রথমে ঢাকায় হবে, পরে দেশের অন্য জায়গায় হবে। আগের মত শুধু গ্রামে হবে না।
ফাওজুল কবীর খান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প কাজের অগ্রগতি হয়েছে। তবে একটা বিষয় দেখে খারাপ লাগছে, খালগুলো পরিষ্কার করার কিছুদিনের মধ্যে মানুষ আবারো ময়লা ফেলে ভরাট করে ফেলছে। আমি বিভাগীয় কমিশনারকে বলেছি স্থানীয় মানুষদের সাথে নিয়ে তাদেরকে এসব ব্যাপারে সচেতন করার পাশাপাশি কাজের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাহলে জলাবদ্ধতা থেকে চট্টগ্রামের মানুষের মুক্তি মিলবে।

‘চুরি হওয়ার পর বুদ্ধি বাড়িয়ে লাভ নাই’

‘চুরি হওয়ার পর বুদ্ধি বাড়িয়ে লাভ নাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রম এবং সমসাময়িক ব্যাংকিং নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ‘চুরি হওয়ার পর বুদ্ধি বাড়িয়ে লাভ নাই। হয়ে গেছে যা, তা হয়ে গেছে। কিন্তু ভবিষ্যতে এমন কোনো কিছু যেন না হয়, তা আমরা ঠিক করতে আসছি। এজন্য আমরা প্রয়োজনীয় রেগুলেটারি সংশোধন করতে চাই।’

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হয়।

পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রথমে এস্টেটগুলো (সম্পত্তি) ফ্রিজ করার চেষ্টা করব। আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমরা কথা বলছি, চিঠি দিচ্ছি৷ ল ফার্মগুলোর সঙ্গে কথা বলছি, শিগগিরই তাঁদের হায়ার (নিয়োগ) করা হবে। এস্টেট ট্রেসিং ফার্মের সঙ্গে কথা বলছি, যথেষ্ট সহযোগিতাও পাচ্ছি। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এস্টেট ফ্রিজ করা হবে। এটিই হবে প্রাথমিক সফলতা।’

গভর্নর আরও বলেন, ‘পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ একেবারেই নতুন। এটি দেশের আইনে নয়, বিদেশের আইনের সঙ্গে সংযোগ করে করতে হবে। কোথায় কী আছে সে তথ্য আগে আনতে হবে। এস্টেট ফ্রিজ করার পর আদালতের মাধ্যেম বাকি প্রক্রিয়া হবে।’

দেশে আগে মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে দেখানো হত জানিয়ে আহসান এইচ মনসুর বলেন, খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ৯-১০ শতাংশ দেখানো হত। কিন্তু প্রকৃতভাবে দেখা গেছে ১৩-১৪ শতাংশ। গত মাসে সেটি দেখা গেছে ৮-৯ শতাংশে আছে। সামগ্রিকভাবে মুদ্রাস্ফীতি স্বস্তির দিকেই আছে৷ আগামী বছর সেটিকে ৫ শতাংশ বা তার নিচে নামিয়ে আনতে পারব বলে ধারণা করছি।

কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে এমন প্রশ্নে গভর্নর বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমার ধারণা আড়াই থেকে তিন লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামে বড় শিল্পগ্রুপ ও তাঁর পরবারও আছে। বেক্সিমকোর পাচার হওয়ার অর্থ ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো। এগুলো শুধু বড় গ্রুপ। ছোটগুলোকে আপাতত দেখছি না।’

আদালতের মাধ্যেম না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে টাকা ফেরানোর চেষ্টা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সব বিষয় আদালতের মাধ্যেম নয়, আউট অব কোর্ট সেটেলমেন্ট বলে একটা কথা আছে। তার আগে সব তথ্য নিতে হবে। যখন সব তথ্য থাকবে তখন তারা নেগোসিয়েশনে আসবে। নেগোসিয়শনে গেলে সব তথ্য নিয়েই যাওয়া লাগবে। নাহলে তো আমরা ঠকে যাব।’

অর্থ পাচারে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেকে জড়িত আছে এমন প্রশ্নে গভর্নর বলেন, ‘অমূলক তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে চাকরিচ্যুত করার পক্ষে আমি নই। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকলে আমরা ব্যবস্থা নেব। দুদক বা রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা যদি তথ্য প্রমাণ দেয় যে কেউ জড়িত আছে আমরা ব্যবস্থা নেব। যাদের বিরুদ্ধে তথ্য আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. জোবাইর হোসেনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের পরিচালক মো. আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মো. সালাহ উদ্দীন, মো. আরিফুজ্জামন, মো. আশিকুর রহমান, স্বরুপ কুমার চৌধুরী।